তালহা জাহিদঃ বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার আসন্ন ১১ এপ্রিল সাতলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে ওর্য়াডে, পাড়ায়- মহল্লায়, বাজারের, চায়ের দোকান গুলোর দিকে তাকালে বুঝা যায় জমে উঠেছে নির্বাচনী হাওয়া। প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকদের পদচারনায় এরইমধ্যে গম গম পরিবেশ।
গতকাল ২৩ মার্চ সাতলা ইউনিয়নে সরোজমিনে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সকালে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য মোঃ শাহিন হাওলাদার’র পক্ষে বিপুলসংখ্যক নারী আওয়ামী লীগের কর্মীদের নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময়ে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি মোঃ হাকিম সেরনিয়াবাত। তিনি নৌকার সার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান। এসময়ে উপস্থিতি ছিলেন উপজেলা আওয়ামী শ্রমিক লীগের আহবায়ক আনোয়ার খান। তিনি বলেন, “এই নৌকা বঙ্গবন্ধুর নৌকা, হক ভাসানীর নৌকা, শেখ হাসিনার নৌকা, তাই নৌকার ক্ষেত্রে কোন আপোষ হবে না। এখনও সময় আছে ঘরের ছেলে ঘরে ফেরা উত্তম, তিনি আরো বলেন, নৌকা উন্মুক্ত বলতে দলীয় হাইকমান্ডের কোন সিদ্ধান্ত নেই, এগুলো অপপ্রচার। সেসময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ শাহিন হাওলাদার। তিনি বলেন, নৌকা হলো উন্নয়নের মার্কা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দক্ষিণ অঞ্চলের রাজনৈতিক অভিভাবক জননেতা আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র হাতকে শক্তিশালী করতে নৌকার বিকল্প নেই। এছাড়াও তিনি আরো বলেন, বিগত উপ নির্বাচনেও আমি আ’লীগ মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছিলাম কিন্তু দলীয় হাইকমান্ড খায়রুল বাশার লিটন’কে মনোনয়ন দেয়, দলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে আমি’সহ আমরা নৌকা বিজয় সুনিশ্চিত করেছি। এই বলে তিনি নৌকার বিজয় কামনা করে সকলের কাছে দোয়া চান। আরো উপস্থিত ছিলেন, প্রয়াত চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক আজাদ এর পুত্র আওয়ামী যুবলীগের নেতা মোঃ মশিউর রহমান, ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদ হাওলাদার, ইউনিয়ন আওয়ামী শ্রমিক লীগের সভাপতি মোঃ রুহুল আমিন বালী, স্থানীয় মুরব্বিজন’সহ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীবৃন্দ, ইউপি সদস্যবৃন্দ’সহ প্রমূখ।
অন্যদিকে আ’লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল বাশার লিটন তার সিদ্ধান্তে অটল থেকে কর্মী সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী মাঠ জুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিডি কার্ড প্রদানকালে গতকাল সকালে তিনি উপস্থিত সকলের কাছে বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নানাবিধ উন্নয়নের প্রশংসা করে বলেন, “ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’কে নির্বাচন উন্মুক্ত করার জন্য” এই বলে তিনি সকলের কাছে দোয়া চান।
এবিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীরা জানান, যে যাই বলুক, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষরিত নৌকা। তাই দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। কিন্তু সত্যি কথা বলতে আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মীরা এখনও অনেকটা বিব্রত যেমন, সাতলা ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বালী, সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সবুজ বালী’সহ একাধিকজন আওয়ামী সক্রিয় পদ পদবী থাকা সত্ত্বেও প্রকাশে আওয়ামী বিদ্রোহী প্রার্থী সমর্থনে গনসংযোগ ও নির্বাচনী সভায় বক্তৃতা করেন। এবং তারা এপর্যন্ত নৌকার কোন সভায় অংশগ্রহণ করেনি। এতে সাতলায় আওয়ামী লীগ কর্মীরা বিভক্ত হয়ে পরে কোন্দলের দিকে অগ্রসর হতে চলছে। তাই এ সমস্যা মিমাংসা করতে অচিরেই দলের সার্থে হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন সাধারণ কর্মীরা। আবার এব্যপারে অনেকেই মনে করেন, আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী মোঃ শাহিন হাওলাদার ও আ’লীগ বিদ্রোহী প্রার্থীর খায়রুল বাশার লিটন’র কোন্দলে সুযোগে সৎ ব্যবহার করে নিতে পারে সতন্ত্র প্রার্থী হাফিজুর রহমান বিশ্বাস। কেমননা সাতলায় বিগত দিন থেকে ভৌগোলিক অবস্থা বিবেচনায় তিনটি পাড়ে বিভক্ত। আর স স পাড়ের টানে দল মত নির্বিশেষে সুতোয়ে টান পড়লে মাটির প্রশ্নে এক হয়ে যায়।
পরিশেষে সার্বিক বিবেচনা করলে সাতলায় নির্বাচন জমে উঠেছে প্রতিক বরাদ্দের আগেই। এব্যপারে সাধারণ জনগন আশা করে একটা শান্তিপূর্ণ ও কোন্দলহীন নির্বাচন।


