দেশে আইনজীবী রয়েছে হাজারে হাজারে। কোর্ট বন্ধ হওয়ায় বর্তমান আইনজীবীরাই অনেকে হা হুতাশ আর আন্দোলন করছেন রেগুলার কোর্ট খুলে দেওয়ার জন্য। অনেকে বলছেন জীবিকা হচ্ছে না। অন্যদিকে হাজার হাজার শিক্ষানবিশ চাচ্ছেন পরিক্ষা ছাড়াই তাদের আইনজীবীর সনদ দিয়ে দেওয়া হোক। যদি বর্তমান আইনজীবীদেরই জীবিকা নির্বাহ করতে কষ্ট হয় তাহলে কেন এভাবে হাজারে হাজারে আবার নতুন আইনজীবীদের সনদ দিচ্ছেন যদি দেখেন নিজেদেরই জীবিকা হচ্ছে না? তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েই কেন আইনের ছাত্রদের পরিমাণ সীমিত করা হচ্ছে না?
যে পেশায় এত পেশাজীবীর যোগান যারা নিজেরাই জীবিকা নির্বাহে এত হিমসিম খাচ্ছেন তাহলে আবার নতুন করে আইনজীবী বাড়ানোর দরকার কী? দেশে মামলার পরিমাণ ও আইনজীবীদের পরিমাণের একটা আনুপাতিক হার থাকা দরকার। হাজারে হাজারে আইনজীবী না থেকে মানসম্পন্ন প্রয়োজন মাফিক আইনজীবী থাকা দরকার। যাতে যারা আইনজীবী হবেন তারা সম্মানের সাথে অন্তত সমাজে চলতে পারেন।
আপনারা কী দেখেন না একজন আইনজীবীর সাথে কোন বাবা-মা তাদের মেয়েকে বিয়ে দিতে চাননা? তারা বলেন, আইনজীবীর হাতে টাকা থাকে না। আয় কম, আয় অনিশ্চিত। সুতরাং মেয়ে বিয়ে দেওয়া যাবে না। সুত্রাং অহেতুক সনদ দিয়ে কাউকে মানবেতর জীবনের দিকে ঠেলে না দিয়ে আইনের ছাত্রদের পরিমাণ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কন্ট্রোল করা উচিত।
সহজভাবে জীবিকা হয় না বলেই অনেক আইনজীবী নানা অসাধু পন্থায় রোজগার করতে প্রলুব্ধ হন যেটি পুরো আইনজীবী পরিবারেরই সুনাম নষ্ট করে। সুতরাং আইনজীবীর কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ মোতাবেকই সনদ দেওয়া উচিত। জীবিকা অর্জনে যদি এত কষ্টই হবে তাহলে তাদের এ পেশায় আসাটা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েই সুচিন্তিতভাবে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। জীবীকার নিশ্চয়তা চাওয়া কোন অন্যায় নয়।
রায়হান কাওসার, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট। ইমেলঃ raihankawsardu@gmail. com


