ফজলুল হক
অাবার একটি যুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে হতচকিত বিশ্ব।
মানুষ মানুষে নয়
শক্তি প্রদর্শন বা অস্ত্রের বড়াই–এসবের কোনোটিই নয়,
এ লড়াই নিরস্ত্র ভাইরাসের বিরুদ্ধে বিশ্বনেতাদের টিকে থাকার,
এ যুদ্ধ প্রকৃতির করুণ ভারসাম্যহীনতার।
বৈশ্বিক এ যুদ্ধে
অামি নিজেও পশ্চাৎপদ এক ভীরু সৈনিক।
কান্নার ধ্বনি,অাতঙ্কে জেগে থাকা অাটপৌরে রাত,
লাশের স্তুপে প্রিয়জনের মুখ দেখে অাতকে উঠা,
ভালোবাসায় যোজন যোজন ফারাক –সব নিষ্ঠুর উপহার অদৃশ্য ঘাতকের ক্রমাগ্রসর বিষাক্ত থাবার ।
শক্তির তকমা নিয়ে বিশ্ববাসী কাপুরুষের মতো নতজানু,
মানবিকতায় শ্রেষ্ঠ হলেও শক্তিতে প্রকৃতির কাছে মানুষ হেরে গেছে বারবার।
দূষণমুক্ত সমুদ্রের স্বচ্ছ নীল জলে মাছেরা অাজ নিরাপদে খেলছে
বনাঞ্চলে পাখি ও বন্য প্রাণিদের বাধাহীন অানন্দ উল্লাস
পথের ধারে মেঠো ফুলেরা মেতেছে বাহারি সাজসজ্জায়,
চরম প্রতিশোধ নিতে
প্রকৃতি অাজ অাঙুল তুলছে ক্ষমতাধর মানুষের উপর।
বৈরী এ সময়ে ঘরমুখো তথাকথিত মানবিক মানুষগুলো
সুযোগ পেলেই করবে ফোঁস,
অমানবিকতার দরজা খুলে
সহসায় মেতে উঠবে ফের ধ্বংসলীলায়।
জীববৈচিত্র্যের প্রতি এ নির্মম অাচরণে
অনাগত শতাব্দীর শরীর পচে
অাবার হয়ত জন্ম নেবে অজানা বিষাক্ত এক ভাইরাস অথবা পঙ্গপাল;
প্রজন্মের পর প্রজন্ম দিয়ে যাবে তার যথার্থ মূল্য।
মনুষ্যত্বহীন ক্ষমতালোভীরা চিরকাল যেমন পাপাসক্ত ও
বর্বর
দুর্বলেরা তেমন-ই ন্যায় বিচারের কাঠগড়ায় বড় অসহায়!
ফজলুল হক


