বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজে যুক্ত হতে আগ্ৰহী সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের দেশ বেলারুশ। এজন্য দেশটি বাংলাদেশের সঙ্গে একটি চুক্তি সই করতে চায়।
আজ শনিবার সকালে ঢাকা সফররত বেলারুশের শিল্প বিষয়ক উপমন্ত্রী দিমিত্রি খারিতনছিক এক প্রশ্নের উত্তরে প্রথম আলোকে এ কথা জানান।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে উপমন্ত্রী দিমিত্রি খারিতনছিক ছয় দিনের সফরে গত মঙ্গলবার ঢাকায় আসেন। এই সফর নিয়ে তিনি রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজে বেলারুশের আগ্ৰহের বিষয়ে জানতে চাইলে দিমিত্রি খারিতনছিক বলেন, বেলারুশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ নির্মাণের প্রথম ধাপের কাজ শেষ হয়েছে। রিএক্টর তৈরি করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ বেলারুশের অভিজ্ঞতা জানার বিষয়ে আগ্রহী। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভিজ্ঞতাও আমরা জানতে চাই। আসলে মূল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে আমাদের কথা হয়নি। কারণ এটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের কাজ। মূলত আমরা সুবিধাজনক ও কার্যকর অবকাঠামো কী হওয়া উচিৎ সেটি নিয়ে এবং বিদ্যুতের সর্ব্বোচ্চ ব্যবহার কীভাবে হতে পারে তা নিয়ে কথা বলেছি।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়ে বেলারুশের শিল্প বিষয়ক উপমন্ত্রী বলেন, এসবের পাশাপাশি পারমাণবিক বিদ্যুৎপ্রকল্পের নিরাপত্তার বিষয় নিয়েও কথা হয়েছে । আপনাদের সবার মনে আছে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সময়ে চেরনোবিল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বিয়োগান্ত ঘটনা আগে ঘটেছিল। তাই এ বিষয়ে আমরা অনেক কথা বলেছি। কারণ অতীতের অভিজ্ঞতায় আমরা মনে করি, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নিরাপত্তার বিষয়টি জরুরি। নিরাপত্তা বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সুরক্ষা যন্ত্রপাতি নিয়েও আমাদের আলোচনা হয়েছে।
দিমিত্রি খারিতনছিক আরও বলেন,‘এক্ষেত্রে কার্যকর সহযোগিতার জন্য দুই দেশের মধ্যে চুক্তি করাটা জরুরি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বিষয়টি চূড়ান্ত করবে।’
ওই ব্রিফিংয়ে উপস্থিত বাংলাদেশে বেলারুশের রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেই রেঝেওসস্কি দুই দেশের সহযোগিতার বিষয়ে বলেন, নির্মাণখাত, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তি, বেলারুশ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনাসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে সহযোগিতার সুযোগ আছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ মূলত তৈরি পোশাক রপ্তানি করে।
ইউরেশিয়ান অর্থনৈতিক অঞ্চলে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি জটিল কারণ। এই অঞ্চলে পাঁচটি দেশ সদস্য এবং সবার সম্মতির ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে বেলারুশের অনারারী কনসাল অনিরুদ্ধ কে রায় উপস্থিত ছিলেন।


