মহিবুল ইসলাম
রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
রাজশাহী মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র বড়কুঠি এলাকায় অবস্থিত মসজিদ মিশন একাডেমী নামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লোগো পরিবর্তন করা হয়েছে। আগে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির লোগোর ভেতরে কোরআনের আয়াত ও ‘চাঁদ-তারা’ চিহ্ন ছিল। এই রকম কোরআনের আয়াত ও ‘চাঁদ-তারা’ পাকিস্তানের পতাকার ভেতরেও আছে বলে দাবি তুলেন রাজশাহীর সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ‘বাংলাদেশ মসজিদ মিশন’ নামের একটি সংস্থার জেলা শাখা প্রতিষ্ঠা করেছিল ১৯৮২ সালে। মসজিদ মিশন সংস্থা জামায়াতে ইসলামীর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি সংস্থা। এতদিন মসজিদ মিশন সংস্থার মনোনীত ব্যক্তিরাই মসজিদ মিশন একাডেমী পরিচালনা করতেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আড়ালে প্রতিষ্ঠানটিতে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড হতো বলেও অভিযোগ করেছেন সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা।
এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের অনেকেই একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য। গত বছরের জুলাইয়ে রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা সংবাদ সম্মেলন করে এসব তুলে ধরেন। এরপর মসজিদ মিশনকে ঢেলে সাজানোর দাবিতে রাজশাহীর বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠন ও বিভিন্ন বাম সংগঠন মাঠে নামে।
আজ বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটির আগের লোগো বাদ দেয়া হলো।
জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল লোগোটি পরিবর্তন করিয়েছেন। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন লোগো উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশাও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মসজিদ মিশন একাডেমীর শিক্ষকরাও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘আমরা দেশে একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চাই। বহুমুখী শিক্ষাব্যবস্থা জাতিকে নানাভাবে বিভ্রান্ত করে। তবে এ রকম ধারণা যেন না আসে যে, ধর্ম সম্পর্কে আমাদের মনোভাব নেতিবাচক। মসজিদ মিশন একাডেমীর নতুন লোগোটি খুব সুন্দর হয়েছে। এ জন্য আমি জেলা প্রশাসককে অভিনন্দন জানাই।’
তিনি বলেন, ‘রাজশাহী শহরের একেবারে প্রাণকেন্দ্রে মসজিদ মিশন একাডেমী। মধ্যশহরে মসজিদ মিশন রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের কাছাকাছি পর্যায়ের একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হতে পারে। আমরা সেইভাবেই প্রতিষ্ঠানটিকে গড়ে তুলতে চাই। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির এখনও ৬৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত নন। তারাও যেন এমপিওভুক্ত হতে পারেন আমরা সেই বিষয়টিও দেখব।’
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল বলেন, ‘স্বাধীনতার এত বছর পরও আমাদের দেশের একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লোগোতে পাকিস্তানের পতাকার মতো কোরআনের আয়াত ও ‘চাঁদ-তারা’ লোগো থাকবে সেটা আসলে হতে পারে না। এ জন্য একমাস আগে লোগোটি পরিবর্তন করতে বলেছিলাম। সেটা হয়েছে। লোগোটি পরিবর্তনের ফলে আমরা আমাদের চিন্তা-চেতনায় আরও একধাপ এগিয়ে গেলাম।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. কামরুজ্জামান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের রাজশাহীর উপ-পরিচালক ড. শরমিন ফেরদৌস চৌধুরী, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন, মসজিদ মিশন একাডেমীর অধ্যক্ষ নুরুজ্জামান খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে নিয়ে সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা ও জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল মসজিদ মিশন একাডেমীর নতুন লোগোর মোড়ক উন্মোচন করেন।
লোগো পরিবর্তনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্কুলের বেশিরভাগ শিক্ষক ও সাবেক ও বর্তমান ছাত্ররা।।
কারন কোরআনের আয়াত বা চাঁদ তারা প্রায় সারা বিশ্বে মুসলিম রাষ্ট্রের পতাকা তে রয়েছে কিন্তু বাংলাদেশে নেই। এতে তো আমরা দাবি করছি না পতাকা তে সংযোজন করতে কিন্তু একটি ইসলামী সংগঠন এর কোরআনের আয়াতের লোগো পরিবর্তন করে নতুন লোগো দেওয়া মুসলিমদের সাথে বেইমানি করা।। চাঁদ তারা ও কোরআনের আয়াত সারা বিশ্বের সাথে মিলে যাবে।। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের পতাকার রঙের তৈরি পোশাকে রাজনৈতিক দলের নেতারা চলে তবে কি উনারা ভারতের পক্ষে আর বাংলাদেশের বিপক্ষের ব্যাক্তি।
উক্ত স্কুলের কিছু সাবেক শিক্ষকরা জানান যো আমরা মুসলিম হিসেবে এর তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।।


