মাসুদ রানা, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি: রাজারহাটে কুড়িগ্রাম-তিস্তা সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাথর ও বালুর স্তূপ রেখে রেললাইন উন্নয়ন কাজ চলছে। এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে সড়কটি। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এরই মধ্যে দুর্ঘটনায় মারা গেছেন দু’জন। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন আরও একজন।
কুড়িগ্রাম-তিস্তা সড়কের ১৩ কিলোমিটার সড়কের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে রেলপথ। দু-তিন মাস আগে কুড়িগ্রাম-তিস্তা রেললাইন উন্নয়ন কাজ শুরু হয়। কাজ শুরুর পর থেকেই সড়কের কিছুদূর পরপর পাথর ও বালু স্তূপ করে রেখে রেললাইন সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ করছেন ঠিকাদারের লোকজন। এতে করে সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ওই সংকুচিত স্থানগুলোতে যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা। বিশেষ করে রাতের বেলা রাস্তার দু’ধারে বাতি না থাকায় যানবাহন চলাচল বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
গত সোমবার রাতে কুড়িগ্রাম-তিস্তা সড়কে রাজারহাট উপজেলার পুনঃকর নামক স্থানে সড়কে অটোরিকশা-পিকআপভ্যান মুখোমুখি সংঘর্ষে অটোরিকশা যাত্রী নুরুল ইসলাম ব্যাপারী (৭০) ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এ সময় অটোরিকশাচালক ও অপর যাত্রীকে গুরুতর আহত অবস্থায় রংপুর সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শনিবার মারা যান অটোরিকশাচালক
নুরুল ইসলাম। দুর্ঘটনাস্থলে সড়কের ওপর পাথরের স্তূপ থাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এখনও রাস্তার ওপর থেকে সেই পাথর ও বালুর স্তূপ অপসারণ করা হয়নি। তবে সেখানে লাল পতাকা টানিয়ে দায় সেরেছে কর্তৃপক্ষ।
ঠিকাদার সুমন জানান, সড়ক ও রেলপথের দু’ধারে পাথর-বালু রাখার মতো কোনো জায়গা নেই। তাই রাস্তার পাশ ঘেঁষে রেখে কাজ করা হচ্ছে। এ ছাড়া দুর্ঘটনা রোধে পাথর-বালুর স্তূপের ওপর লাল ফ্লাগ ও সতর্কতা সাইনবোর্ড টানানোর পাশাপাশি পাহারাদার নিযুক্ত করা হয়েছে।
অপর দুই ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাদের পাওয়া যায়নি। তবে তাদের মধ্যে একজন ঠিকাদারের অংশীদার রাসেলও দুর্ঘটনা রোধে পাথর ও বালুর স্তূপে লাল পতাকা এবং সাইনবোর্ড টানিয়ে দায় সারার কথা বলেছেন।
বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার নুর মোহাম্মদ জানান, বিষয়টি তার জানা ছিল না। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।
ইউএনও নুরে তাসনিম বলেন, অনেকবার বালু, পাথর সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসককেও চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে।


