মোঃ রাহুল সরকার গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: চাষীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জে অবস্থিত রংপুর সুগার মিল আখ চাষের জন্য আদিবাসী সাঁওতাল ও বাঙালি সম্প্রদায়ের কাছ থেকে বাগদা ফাম নামক স্থানে ১৮৪২ একর জমি অধিগ্রহণ করেন। ফলে জমির মালিকরা বিতাড়িত হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করেন। বিশেষ করে আদিবাসী সাঁওতাল সম্প্রদায় তাদের আত্মীয় স্বজনদের বাড়ীতে আশ্রিত থাকেন। ভূমি হারা নিঃস্ব বিতাড়িতরা নিজেদেরকে সাবলম্বী করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেও সুদিন ফেরাতে পারেনি। ভূমিহীন ই রয়ে যান।
২০০৪ সালে রংপুর সুগার মিল বন্ধ হয়ে যায়।মিল কতৃপক্ষ অধিগ্রহণকৃত জমি চাষাবাদের জন্য লিজ দেন। অধিগ্রহণ আইন ভঙ্গ হলে, আইননুযায়ী পূর্বের মালিকের বংশধররা জমি ফিরে পেতে একত্রিত হন।২০১১সাল থেকে তারা আন্দোলন সংগ্রাম করেন এবং অধিগ্রহণকৃত জমিতে বসতি নির্মাণ করেন। রংপুর সুগার মিল কতৃপক্ষ লিজ বাতিল করে আখ চাষ শুরু করেন।২০১৬ সালের ৬ ই নভেম্বর পুলিশ প্রশাসন বসতি উচ্ছেদ অভিযানে গেলে স্বার্থবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী যুক্ত হয়ে আদিবাসী সাঁওতাল সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালায়, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে। ফলে ৩২জন আদিবাসী সাঁওতাল ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরেরদিন শ্যামল হেরম, মঙ্গল মাড্ডি, রমেশ টুডুর লাশ পাওয়া যায়। সহযোদ্ধাকে হারানোয় আন্দোলন আরও বেগবান হয়।তারা জমি না ছেড়ে আবার বসতি নির্মাণ করেন।
২০২০সালে রংপুর সুগার মিল কতৃপক্ষ জমিতে আখ চাষ না করে ফেলে রাখেন। দীর্ঘ দিন জমি পতিত থাকার পর অসহায় নিঃস্ব আদিবাসী সাঁওতাল ও বাঙালি সম্প্রদায় বুকে স্বপ্ন লালন, বাঁধা কে উপেক্ষা করে , কাঁধে নাঙ্গল জোয়াড় তুলে নিয়ে বিপুল উৎসাহে জমি চাষ করে ধান রোপণ করছেন। সরজমিনে গিয়ে দেখা গেল বাপ দাদার পৈত্রিক সম্পত্তি আদিবাসী সাঁওতালদের স্পর্শে ফিরে পেয়েছে প্রাণ। সবুজ রঙে রাঙিয়ে দিচ্ছেন মাঠ। আদিবাসী সাঁওতাল কৃষাণি তৃষ্ণা বলেন, বন্যা ও করোনাকালীন মহামারী সময়ে খাদ্য সংকট নিরসনে সাহায্য করবে তাদের উৎপাদিত ধান।


