আব্দুম মুনিব, কুষ্টিয়া ঃ ইভটিজিং, মাদক সেবন ও খুনসহ নানা অপরাধে কুষ্টিয়ার কিশোরদের জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রুপ করে কিশোররা এসব অপরাধে যুক্ত হচ্ছে। শহরের প্রায় প্রতিটি এলাকায় অঞ্চল ভিত্তিক কিশোর গ্যাং গড়ে উঠেছে। নানা অপরাধের জন্ম দিচ্ছে এই গ্যাংগুলো। যার সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার বিকালে শহরের থানাপাড়া পুলিশ ক্লাব সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠের পাশে। দুই কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দের কারনেই খুন হয়েছে কিশোর তরিকুল ইসলাম (১৭)। ওই কিশোরকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে মিনারুল নামের উপর এক কিশোর। নিহত তরিকুল শহরের আমলাপাড়ার কামুর ছেলে এবং একটি দোকানের কর্মচারী ছিলো।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে শহরের থানাপাড়া ও আমলাপাড়া এলাকার দুইটি কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে দ্বন্দ চলে আসছিল। দ্বন্দের জেরে কয়েকবার হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। কয়েকদিন আগে চর থানাপাড়ার সালামের ছেলে মিনারুলের ওপর হামলা করে তরিকুল ও তার বন্ধুরা। এনিয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় তরিকুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে মিনারুল। ওই হামলার প্রতিশোধ নিতে শুক্রবার বিকালে থানাপাড়া পুলিশ ক্লাব সংলগ্ন জৈনক আয়নালের দোকানের সামনে তরিকুলের ওপর হামলা চালায় মিনারুল ও তার বন্ধুরা। এসময় দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির এক পর্যায়ে মিনারুল ছুরি বের করে তরিকুলের পেটে উপর্যপুরি আঘাত করে। গুরুত্বর জখম অবস্থায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে কিশোর তরিকুল মৃত্যু হয়।
কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা বলেন, পূর্ব দ্বন্দের জের ধরে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে এমনটিই ধারনা করা হচ্ছে । ঘটনার পর থেকে হামলাকারী পলাতক রয়েছে। পুলিশ আসামী ধরতে অভিযান চালাচ্ছে।
এদিকে কুষ্টিয়া শহরের ইতিপূর্বে কিশোর গ্যাং এর আধিপত্য নিয়ে হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। মুলত মাদকাসক্ত থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং কালচার নামে কিশোর অপরাধ গ্যাং গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন সময় তারা তাদের শক্তি জানান দিতে এবং সাধারন মানুষের দৃষ্টি ফেরাতে ইভটিজিং, একসাথে তীব্র গতিতে মোটরসাইকেল চালানো, জোরে হর্ণ বাজানোসহ নানান কৌশল করে।
কুষ্টিয়ার সুশিল সমাজ মনে করি, এসব ঘটনায় শক্ত পদক্ষেপ না নেয়া হলে মুক্তি মিলবে না। একই ঘটনা ঘটতে থাকবে বার বার। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘমেয়াদী ও কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া এ থেকে মুক্তি সম্ভব না
আব্দুম মুনিব
কুষ্টিয়া


