মোঃ আলাউদ্দীন মজুমদার শাহীন সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় রোজিনা বেগম (২৬) নামে এক গৃহবধূকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে পাষণ্ড স্বামী। এঘটনায় ঘাতক স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ ।
স্থানীয়দের নিকট থেকে জানা গেছে, বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের পাইটকাপাড়া গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে ছামিউল ইসলাম সাংসারিক অর্থাভাবের কারনে স্ত্রী রোজিনাকে নিয়ে কর্মের উদ্দেশ্য ঢাকায় যান। পোশাক শ্রমিকের কাজে যোগ দেন রোজিনা বেগম আর স্বামী ছামিউল ইসলাম সেখানে কাঠমিস্ত্রীর কাজ করতেন। সেই থেকেই দুজনের মধ্যে সন্দেহের জেরে দাম্পত্য কলহ চলে আসছিল। যার কারণে প্রায় একমাস আগে রাগের মাথায় ঢাকা থেকে রোজিনা বেগম তার বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে স্বামী ছামিউল ইসলাম স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় সালিশের মাধ্যমে রোজিনাকে তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরই মধ্যে পারিবারিক বিষয়ে শুক্রবার সকাল থেকেই দুজনের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি সৃষ্টি হয়। এরপর সন্ধ্যায় বাড়ির পাশের বিলে মাছ ধরার কথা বলে ওই গৃহবধূকে বাহিরে নিয়ে যায় ছামিউল। পরে বিলের মাঝখানে নিয়ে গিয়ে তার কাঠমিস্ত্রীর কাজে ব্যবহৃত কুড়াল দিয়ে গলায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপাতে থাক। ওই গৃহবধূর চিৎকার শুনে তার শ্বশুর-শ্বাশুড়ি এগিয়ে এলে তাদেরকে ধাক্কা দিয়ে পানিতে ফেলে দিয়ে রোজিনাকে হত্যা করে । এ সময় তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে ঘাতক স্বামী পালিয়ে যায়।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেন। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। রাতেই পুলিশ ছামিউল কে আটক করে। রোজিনা ওই ইউনিয়নের রামধন (মওয়ামারী) গ্রামের ওয়ারেছ আলী মেয়ে।
রোজিনার বাবা জানান, বিয়ের পর থেকেই নানা ইস্যুতে তাদের ঝগড়াঝাটি হত। এ নিয়ে বেশ কয়েক বার সালিশও হয়। প্রায় একমাস আগে সালিশের মাধ্যমে আমার মেয়েকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। আর আজকে ওরা আমার মেয়েটাকে মেরে ফেলল। আমি ওই পাষণ্ডের শাস্তি চাই। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সুন্দরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহিল জামান বলেন, এ ঘটনায় ঘাতক স্বামীকে আটক করা হয়েছে।
নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।


