কি কেনা যায় তার জন্য? যা কিনবো তা কি তার পছন্দ হবে? তবে যাই হোক, অবশ্যই বিশেষ কোন জিনিস তাকে দিতে হবে।এমন কোন জিনিস যা দেখে সে আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠবে।কিন্তু তা কোন জিনিস টা হতে পারে? শাড়ি? ডায়মন্ড রিং? শো পিস? নাকি ক্রোকারিজ?’- কথাগুলো শপিং মলে দাঁড়িয়ে মনে মনে ভাবছিলো কুমুদ।তার সবচেয়ে প্রিয় বান্ধবী ফারিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে উপহার কিনবে বলে ঠিক করেছে। কিন্তু ফারিয়াকে কি দেয়া যায় তা ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না।শুধু উপহার ই নয়, অনুষ্ঠানের সাজসজ্জার আয়োজন ও তাকেই করতে হবে। জন্মদিনের অনুষ্ঠানের সমস্ত দায়িত্বভার কুমুদ একাই নিয়েছে।
বেশ কিছু সময় পার হল শপিং মলে কেনাকাটা করতে করতে। একমাত্র উপহার ছাড়া বাদ বাকি সব কেনা হয়ে গেছে।কিন্তু একটা না একটা উপহার তো দিতেই হবে। হাটতে হাটতে হঠাত কুমুদের চোখ পড়লে একটি কাচের ফুলদানিরর দিকে। কাচের উপর খুব সুন্দর কারুকাজ করা যা যে কোন মানুষককেই আকষণ করবে। তৎক্ষণাৎ কুমুদ ভেবে বসল যে, এ ফুলদানীই সে ফারিয়াকে উপহার হিসেবে দেবে। এমন চমৎকার জিনিস অপছন্দ করার কোন কারণ নেই। ফুলদানীটি কিনে র্যাপিং করিয়ে কুমুদ বাড়ির পথে রওনা হল।তখন ঘড়িতে বিকাল তিনটা বাজে।সন্ধ্যা হবার আগেই অনুষ্ঠান সম্পকিত সব কাজ শেষ করতে হবে। বাড়িতে যাবার পথে বেকারী থেকে একটি কেক নিয়ে নিল। কোন কিছুর কমতি থাকা চলবে না।
দেখতে দেখতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। কুমুদেরও সব আয়োজন সম্পন্ন হল। মোমবাতি দিয়ে সে তার পুরো বাড়িটিকে সাজিয়েছে। দেখতে খুব ই চমৎকার লাগছে।কিছুক্ষণের মধ্যে অতিথিরা আসতে শুরু করলো।কুমুদ তার কিছু নিকট আত্মীয়, বন্ধু- বান্ধব ও কিছু প্রতিবেশীকে নিমত্রণ করেছে। অতিথিরা কেউ জানে না যে কি উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়েছে। কখনো জানবেও না। কারণ কুমুদ কখন ও তাদের কাছে প্রকাশ করবে না। ফারিয়া, যার জন্মদিন পালন করা হচ্ছে সে অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত। কুমুদ ও আগে থেকেই জানতো যে তার এ বান্ধবী কোনভাবেই এ দিনে এখানে উপস্থিত থাকতে পারবে না। তা জানা সত্ত্বেও সে এরকম আয়োজন করেছে।
ফারিয়া গত সাত বছর যাবত দূর প্রবাসে লন্ডনে বসবাস করছে।পত্রের মাধ্যমে মাঝে মধ্যে কুমুদের সাথে যোগাযোগ হয়।তার দেশে ফেরার তেমন একটা সম্ভাবনা নেই।হয়ত এই দুই বান্ধবীর আর কখন ও দেখাও হবে না। ফারিয়া দেশে থাকতে প্রতি বছর ই কুমুদ তার জন্মদিনে কোন না কোন আয়োজন করতো।সে প্রবাসে যাবার পর ও একইভাবে প্রতি বছর তার জন্মদিন পালন করে চলছে। প্রতি বছর ই ফারিয়ার জন্য একটা করে উপহার কিনে।যদি ভাগ্যক্রমে কখন ও তার সাথে দেখা হয় তাহলে উপহারগুলো তাকে দেয়া যাবে। এত দূরে থেকেও কুমুদের পক্ষে বন্ধুত্বের ইতি টানা সম্ভব হয়নি।এমন বন্ধুত্ব দুনিয়াতে বিরল।
নজিয়া আমিন
আইনজীবী ও লেখক।


