নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস আইনের 138 ধারার অধীনে চেকের মামলার বর্তমান বিচার ও আপিল প্রক্রিয়ার বৈষম্য নিরসনে হাইকোর্টের নির্দেশ
এখন থেকে চেক ডিজঅনার মামলা শুধুমাত্র যুগ্ম দায়রা জজ আদালতে শুনানি হবে, এবং যুগ্ম দায়রা জজ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দায়রা জজ আদালতেই আপিল করতে হবে। বিচারপ্রার্থীকে আপীল দায়ের করতে আর হাইকোর্টে আসতে হবে না ।
নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রোমেন্টেস আইনের ধারা ১৩৮ ধারার চেক ডিজঅনারের মামলা ইতিপূর্বে যুগ্ম দায়রা জজ এবং অতিরিক্ত অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে শুনানি হতো। দায়রা জজ আদালত নির্ধারণ করতেন মামলাটি কোন আদালতে শুনানীর জন্য পাঠানো হবে। কোন মামলা যদি যুগ্ম দায়রা জজ আদালত শুনানি করে রায় দিতেন তাহলে সাজাপ্রাপ্ত আসামী দায়রা জজ আদালতে আপিল করার সুযোগ পেতেন। কিন্তু একই অপরাধের জন্য একই পরিমাণ শাস্তি হলেও মামলাটি যদি অতিরিক্ত দায়রা জজ অথবা দায়রা জজ আদালতে শুনানি হয়ে রায় হতো তাহলে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আপিল করার জন্য হাইকোর্ট বিভাগে আসতে হতো। এই বিধানটি বৈষম্যমূলক যাহা বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ 27 এবং 31 এর সাথে সাংঘর্ষিক। রায়ের নির্দেশনা মতে ১৩৮ ধারার চেকের মামলার বিচার কেবলমাত্র যুগ্ম দায়রা জজ আদালত করতে পারবে। দায়রা জজ অথবা অতিরিক্ত দায়রা জজ চেকের মামলার বিচার করতে পারবেন না।
আজ মাননীয় বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ এবং খোন্দকার দিলীরুজ্জামান এর দ্বৈত বেঞ্চ তিনটি রিট পিটিশনের রুল শুনানি করে উক্ত নির্দেশনা প্রদান করিয়াছেন।
আদালত একই সাথে উক্ত নির্দেশনা প্রত্যেক জেলা ও দায়রা জজ আদালত অবহিত করার জন্য বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল এবং হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্টারকে নির্দেশ দিয়েছেন। দেশের সকল জেলা ও দায়রা জজ উক্ত নির্দেশনা অবহিত হইবার পরবর্তী 15 দিনের মধ্যে অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত অথবা দায়রা জজ আদালতে চলমান 138 ধারার সকল মামলা বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট দায়রা জজ আদালতে প্রেরণ করতে হবে এবং চলমান মামলাগুলো বর্তমানে যে পর্যায়ে রয়েছে ওই পর্যায় থেকেই পরবর্তী শুনানি চলমান থাকবে।
ফলশ্রুতিতে চেকের মামলায় রায়ের সাজার বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা যাবেনা। আপিল শুধুমাত্র দায়রা জজ আদালতে করা যাবে। মহামান্য হাইকোর্টের আজকের রায় নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস আইন এর ১৩৮ ধারার অধীনে চেকের মামলার বিচার, আপিল এবং রিভিশন এর ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন যাবত চলে আসা বৈষম্যমূলক বিধানের অবসান ঘটল। একই সাথে সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের খরচ এবং হয়রানি অনেকাংশে কমবে বলে আশা করছি। বিচার প্রার্থীদের মধ্যে চলমান বৈষম্য দূর হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর থানার এ এ এম জিয়াউর রহমান এর বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড কর্তৃক দায়ের কৃত চাঁপাইনবাবগঞ্জের যুগ্ম দায়রা জজ আদালতে চলমান 138 ধারার অধীন তিনটি চেকের মামলার কার্যক্রম চ্যালেঞ্জ করে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন রিট পিটিশন দায়ের করেন। 2018 সালে হাইকোর্ট বিভাগ তিনটি মামলায় ভিন্ন ভিন্ন রুল জারি করেন উক্ত রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে আজ তিনটি মামলায় উপরোক্ত নির্দেশনা প্রদান করেন।
উক্ত রিটপিটিশনের আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব, সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার, ব্যারিস্টার মাজেদুল কাদের এবং ব্যারিস্টার মোজাম্মেল হক।
Courtesy Pallob Kabir M Humaun


