খুব বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল ঠিক তখনই ফোনের ভাইব্রেশন!
রূপা, আমি রাস্তায়!!
- ইশশশ! এখনি বৃষ্টিটা শুরু হওয়া লাগে!
রূপা আমাকে কখনো ভুলে যাবা না তো, অন্য কারো প্রেমে পইড়ো না,কেমন? আমার খুব কষ্ট হবে!
-এটাও সম্ভব!! অন্য কারো প্রেমে পড়া আমাকে দিয়ে হবে!! তাই মনে হয় আপনার?
এই মামা,যাবেন? মায়া গলি সামনে থেকে যাওয়া লাগবে কিন্তু ওখানে দরকার আমার!
-আপনি এখন বের হয়েন না,প্লিজ! একটু বোঝার চেষ্টা করেন!
তুই তো জানিস আমি একটু কম বুঝি!! ভেজা অবস্থায় জড়ায়ে ধরতে পারবি তো?
-আসেন আপনি! আমি নামতেসি!
অসময়ের ঝিরিঝিরি বৃষ্টি আর কিছু হারিকেন এর আলো ছাড়া সবটাই যেন অপরিচিত!
কত রাজ্যের কথা জমা! কিন্তু হাসি ছাড়া কিছুই যেন দেখা মেলে না! বৃষ্টির ছাঁট এ দুজনের উদ্ভান্ত হাসির নিঃসঙ্গতা ফুঁপিয়ে ওঠে!
কিছু কি বলা উচিত?
এই বৃষ্টিতে আপনি এইভাবে আসলেন!!!
রূপা এদিকটায় আসো, তুই আর খেয়ালি হলি না!
একটু?
জুতোজোড়ো খুলে পা ভিজিয়ে চোখ ফেরাতেই ও যেন আবার ও প্রেমে পড়ল!
মামা যাবা? বুঝলি রূপা আজকে মনে হয় হেঁটেই ফিরতে হয় কিনা! তুই বরং বাসায় যা আমি না হয় তোর যাওয়াটাই দেখি! - আমি থাকি! আরএকটু হ্যাঁ? চলেই তো যাবেন! একটু থেকেই যাই!
আয় রিক্শাবৃষ্টি ভিজি! যাবি তো নাকি? - চা খাওয়া লাগবে কিন্তু? আর আমার কদমফুল কই হ্যাঁ?
যাহ!! পরেরবার পেয়ে যাবি, ঠিক আছে?এখন চল তো!!
আটখোলা আকাশের নিচে আধ ভেজা প্রহরের আধ ভেজা শহরে আধ ভেজা তুই,আধ ভেজা আমি!! রূপা তুই মেঘের খামে চিঠি দিয়ে দিস! মেঘ না হয় বলবে বৃষ্টি হয়ে আমার কথা বলতে!
তুই তো একবারে ভিজে গেলি,ধাবায় বসবি? না আরো জ্বালাবি? - হ্যাঁ এমনেই জ্বালাবো, সারাজীবন জ্বলবেন আপনি! কিচ্ছু করার নাই
দেখি এইদিকে আয়! কাজল তো পুরোটাই লেপ্টে দিলি! তোর চোখ সুন্দর,আগে খেয়াল করি নাই!
ইশশশ! সরি সরি! আমি সরি! লাগে নাই তো? - হ্যাঁ লাগছে তো! হাতটা রাখেন না! ভাল্লাগতেছে তো!!
তুই আর ঠিক হলি না রূপা!
আবার জোড়ে নামলো, চলো উঠি! কি বলো? - না আর একটু? চা ই তো খাওয়া হলো না!
টুপটাপ বৃষ্টির পানি পড়বে চা এর কাপ এ!! আর আপনি ভ্রু কুঁচকে বৃষ্টি চা এ চুমুক দেবেন, আমি না হয় দেখবো?
মামা দুকাপ চা দিয়েন তো!! একটায় চিনি বেশি,কি ঠিক আছে না?
হ্যাঁ আছে তো! রূপা এমনেই থাকবি তো? - কি মনে হয়?
কিছুনা!! অনেকটা পথ, আমরা উঠি?
তৌফিকা করিম রুপা
শিক্ষার্থী,
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়


