নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরা জেলার মধ্যে কলারোয়া সীমান্তে মাদক বিক্রয়ের নিরাপদ রুট হিসাবে বেছে নিয়েছে চোরাচালানীরা। গত এক সপ্তাহে প্রায় ৪কোটি টাকার মাদক ও স্বর্ণ অলংকার উদ্ধার করেছে সীমান্ত প্রহরী বিজিবি ও থানা পুলিশ। করোনা কালীন সময়ে এ ব্যবসায় জোর দিয়েছে মাদক চোরা কারবারীরা। সেই সাথে কিছু নামি দামি ব্যক্তিরাও সুযোগে সৎ ব্যবহার শুরু করেছে। তারা কিছু কিছু মাদক চোরাকারবারীদের লাভে টাকা দিচ্ছে বলেও শোনা যাচ্ছে।
গত ১৫ বছরেও এত মাদক ও স্বর্ণ উপজেলা সীমান্ত দিয়ে পাচার হয়নি। যা করোনা ভাইরাসের মধ্যে হচ্ছে। গত ২৮জুন রোববার কেঁড়াগাছি সীমান্ত থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা ৪ কেজি ৫শ’৪০ গ্রাম স্বর্ণের বার উদ্ধার করে। যার বাজার মূল্যে প্রায় ২ কোটি ৬৮ লাখ ৫২ হাজার ৬৮৫ টাকা। এর আগে ১৬জুন ভোর রাতে উপজেলার পারিখুপি গ্রামের জাহান আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান (২২) কে ২০০ বোতল ফেনসিডিল ও একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকারসহ আটক করে পুলিশ। এর পর ২২জুন সোমবার ভোরে উপজেলার মাদরা গ্রামের শহিদুল ইসলামের বাড়ী থেকে ৪০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে থানা পুলিশ।
গত ২জুলাই বৃহস্পতিবার ২ কেজি গাজা, একটি ইজিবাইকসহ শার্শা উপজেলার মৃত আয়ুব আলীর ছেলে আবুল কাশেম (৪০), কেশবপুরের মহিদ গাজীর ছেলে মতিয়ার রহমান (৪৮) কে কলারোয়ার বামনখালীর বদ্দিপুর গ্রাম থেকে আটক করে সরসকাটি ফাড়ি পুলিশ। ৪ জুলাই শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার কেঁড়াগাছি সীমান্তের মজুমদারের ব্রিজ এলাকা থেকে ৪৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও একটি হিরো মোটর সাইকেল জব্দ করে বিজিবি সদস্যরা। ওই দিন ৪ জুলাই শনিবার ভোর রাতে কেঁড়াগাছি সীমান্তের ভাদিয়ালী গ্রামের সোনাই নদীর পাড় থেকে ১২লক্ষ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ২০ কেজি রুপার গহনা উদ্ধার করে টহলরত বিজিবি।
এর আগে ১৬ জুন মঙ্গলবার সকালে কাজিরহাটের ৩রাস্তার মোড় থেকে থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে উপজেলার ঝাপাঘাট গ্রামের মৃত মতিয়ার সরদারের ছেলে আব্দুস ছামাদকে ২০০ বোতল ফেনসিডিল ও একটি পিকআপসহ আটক করে। এখন চোরাকারবারীরা বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য বেছে নিয়ে মাদক ও স্বর্ণ ব্যবসা। এছাড়া সীমান্তে চোরাচালান, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড বেড়ে চলেছে। সীমান্তের গাড়াখালি, কাঁকডাঙ্গা, কেঁড়াগাছি, হিজলদী, চন্দনপুর, বড়ালী, ভাদিয়ালী, ফুলতলা বাজার, রামকৃষ্ণপুর বাজার,রামকৃষ্ণপুর গ্রাম, সোনাবাড়ীয়া বাজার সরকারী স্কুল মাঠ, বেলেডাঙ্গা বাজার, বোয়ালিয়া মাদরাসা ও টাওয়ারের মোড়, লাঙ্গলঝাড়া বাজার সংলগ্ন বাশতলা এলাকা,পৌরসদরের তুলসীডাংগা মডেল হাই স্কুলে সন্ধার পর,কলেজ বাসষ্ট্যান্ডে, ঝিকরা গ্রাম,বলফিল্ডে সন্ধার পর,উপজেলা পরিষদের মধ্যে নার্সারি বাগানের পাশে,টেলিফোন অফিস,আমানুল্লাহ কলেজের পেছনে,কাছারি মোড়, পূর্ব কোটা গ্রাম এলাকায় খুচরা মাদক বিক্রয় হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে।
এলাকায় ফেনসিডিল ও ইয়াবা ট্যাবলেট বেড়ে যাওয়ায় বন্ধ থাকা স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরাও এই অবৈধ পেশায় ও নেশায় মনোযোগী হচ্ছে। এলাকার সচেতন মহলের দাবী মাদক নিমূর্লে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযান অব্যহত থাকলে অনেক অংশে কমে আসবে।
বিষয়টি নিয়ে জেলা পুলিশ ও আইনশৃংখলা বাহিনী একটু নজর বাড়িয়ে দিলে অনেক অংশে মাদক দ্রব্য কমে আসবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জন সাধারণের অভিযোগ এই রুট এবং স্পটের ব্যাপারে। যুব সমাজ ধংস হচ্ছে ও তাদের সন্তান মানুষ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছ।
এপিএস/৮জুলাই/পিটিআই/আসাদ


