বাংলাদেশের সৌন্দর্যসেবা খাতকে শিল্প খাত হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ৭ জুন জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এ বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. সলিম উল্লাহ জানান, খুব তাড়াতাড়ি এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশিত হবে।
উল্লেখ্য, সৌন্দর্যসেবা খাত বর্তমানে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের একটি সম্ভাবনাময় খাত। দেশের ৬৪ জেলাতেই আছে ছোট–বড় বিউটি পারলার, স্যালন ও স্পা। বর্তমানে নিবন্ধিত পারলারের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন লাখ। এ ছাড়া পুরুষদের পারলার ও স্যালন আছে আনুমানিক পাঁচ লাখ। নারীদের পারলার, স্যালন ও স্পার পরিচালনায় উদ্যোক্তা থেকে সেবা প্রদায়ক মিলিয়ে রয়েছেন অন্তত ১০ লাখ নারী। বাংলাদেশের নারী কর্মজীবীদের মোট সংখ্যার ১৮ শতাংশ পারলারে কাজ করছেন। এই খাতের টার্নওভার বর্তমানে পাঁচ শ কোটি টাকা।
বাংলাদেশে সৌন্দর্যসেবা খাতের সূচনা ১৯৬৩ সালে চীনা নাগরিকদের হাত ধরে। তখন এর কোনো নাম ছিল না। দুই বছর পর নাম দেওয়া হয় মে ফেয়ার। কাছাকাছি সময়ে আরও ছিল হংকং এবং লি বিউটি পারলার। তখন অভিনয়শিল্পী ও অভিজাত পরিবারের নারীরাই সেবা গ্রহণ করতেন। প্রথম দিকে বিয়ের সাজ, চুল কাটার মতো দু-তিনটি সেবা মূলত দেওয়া হতো। স্বাধীনতার পর প্রথম বাঙালি হিসেবে জেরিনা আজগর চালু করেন বিউটি পারলার লিভিং ডল। তিনি সেবা প্রদানের পাশাপাশি প্রশিক্ষণও দিতেন। ঢাকার বাইরে প্রথম বিউটি পারলার চালু হয় চট্টগ্রামে, লুসি বিউটি পারলার। নব্বইয়ের দশকে এসে বিউটি পারলারের সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকে। রূপচর্চা সেবায় পরিণত হয়; শুরু হয় নগর সংস্কৃতির নতুন ধারা।
এপিএস/১৫জুন/পিটিআই/এনএস


