তালহা জাহিদ, বরিশালঃ- বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনার (এএসপি) মোহাম্মদ আনিসুল করিম শিপন হত্যাকান্ডে জড়িতদের বিচার চেয়েছেন তার সহকর্মীরা। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সংক্ষুব্ধ শোকাহত এবং মর্মাহত বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা। বিএমপির মাঠপর্যায় থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও আনিসুলকে সম্ভাবনাময় সৎ-মেধাবী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইতিমধ্যে মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে এ হত্যাকাণ্ডের আইনি দিক, পরিবারের রুটি-রুজির ব্যবস্থাসহ সার্বিক বিষয় দেখভালের কথা জানানো হয়েছে।
সিনিয়র কর্মকর্তার অনাকাঙ্খিত মৃত্যুতে মঙ্গলবার বরিশাল ট্রাফিক পুলিশে এক শোকাবহ পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। সর্বত্র আনিসুল করিমের মৃত্যু নিয়েই আলোচনা চলে। বলতে গেলে গোটা মেট্রোপলিটন পুলিশই মেধাবী একজন কর্মকর্তাকে হারিয়ে শোকাহত-ব্যথিত।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) মোহাম্মদ জাকির হোসেন মজুমদার বলেন, সহকর্মী আনিসুল করিম একজন মেধাবী ও সৎ কর্মকর্তা ছিলেন। মাত্র দেড় মাস এখানে কর্মরত থেকে কর্মঠ অফিসার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ তাঁর এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না। তার বিয়োগান্তের ঘটনাটি একটি হত্যাকাণ্ড। বিএমপির সব সদস্য এর বিচার ও অপরাধীদের শাস্তি চান। বাংলাদেশ পুলিশ একজন সম্ভাবনাময় অফিসারকে অকালে হারাল। কর্মস্থলে সবার সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক ছিল। তিনি মানসিক অস্থিরতার মধ্যে ছিলেন।
জাকির হোসেন মজুমদার বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের আইনগত পদক্ষেপ কী হতে পারে, আনিসুলের পরিবারকে সাপোর্ট দেওয়াসহ সব ধরনের বিষয়ে মনিটরিং করছে বিএমপি। তার তিন বছরের একটি ছেলে রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে আনিসুলের স্ত্রীকে চাকরির ব্যবস্থা করার। বিএমপিও এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে। সবাই সহকর্মী আনিসুল করিমের এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়েছেন।
মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক আবদুর রহিম বলেন, সহকারী কমিশনার আনিসুল তাদের সঙ্গে প্রায় দেড় মাস কর্মরত ছিলেন। তাকে মাঠপর্যায়ে অত্যন্ত দক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে দেখেছেন। ৩১তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন তিনি।
আবদুর রহিম বলেন, ‘স্যার কয়েক দিন ধরে মানসিক অস্থিরতায় ছিলেন। বেশি কথা বলতেন। ৮ নভেম্বর তাকে তার বাবা ঢাকা নিয়ে যান। পরদিনই তার মৃত্যুর খবর আসে। এটি মানতে পারছে না মেট্রোপলিটিন পুলিশের সদস্যরা।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান বলেন- আনিসুল করিমের এমন মৃত্যুতে আমরা সবাই মর্মাহত এবং বিস্মিত। আমাদের প্রিয় এই সহকর্মী একজন মেধাবী কর্মকর্তা ছিলেন। এখানে যে কদিন ছিলেন, সততা নিয়ে কাজ করেছেন। কিন্তু এমনভাবে চলে যাবেন, সে জন্য প্রস্তুত ছিলাম না।
শাহাবুদ্দিন খান বলেন- এটি পুলিশ বিভাগের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। বিএমপি তার পরিবারের পাশে থেকে যা যা দরকার, সে দায়িত্ব পালন করবে। আমরা এ হত্যাকান্ডে সুষ্ঠু ও ন্যায়সংগত বিচার চাই। যারা জড়িত তাদের শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি রাখছি।


