নিজস্ব প্রতিবেদক
‘এপিএস নিউজ২৪’ অনলাইনে প্রকাশিত সংবাদ পড়েই বিধবা বৃদ্ধা নিলুফা বেগমের (৭০) বাড়িতে লোক পাঠিয়ে তাকে খাদ্য সামগ্রী ও অর্থ সহায়তা দিলেন বরিশাল জেলা প্রশাসক এস.এম অজিয়র রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার ২ জুলাই জেলা প্রশাসকের পক্ষে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান ত্রাণ সামগ্রী এবং নগদ ১০ হাজার টাকা পৌঁছে দেন। এরআগে গত ২৯ জুন “বরিশালে ঝুপরি ঘরে দিন কাটছে অসহায় নিলুফার, ভাগ্যে জোটেনি কোনো ভাতা” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি জেলা প্রশাসকের নজরে আসলে তিন দিনের মাথায় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন সরকারের ওই মুখপাত্র। জানা গেছে, করোনার প্রার্দুভাবে অসহায় হয়ে পরা বরিশাল সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের বাসিন্দা নিলুফা বেগমের পরিবারের কেউ নেই। স্বজন না থাকায় পেটের তাড়নায় ভিক্ষা করে চলতো তার জীবন। কিন্তু করোনা এসে ভিক্ষার দিনও কেড়ে নেন। কর্মহীন অবস্থায় অভূক্ত থাকতে শুরু করেন। প্রকাশিত সংবাদে তার এবং তার এলাকার কর্মহীন দরিদ্র মানুষের খাদ্য সহায়তার আকুতি তুলে ধরা হয়। জেলা প্রশাসকের পক্ষে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান ত্রাণ সামগ্রী এবং নগদ ১০ হাজার টাকা পৌঁছে দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম আবদুল আজিজ, প্রবেশন অফিসার সাজ্জাদ পারভেজ, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার শ্যামল সেন গুপ্ত, ইউপি সদস্য মামুন সন্নামত প্রমূখ। ত্রাণ পেয়ে বৃদ্ধা নিলুফা বেগম বলেন, ‘আমি একজন বুড়া মানু। কোন হানে যাইতে পারি না। ঘরে ভিতর পইরা রইছি। মোর কেউ নাই। সাহায্য পাইয়া আত্মাটা খুব শান্তি পাইছে। যে পাডাইছে তারে য্যান আল্লাহ শান্তি দেয়, বরকত দেয়।’ জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক এস.এম অজিয়র রহমান বলেন, ‘এপিএস নিউজ২৪’ অনলাইন পেজে বৃদ্ধা নিলুফা বেগমকে নিয়ে লেখা সংবাদটি আমার নজরে আসে। সঙ্গে সঙ্গেই আমি সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসানকে কিছু ত্রাণসামগ্রী ও অর্থ সহায়তা বৃদ্ধার বাড়িতে পাঠাই। আমি শুনেছি যে ত্রাণ পেয়ে তিনি খুব খুশি হয়েছেন। তিনি আরো বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের ওয়েব সাইটে, ফেসবুক পেজে এবং মেসেনজারে আহ্বান জানানো আছে, কারো যদি এমন কোনো সমস্যা থাকে বা যোগাযোগ করে তাহলে তাদেরকে আমরা ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছি। ত্রাণের জন্য যারা আমাকে মুঠোফোনে খুদে বার্তা দিচ্ছেন তাদেরকেও খুঁজে বের করে ত্রাণ দিচ্ছি। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বিভিন্ন সতর্কতামূলক সরকারি বিধি-নিষেধ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি আমরা কর্মহীন হয়ে পড়া দরিদ্র মানুষদের মাঝে সরকারি খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রেখেছি।


