সব
facebook apsnews24.com
এরশাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী - APSNews24.Com

এরশাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী

এরশাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী

হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বাংলাদেশের একজন সাবেক সেনাপ্রধান ও রাজনীতিবিদ, যিনি ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার দেশ পরিচালনাকে অনেকেই সামরিক একনায়তন্ত্রের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা, যা পরবর্তীতে বেশ কিছু উপদলে বিভক্ত হয়। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ আসন থেকে তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

সেই কিংবদন্তি নেতার আজ প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। শারীরিক অসুস্থতার কারণে গত বছরের ২৬ জুন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ৪ জুলাই তাকে নেয়া হয় লাইফ সাপোর্টে। ১৪ জুলাই সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে সেখানেই তিনি মারা যান। তার রক্তে ইউরিয়া, হিমোগ্লোবিনের স্বল্পতা, ফুসফুসে সংক্রমণ ছিল। এছাড়া তিনি কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন।

ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে প্রথম, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা টানেলে দ্বিতীয়, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে তৃতীয় এবং রংপুরের কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দানে চতুর্থ নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই এরশাদকে গ্রামের বাড়ি রংপুরের পল্লী নিবাসের লিচুবাগানে তার বাবার কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।

প্রাথমিক ও সামরিক পেশাজীবন

১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ দিনহাটা শহর, কোচবিহার জেলা, জলপাইগুড়ি বিভাগ, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য, ভারতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রংপুর জেলায় শিক্ষাগ্রহণ করেন এবং ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৫১ সালে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অফিসার্স ট্রেনিং স্কুলে (কোহাটে অবস্থিত) যোগ দেন এবং ১৯৫২ সালে কমিশনপ্রাপ্ত হন। ১৯৬০-১৯৬২ সালে তিনি চট্টগ্রাম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কেন্দ্রে অ্যাডজুট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৬৭ সালে তিনি কোয়েটার স্টাফ কলেজ থেকে স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেন। ১৯৬৮ সালে তিনি শিয়ালকোটে ৫৪ ব্রিগেডের মেজর ছিলেন। ১৯৬৯ সালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে পদোন্নতি লাভের পর ১৯৬৯-১৯৭০ সালে তৃতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক এবং ১৯৭১-১৯৭২ সালে সপ্তম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে এরশাদ

পাকিস্তান থেকে দেশে ফেরার পর ১৯৭৩ সালে তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। ১২ ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালে তিনি কর্নেল এবং ১৯৭৫ সালের জুন মাসে ব্রিগেডিয়ার পদে পদোন্নতি পান। ১৯৭৫ সালের ২৪ আগস্ট ভারতে প্রশিক্ষণরত অবস্থায় তিনি মেজর জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি পান এবং উপসেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পান। ১৫ অগাস্ট সামরিক অভ্যুত্থানের পর এরশাদ বাংলাদেশের দিল্লি মিশনের মাধ্যমে দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষা জানিয়ে বার্তা পাঠান। ১৯৭৮ সালে তাকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি দিয়েছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং এরশাদ একই বছরের ডিসেম্বরে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব বুঝে নেন।

সামরিক অভ্যু্ত্থান ও রাষ্ট্রপতিত্ব

১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর এরশাদের রাজনৈতিক অভিলাষ প্রকাশ হয়ে পড়ে। পরের বছরের ২৪ মার্চ এরশাদ রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারের নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন। ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর নাগাদ তিনি প্রধান সামরিক প্রশাসক হিসেবে দেশ শাসন করেন। সেদিন তিনি দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা রাষ্ট্রপতি বিচারপতি এ.এফ.এম আহসানুদ্দিন চৌধুরীর কাছ থেকে নিজের অধিকারে নেন। এরশাদ দেশে উপজেলা পদ্ধতি চালু করেন এবং ১৯৮৫ সালে প্রথম উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৮৬ সালে তিনি জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন এবং এই দলের মনোনয়ন নিয়ে ১৯৮৬ সালে পাঁচ বছরের জন্য দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও জামায়াত এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, যদিও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এই নির্বাচন বয়কট করে। সাধারণ নির্বাচনে তার দল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে। বিরোধী দলের আন্দোলনের মুখে রাষ্ট্রপতি ১৯৮৭ সালের ৭ ডিসেম্বর এই সংসদ বাতিল করেন। ১৯৮৮ সালের সাধারণ নির্বাচন সকল দল বয়কট করে। এরশাদের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সকল বিরোধী দল সম্মিলিতভাবে আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা থেকে অপসারণ করে।

৯১-পরবর্তী রাজনৈতিক পেশাজীবন

ক্ষমতা হারানোর পর এরশাদ গ্রেপ্তার হন এবং ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত কারারুদ্ধ থাকেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি কারাগার থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং রংপুরের পাঁচটি আসন থেকে নির্বাচিত হন। বিএনপি সরকার তার বিরুদ্ধে কয়েকটি দুর্নীতি মামলা দায়ের করে। তার মধ্যে কয়েকটিতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন এবং সাজাপ্রাপ্ত হন। ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনেও তিনি পাঁচটি আসন থেকে নির্বাচিত হন। ছয় বছর অবরুদ্ধ থাকার পর ১৯৯৭ সালের ৯ জানুয়ারি তিনি জামিনে মুক্তি পান। তার প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টি ২০০০ সালে তিনভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে, যার মধ্যে তিনি মূল ধারার চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে তার দল সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং তার স্ত্রী রওশন এরশাদ প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা হন।

এরশাদের ব্যক্তিগত জীবন

এরশাদ ১৯৫৬ সালে রওশন এরশাদকে বিয়ে করেন। তাদের এক ছেলে রয়েছে, নাম রহগীর আল মাহি শাদ এরশাদ। ২০০০ সালে এরশাদ বিদিশাকে বিয়ে করেন। পরে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরশাদ বিদিশাকে তার প্রথম বিয়ে গোপন রাখার জন্য তালাক দিয়েছিলেন, যে বিয়ে তাদের বিয়ের সময়েও বিদ্যমান ছিল। এই সংসারেও এরশাদের এক ছেলে রয়েছে, নাম এরিক এরশাদ। এছাড়া আরমান এরশাদ ও জেবিন নামে এক ছেলে ও এক মেয়েকে এরশাদ দত্তকও নিয়েছিলেন।

  • 1
    Share

আপনার মতামত লিখুন :

পরাজিত শক্তি আজ ছোবল মারতে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

পরাজিত শক্তি আজ ছোবল মারতে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

সেই কৃষকের জন্য আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা

সেই কৃষকের জন্য আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা

যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস-২০২০ উদযাপিত

যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস-২০২০ উদযাপিত

আজ মহান বিজয় দিবস, বাঙালি জাতির বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিন

আজ মহান বিজয় দিবস, বাঙালি জাতির বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিন

আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশ আজ একটি সমীহের নাম: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশ আজ একটি সমীহের নাম: প্রধানমন্ত্রী

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার: ApsNews24.Com (২০১২-২০২০)

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ নুরুন্নবী চৌধুরী সবুজ
01774-140422
প্রকাশকঃ আইনী পাঠশালা গ্রুপ
২২ চ্যামেলীবাগ (সিআইডি অফিসের পাশে) রমনা থানা, ঢাকা-১০০০।
01625-461876, 01771-784299
[email protected], [email protected]
Developed By Feroj

ব্রেকিং নিউজ