কুমারখালীর পান্টিতে দম্পতির অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে চাঁদাবাজির অভিযোগ
বিশেষ প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের এক দম্পতির অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিওকে জিম্মি করে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায় পান্টি ইউনিয়নের নর্থ কয়া গ্রামের সুমি খাতুন (ছদ্মনাম) (৩৫) ওই মেয়ে তিন থেকে চার মাস আগে তার বিবাহিত স্বামীর সাথে নিজ বাড়িতেই অন্তরঙ্গ সময় কাটানোর সময়কার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইমোতে ভাইরাল হয়।
এমন ভিডিও ভাইরাল হওয়ার সাথে সাথে এলাকার বিভিন্ন মানুষের মোবাইল ফোনে এটি চলে যায়।
ওই মেয়ের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি এবং আমার স্বামীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও একটি মহল জিম্মি করে আমার সাথে প্রথমে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন পরবর্তীতে আমি রাজি না হলে আমার কাছ থেকে ৫০০০০ হাজার টাকা নেয় এবং এই ভিডিও তারা ডিলেট করে দিবে বলে কথা দেয়। কিন্তু পরবর্তীতে কয়েক মাস যাবার পরই তারা আমার কাছে আবার টাকা দাবি করে আমি টাকা দিতে রাজি না হলে আমার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও আমার আত্মীয় স্বজনসহ এলাকার অনেকের কাছে ইমোসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পাঠায়।
ভুক্তভোগী ওই মেয়ের কাছ থেকে জানা যায় সজল (২২), পিতা মোনব্বার আলী, শুকুর (২৩), পিতা-আরফ আলী,আলীম (৩৫), সেলিম (২৫), উভয় পিতা মৃত জালাল, আনিস (৪৫), পিতা রহমত, রনি (২২), পিতা-সিদ্দিক, সবুজ (৩০), পিতা রবিউল, রাকিব (১৮), পিতা কবির, মিজানুর (৪০) , পিতা-মৃত হাকিম, সর্ব সাং-পান্টি এরা সকলে একত্রিত হয়ে আমার স্বামী-স্ত্রীর সহবাস অজ্ঞাতে অন্তরঙ্গ মূহুর্তে শরীরের স্পর্শকাতর অঙ্গসমূহের বস্ত্রহীন ভিডিও ও ছবি গোপনে ধারণ করে। গোপন ভিডিওতে ধারণ করে তা প্রচার ও প্রকাশ করার হুমকি প্রদান করে এবং চাঁদা দাবী করে আসিতেছিল।
অভিযোগ আছে উপরোক্ত সকল বিষয় স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে পরিচালিত হয়ে আসছে। এমন অভিযোগ করলেও ভয়ে ওই নেতার নাম বলতে অপারগতা জানিয়েছেন সকলে।
ভুক্তভোগী ওই নারী আরো জানান, আলিম ও মিজানুর গত ৩০/১০/২০২০ ইং তারিখে গোপন ভিডিওটি নষ্ট করার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৫০,০০০/=(পঞ্চাশ হাজার) টাকা চাঁদা আদায় করে। এরপর অন্যান্য সকলে আমাকে জানায় যে, আলীম ও মিজানের মতো আমাদেরকেও টাকা না দিলে ভিডিওগুলো প্রচার ও প্রকাশ করা হবে। এরপর আমি চাঁদার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আমাদের স্বামী-স্ত্রীর অন্তরঙ্গ মূহুর্তের বস্ত্রহীন ভিডিও ও ছবি আমার নিজ এলাকার হাটে-ঘাটে, বাজারে ও আমার আত্মীয় স্বজনদের মোবাইলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ইমো ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। তিনি আরও জানান রাকিবের নিজস্ব ইমো আইডি “রাকিব’ থেকে ও অন্যান্য ফেক বিভিন্ন ফেসবুক আইডি খুলে ও ইন্টারনেট, ওয়েবসাইট, মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্্র ডিভাইসের মাধ্যমে আমার নিজ এলাকার ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তাইজাল বিশ্বাস এর মোবাইলে, আমার নিজ এলাকা এলাকা ও আত্মীয় স্বজনের এলাকায় উক্ত পর্ণোগ্রাফী, ফটোগ্রাফী সরবরাহ করে ও প্রকাশ করে।
তিনি আরো জানান, আমি বর্তমান লোক লজ্জার ভয়ে অতি মানবেতর ও লজ্জাস্কর জীবন যাপন করছি। তবে কোন ভাবে পরিবেশ সামাল দিতে না পেরে এলাকা থেকে চলে আসতে হল আমার। আর এমন সমস্যার মধ্যে আমি সর্বশেষ কুমারখালি থানায় নিজে উপস্থিত হয়ে থানা প্রশাসনকে জানিয়েছি।
ভুক্তভোগী নারীর স্বামীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, এই গ্রুপটি আমাদের ভিডিও কে জিম্মি করে আমার কাছ থেকেও ৫০০০ টাকা নিয়েছে। তবে আমাদের স্বামী স্ত্রীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও যেন আর ভাইরাল না হয় এমন আকুতিও করেন তিনি।
এ বিষয়ে তাইজাল আলী মেম্বারের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমার মোবাইলে রাকিব নামের একটি ইমো আইডি থেকে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও আসে এবং আমি বিষয়টি দেখার পর সঙ্গে সঙ্গে ওই মেয়েকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেই।
এ ব্যাপারে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, ভুক্তভোগী ওই নারী থানায় এসেছিলেন। সে সময় তিনি তার স্বামীকে নিয়ে পরবর্তী দিন আসার কথা জানান।
কিন্তু পরবর্তীতে না আসায় আমরা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি নাই। যদি তিনি এসে লিখিত অভিযোগ জমা দেন তাহলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


