📝তালহা জাহিদঃ বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বিলাঞ্চলের অনান্য ইউনিয়নের মতো হারতা ইউনিয়নের বাকি দশটি গ্রামের মতো জামবাড়িও বছরের ছয় মাস পানিতে ডুবে থাকে। বিস্তীর্ণ জলাভূমির মধ্যে দ্বীপের মতো জেগে থাকে শুধু বাড়িঘর। পাঁচ-সাত বছর আগেও এই নিচু জমিতে বছরে শুধু একটি ফসল হতো, সেটি বোরো মৌসুমের ধান। আর কিছু রবিশস্য। আশ্বিন-কার্তিক মাস এলেই ঘরে ঘরে অভাব তৈরি হতো। শাপলা-শালুক খেয়ে দিন কাটাত দরিদ্র মানুষ।
এখন দিন বদলে গেছে। সুদিন এনেছে মাছচাষ। গ্রামের পর গ্রামজুড়ে নিচু জমিতে গড়ে উঠেছে মাছের ঘের। বর্ষায় সেই ঘেরে মাছ বড় হয়। নভেম্বর-ডিসেম্বরে সেই মাছ ধরা হয়। শীতে হয় ধানের আবাদ। বড় বড় ঘেরে মাছ দ্রুত বড় হয়। ধানের ফলন হয় অন্য জমির চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। মাছ ও ধান ওই এলাকাকে এখন সমৃদ্ধ জনপদে পরিণত করেছে। অজপাড়াগাঁয়ের মানুষ পেয়েছে সুদিনের স্বাদ।
মাছের অর্থনীতি হারতা, জল্লা ও সাতলা ইউনিয়নে নানা পরিবর্তন এনেছে। ওই অঞ্চলে দুটি বড় মাছের পাইকারি বাজার তৈরি হয়েছে। মাছ বিক্রি বাবদ কোটি কোটি টাকা প্রতিবছর গ্রামের মানুষের হাতে যাচ্ছে। সেই টাকায় উজিরপুরের সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের আমানত বাড়ছে। পণ্যের ভোগ, শিক্ষা, চিকিৎসায় অর্থ ব্যয়ের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। নতুন নতুন দোকান খুলছে। মাছ চাষ, ধরা ও পরিবহনকে কেন্দ্র করে নানা পেশায় তৈরি হয়েছে সম্ভাবনা মূলক কর্মসংস্থান।


