সব
facebook apsnews24.com
সাদেকা হালিমসহ ৩ শিক্ষকের গবেষণার অধিকাংশ নকল - APSNews24.Com

সাদেকা হালিমসহ ৩ শিক্ষকের গবেষণার অধিকাংশ নকল

সাদেকা হালিমসহ ৩ শিক্ষকের গবেষণার অধিকাংশ নকল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম ও আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাউছার আহমেদের বিরুদ্ধে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ উঠেছে। ‘পার্টিসিপেশন অব উইমেন ইন অ্যাকুয়াকালচার ইন থ্রি কোস্টাল ডিসট্রিক অব বাংলাদেশ : অ্যাপ্রোচেস টুওয়ার্ডস সাসটেইনেবল লাইভলিহুড’ শিরোনামে ১৬ পৃষ্ঠার ওই সম্মিলিত গবেষণা নিবন্ধটি ২০১২ সালে ‘ওয়ার্ল্ড জার্নাল অব অ্যাগ্রিকালচার সার্ভিসেসে’ প্রকাশিত হয়। যার বেশিরভাগ অংশই নকল বলে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি শনাক্ত করার সফটওয়্যার টার্নইটইনে যাচাইয়ে দেখা গেছে। তবে অধ্যাপক সাদেকা হালিমের ভাষ্য, অন্য প্রকাশনার সঙ্গে তাদের নিবন্ধটির সিমিলারিটি (মিল) ২০ শতাংশেরও কম, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও গ্রহণযোগ্য।

ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ওই দুই শিক্ষকের সঙ্গে সহগবেষক ছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির অর্থনীতি বিভাগের তৎকালীন শিক্ষক শামীমা সুলতানা। ২০১৩ সাল থেকে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম ও ড. কাউছার আহমেদের বিরুদ্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ ওঠার পর এর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য টার্নইটইন সফটওয়্যারের মাধ্যমে নিবন্ধটি যাচাই করা হয়। দেখা যায়, নিবন্ধটির ৮৮ শতাংশের সঙ্গে বিভিন্ন জার্নাল ও আর্টিকেলে প্রকাশিত লেখার মিল রয়েছে। যেগুলো ওই গবেষণা নিবন্ধটি প্রকাশ হওয়ার আগেই প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া যৌথভাবে প্রকাশিত নিবন্ধটির কিছু অংশ বিভিন্ন সময় হুবহু অন্য নিবন্ধেও ব্যবহার করেছেন সাদেকা হালিম। এটিও চৌর্যবৃত্তির মধ্যে পড়ে বলে মত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একটা গবেষণার লেখা অন্য কোথাও ব্যবহার করা যায় না। তারপর এই নিবন্ধটি সম্মিলিত, এটা কোনোভাবেই অন্য কোথাও ব্যবহার করা যাবে না। এটা প্ল্যাজিয়ারিজমের (চৌর্যবৃত্তি) মধ্যে পড়ে।’

টার্নইটইনের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৮৮ শতাংশ নকলের মধ্যে ওফড়ংর.ড়ৎম নামে একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নিবন্ধ থেকে ৬১ শতাংশ নকল করা হয়েছে। এই নিবন্ধটি ২০১০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। এছাড়া Idosi.org ও bfrf.org I bangladesh.nlembassy.org -এ প্রকাশিত দুটি নিবন্ধ থেকে ১৬ শতাংশ,shrimpfoundation.org ওয়েবসাইটে প্রকাশিত লেখা থেকে ৩ শতাংশ এবং csd.ulan.edu. bd-এ প্রকাশিত লেখা থেকে দুই শতাংশ নকল করা হয়েছে। বাকি অংশ বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লেখা থেকে কপি করা হয়েছে। ১৬ পৃষ্ঠার ওই যৌথ নিবন্ধটির প্রথম, দ্বিতীয়, চতুর্থ, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, একাদশ এবং চতুর্দশ পৃষ্ঠার পুরোটাই নকল করা। আর তৃতীয়, পঞ্চম, দশম, দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ পৃষ্ঠার কিছু অংশ নকল আর বাকি অংশ তাদের মৌলিক লেখা।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলেন, ‘বেশ কিছুদিন হলো এসব অভিযোগ শুনতে পাচ্ছি। আমি তোমাকে একটা লেখা পাঠাচ্ছি। সেখান থেকে কিছু অংশ আমার বক্তব্য হিসেবে ব্যবহার করতে পার।’ পরে এই প্রতিবেদককে হোয়াটসঅ্যাপে একটি লেখা পাঠান তিনি। সেখানে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগের বিষয়ে ড. সাদেকা হালিম বলেছেন, ২০১২ সালে ওয়ার্ল্ড জার্নাল অব অ্যাগ্রিকালচার সার্ভিসেসে সম্মিলিত একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। ২০২১ সালে সিমিলারিটি চেক করার সময় এটা তার নিজের প্রকাশিত প্রবন্ধের (সোর্স প্রবন্ধ) সঙ্গে সিমিলারিটি দেখাচ্ছে। আর্টিকেলটির সিমিলারিটি ২০ শতাংশের কম, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও গ্রহণযোগ্য।

গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে অধ্যাপক ড. কাউছার আহমেদের মোবাইল ফোনে ১৩ বার কল দিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে কল দিলে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না বলে জানান তিনি।

একই বিষয়ে জানতে গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ৫ বার কল করেও সহগবেষক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানার সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে খুদে বার্তার মাধ্যমে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও কোনো জবাব দেননি তিনি। এরপর একাধিকবার কল করা হলে তার নম্বরটি ‘ব্যস্ত’ পাওয়া যায়। পরে অন্য একটি নম্বর থেকে কল দেওয়া হলে রিং বাজলেও রিসিভ করেননি ড. শামীমা।

গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির বিষয়টি চরম লজ্জাজনক বলে মনে করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘গবেষণায় জালিয়াতি আমাদের জন্য চরম একটা লজ্জার বিষয়। সবার মধ্যে এখন ফাঁকিবাজি, ধান্দাবাজি, জালিয়াতিএগুলো ঢুকে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কোনো আলাদা জিনিস নয়। এটা সমাজেরই অংশ। সমাজে যখন জ্ঞানের মূল্য কমে যায়, তখন বিশ্ববিদ্যালয়েও জ্ঞানের অনুশীলন কমে যায়। তখন সবাই জালিয়াতির আশ্রয় নেয়। কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করে এ জাতীয় লজ্জাজনক অধ্যায় বন্ধ করতে হবে।’

ড. সাদেকা হালিমসহ তিন শিক্ষকের গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগের বিষয়ে অবগত নন বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল। তিনি বলেন, ‘আমরা এই বিষয়ে কিছু জানি না।’ এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে কি নাএমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়েও কিছু জানি না।’

তবে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেছেন, ‘গবেষণায় জালিয়াতির প্রমাণ পেলে কিন্তু আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। জালিয়াতি করে যাতে কেউ পার পেতে না পারে, সে জন্য আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছি।’

  • 1
    Share

আপনার মতামত লিখুন :

সাদেকা হালিমসহ ৩ শিক্ষকের গবেষণার অধিকাংশ নকল

সাদেকা হালিমসহ ৩ শিক্ষকের গবেষণার অধিকাংশ নকল

বাউবির নতুন উপ-উপাচার্য ইবি অধ্যাপক নাসিম বানু

বাউবির নতুন উপ-উপাচার্য ইবি অধ্যাপক নাসিম বানু

ইবিতে লরেন্সের উপন্যাসে যৌনতার প্রাধান্য বিষয়ক সেমিনার

ইবিতে লরেন্সের উপন্যাসে যৌনতার প্রাধান্য বিষয়ক সেমিনার

জবিস্থ ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত

জবিস্থ ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত

ইবিতে ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিমদের অধিকার বিষয়ক সেমিনার

ইবিতে ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিমদের অধিকার বিষয়ক সেমিনার

জাককানইবিতে উইমেন পিস ক্যাফের সভাপতি -মেশকাতুল, সম্পাদক-জাকিয়া

জাককানইবিতে উইমেন পিস ক্যাফের সভাপতি -মেশকাতুল, সম্পাদক-জাকিয়া

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার: ApsNews24.Com (২০১২-২০২০)

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ নুরুন্নবী চৌধুরী সবুজ
01774-140422
প্রকাশকঃ আইনী পাঠশালা গ্রুপ
২২ চ্যামেলীবাগ (সিআইডি অফিসের পাশে) রমনা থানা, ঢাকা-১০০০।
01625-461876, 01771-784299
[email protected], [email protected]
Developed By Feroj

ব্রেকিং নিউজ