মা, তোমার জন্য হেরিলাম বিশ্ব,
কত রূপ কতইনা দৃশ্য।
বিচরণের যত আনাচে-কানাচে
মহিমা ভরা প্রকৃতি তৃষ্য।
মাগো, ধন্য হয়েছি তোমার কোলে,
স্নেহের পরশে স্বপ্ন দোলে,
হাটতে শেখালে, বলতে শেখালে,
নির্ভীক চিত্তে চলতে শেখালে,
সকল আশা পূর্ণ করিয়া
কোথায় তুমি চলে গেলে?
ঘুমিয়ে আছো মাগো তুমি,
হিজল গাছের তলে।
চিরঘুমে ঘুমন্ত মা;
আমায় একা ফেলে।
তোমার দেখানো স্বপ্ন পথে,
আমি আজ আসহায়,
আমার সুখে হাসতে চেয়ে,
অসময়ে কেন এ বিদায়?
গভীর রাতে হঠাৎ জেগে,
ছলছলিয়ে জল দুচোখে,
কোল যে আমার খালি।
মিষ্টি সুরে (“জাগলে কেন”
“ঘুমাও সোনা”) কই পাবো সে বুলি?
হঠাৎ চিন্তায় মগ্ন যখন
কেউ তো বোঝে না’ক,
মা বলতো এই যে খোকা
মন মরা কেন থাকো?
আমি আছি তোমার পাশে,
তোমার কিসের ভয়!
শত ব্যথা, বাধার তরীর,
মানতে হবে পরাজয়।
আমি যখন অসুস্থ হতাম,
সবসময় মা’কে পাশে পেতাম,
চিন্তায় বড়ই অস্থির হতো মা!
বিপদে-আপদে, দুঃখে-কষ্টে,
মায়ের চেয়ে বেশী মলিন মুখ,
আমি করো দেখতাম না।
খাওয়ার সময় মা নিজ হাতে,
বড় মাছটা দিত মোর পাতে।
এখনো অনেক বসি খেতে,
মায়ের মতো স্নেহের পরশ;
কেউ কি পেরেছে দিতে?
দুক্ষ পেয়ে কাদতাম যখন,,
ঘরের কোনায় বসে!
বুকে জড়িয়ে নিতে মা তুমি,
অধিক ভালোবেসে!
একদিন আমি ছবি আকলাম,
প্রিয় মাকে নিয়ে,
ছবির কি যে প্রসংশা;
আমায় কত আদর করলে,
স্নেহের, বুকে জড়িয়ে।
মা বলল, আমি যখন চলে যাব,
(তখন খোকা) আমায় মনে রাখবি?
হৃদয় কোনে যত্ন করে,
আমার ছবি কি আকবি ?
আজো ফুলের গন্ধে বাতাস ভরে,
জোনাক জ্বলে ঝোপে-ঝাড়ে,
বাসবাগানে সেই পাখিটা;
ডাকে তার মধুর সুরে,
একলা চেয়ে রই।
মাগো তুমি আমায় ছেড়ে,
চলে গেলে দূর অজানায়;
কেমনে আমি সই।
এখন বলো কষ্ট পেলে,,,
তোমায় পাবো কই।
আজো কেউ আসেনি এত কাছে,
তোমার মত আদর করে,
কেউ বলে নি পড়তে বস।
কেউ বুলায় নি মাথায় হাত,
কেউ জাগেনি নির্ঘুম রাত,
কারো কথায় নেই এত রস।
মাগো, তোমার স্মৃতি মনে ভাসে,
বিষিয়ে সর্বক্ষণ!
তোমায় বড়ই ভালোবাসি;
তোমার পরশ আবার যদি-
পেত আমার এই মন।
তখনই হয়তো স্বার্থক হতো,
আমার এই জীবন।
তোমার চেয়ে এই ধরায়;
কে গো বলো, অতি আপনজন!
এখন বড়ই একা লাগে,
তোমার আদর মনে জাগে,
হঠাৎ ঝড়ে, নিঃস্ব করে,
নিভিলো সব প্রভা।
দুহাত তুলে দোয়া করি,
ওহে বিধাতা।
ওপারে যেন ভাল থাকে,
আমার মায়াময়ী মা।
মোঃ রেজওয়ানুল ইসলাম


