ঘটনাটি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। রাঙ্গুনিয়ার মেয়ে ফারিয়ার সঙ্গে দুই মাস আগে বিয়ে হয় ইমরাজের। এরই মাঝে অন্য একটি ছেলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ায় ফারিয়া। হাতেনাতে ধরার পর ফরিয়ার মাকে বিষয়টি জানানো হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উল্টো ইমরাজের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন তারা। ঘরে উঠিয়ে নেওয়ার আগেই ডিভোর্সে জন্য চাপ দিতে থাকেন মেয়ে এবং মেয়ের মা! একপর্যায়ে বিয়ের সময় ধার্য ৯ লাখ টাকা দেনমোহর দাবি করেন ফারিয়ার পরিবার। বারবার মানসিকভাবে চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্নহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন ইমরাজ নামে ওই তরুণ।
এদিকে মৃত্যুর আগে ইমরাজ-ফারিয়ার কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ইমরাজ ফারিয়াকে ফোন করে বলেন, একবার আপনাকে নাম ধরে ডাকতে চাই অনুমতি দেবেন? এসময় ফারিয়া চুপ থাকেন। কিছুক্ষণ পর ফারিয়ার সাফ কথা আপনার সঙ্গে আমি ঘর রাখতে চাই না। আমার পরিবার (কাবিনের টাকা পরিশোধ করে দেয়া) যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাই করেন। ইমরাজ জানান, কাবিনের ৯ লাখ টাকা পরিশোধ করার মত তার এই মুহূর্তে কোন সামর্থ নেই। এর জন্য চাপ দিলে আত্মহত্যা করা ছাড়া তার আর কোন পথ থাকবে না। এনিয়ে বারবার আকুতি-মিনতি করলেও গলেনি ফারিয়ার মন।
জানা গেছে, ৯ লাখ টাকা কাবিনে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার মেয়ে ফারিয়াকে বিয়ে করেন ইমরাজ। আকদ করা নতুন বউকে এখনো ঘরে তোলা হয়নি। এরই মাঝে যুবক বুঝতে পারেন বউ অন্য জনের সাথে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত। নিশ্চিত হওয়ার পর স্বামী স্ত্রীর সাথে ঝগড়া-বিবাদ মনোমালিন্য অবশেষে চিরকুট লিখে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন যুবক ইমরাজ।
ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের আলমদা তালুকদার বাড়িতে গত ৮ ডিসেম্বর রাতে ইমরাজ তার ঘরের পেছনে গাছের সাথে আত্মহত্যার জন্য ফাঁস নেন। এসময় পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তার অবস্থার অবনতি দেখে দ্রুত চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করে। ১৫ ডিসেম্বর রাতে মারা যান ইমরাজ। তার মৃত্যুর পর একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে ফারিয়াকে ফোন করে সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য ইমরাজকে আকুতি-মিনতি করতে দেখা গেছে।
ইমরাজের পরিবারের সদস্যরা জানান, আকদ পর থেকে ফারিয়া ও তার পরিবারের লোকজন ইমরাজ এর সাথে অস্বাভাবিক আচরণ করে। মানসিক নির্যাতন থেকে শুরু করে সব সময় টাকা পয়সা নিয়ে যাওয়ার জন্য তারা চাপ সৃষ্টি করে। হঠাৎ একদিন ইমরাজ তাদের বাসায় বেড়াতে গেলে ফারিয়া ইমরাজকে সাথে রেখে অন্য ছেলের সাথে কথা বলার সময় হাতেনাতে ধরে ফেলে। ইমরাজ বিষয়টি ফারিয়ার (স্ত্রী) মাকে জানান। এরপর থেকেই শুরু হয় স্বামী স্ত্রীর ঝগড়া-ঝাটি। একপর্যায়ে তাদের সম্পর্কে টানাপড়েন দেখা দেয়।
ফারিয়ার পরিবার তাদের কাবিনের টাকা দাবি করে। কাবিনের টাকা পরিশোধ করতে অক্ষম ছেলে। শেষ পর্যন্ত মানসিক যন্ত্রণায় আত্মহত্যা করেন ইমরাজ।


