নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
মেহেরপুরের গাংনীতে করোনা ভাইরাস উপসর্গ নিয়ে সাব রেজিষ্টার মাহফুজ রানা লক ডাউন শেষে কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। সরকারি বিধি মোতাবেক সরকারী কর্মকর্তা কর্মস্থলে থাকার কথা থাকলেও সেখানে সাব রেজিস্ট্রার মাহফুজ রানা সরকারী নির্দেশ উপেক্ষা করে বাড়ীতে অবস্থান শেষে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত না করে আজ সোমবার গোপনে ৩ মাস পর কর্মস্থলে যোগদান করেছে।যোগদান করেই তিনি অফিস চত্বরে করোনা প্রতিরোধে হাত ধোয়া ও স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি সাদা দড়ি দিয়ে অফিসের সামনে সীমানা রেখা টানতে পায়তারা করে। সম্প্রতি তিনি তার সহকর্মীদের জানিয়েছিলেন যে, তিনি এবং তার পরিবার করোনা আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন।এ খবর দলিল লেখকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।হঠাৎ অফিসে যোগদান করায় দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ফাকের আলী ও সম্পাদক নজরুল ইসলাম তার সহকর্মীদের জানালে সবাই করোনা উপসর্গ নিয়ে অফিসে যোগদানের নিন্দা জানায়।একপর্যায়ে অফিস ক্যাম্পাসে করোনা আতংক ছড়িয়ে পড়ে।সকলের পরামর্শমতে দলিল লেখকগণ একযোগে সাবরেজিষ্টারের করোনা উপসর্গের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট অবহিত করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আর এম সেলিম শাহনেওয়াজ তাৎক্ষনিক স্বাস্থ্য দপ্তরের সহযোগিতা নিয়ে তার করোনা নমুনার রিপোর্ট সংগ্রহ করার নির্দেশ দেন। রিপোর্ট পর্যালোচনা শেষে সাব রেজিষ্টার অফিস ৭ দিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
গাংনী সাব রেজিস্ট্রী অফিসের দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম জানান,প্রায় ৪ মাস গাংনী সাব রেজিস্ট্রারের অফিস বন্ধ থাকায় রেজিস্ট্রী অফিসের দলিল লেখকসহ অফিসের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীগন কর্মহীন হয়ে পড়েছে।
সরকারি নির্দেশ মোতাবেক সকল কর্মকর্তা কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ থাকলেও সেখানে মাহফুজ রানা সরকারী নির্দেশ উপেক্ষা করে ২৫শে মার্চ কর্মস্থল ত্যাগ করেন।
গাংনী উপজেলার দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ফাকের আলী জানান,লকডাউনের কারণে রেজ্রিস্ট্রী কার্যক্রম বন্ধ থাকায় গাংনী সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের ৭০ জন দলিল লেখক ও প্রায় ১৫০ জন সহকারী এখন বেকার জীবন-যাপন করছে।সরকার লকডাউন প্রত্যাহার করে নিলেও আমাদের স্যার কর্মস্থলে না থাকায় রেজিস্ট্রী কার্যক্রম বন্ধ ছিল।তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও করোনা নমুনার রিপোর্টএর কপি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত না করে যোগদান করা ঠিক হয়নি।আমরা জানি, ঢাকা থেকে কেউ এলাকায় আসলে তাকে ১৪ দিন হোমকোয়ারেন্টাইনে অবস্থান করতে হয়।অথচ তিনি কিভাবে অফিসে যোগদান করলেন। আমরা জেনে শুনে উপজেলার সাধারণ জনগোষ্ঠীকে বিপদের মধ্যে ফেলে দিতে। এরকম ঝুঁকি নিয়ে আমরা দলিল লেখকরা কোন দলিল সাবমিট করবো না।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম শাহনেওয়াজ জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে করোনার নমুনা রিপোর্ট সংগ্রহ করা হয়েছে।হোমকোয়ান্টোইন করতে ৭ দিন অফিস বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছ্। সূত্রঃগাংনী সময় টিভি।


