সব
facebook apsnews24.com
মা-ই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক - APSNews24.Com

মা-ই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক

মা-ই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ক্ষেত্রে একজন শিক্ষক একটি ছাত্র বা ছাত্রীর প্রতি যেমন নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে সমাজের একজন আদর্শ ও নীতিবান ব্যক্তি হতে সাহায্য করে ঠিক তেমনি একজন মা তার পরিবারে সন্তানকে সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য এবং প্রত্যাহিক জীবনে আদর্শবান সন্তান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সবচাইতে মহান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। সন্তান কি করে, সে কি ভাবে পড়াশুনা করে, নাকি করে না, ঠিকমত স্কুলে বা কলেজে যায়, কি যায় না। সময় মত ঘুমায়, না ঘুমায় না। সারারাত জেগে মোবাইলে ফেসবুক দেখে, না দেখে না। অন্য কোন অপকর্মের সাথে জড়িত বা না, সবই জানেন শুধুমাত্র একজন মা। সুতরাং সন্তান লালন পালন করার ক্ষেত্রে একজন মায়ের দায়িত্ব ও কর্তব্য অনেক বেশী। সেই পরিবারের সবচাইতে বড় শিক্ষক তিনি। মা যদি তাকে সৎ হতে শেখায়, পড়াশুনার প্রতি আগ্রহী হতে শেখায়, প্রতিদিন খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতে শেখায়, প্রতি সকালে ও সন্ধ্যায় পড়ার টেবিলে বসতে শেখায়, কিভাবে বড়দের সাথে ও ছোটদের সাথে আচরন করতে হবে শেখায়, প্রতিদিন সময়মত স্কুলে ও কলেজে যেতে হবে এবং সময়মত বাড়ী ফিরতে হবে শেখায়, শিষ্ঠাচার আচার আচরন ব্যবহার সম্বন্ধে একটু শিক্ষা দেয় প্রত্যেক দিন যে যে ধর্মের তার প্রার্থনা করতে হবে ইত্যাদি শিক্ষা দেয় তবে সে সন্তান কখনও সমাজে কুন্তান হিসাবে পরিচিত হতে পারে না। সে সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে, পরিবারের প্রত্যেকের কাছে অতি প্রিয় সৎ দক্ষ মেধাবী এবং আদর্শবান সন্তান হিসাবে পরিচিতি লাভ করে এবং বাবা ও মা উক্ত সন্তানের শ্রেষ্ঠ অভিভাবক হিসাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। কিন্তু আমার কাছে যেটি মনে হয়েছে সেটা একজন সন্তান নষ্ট হওয়ার মূলেই মা। মা যদি উদাসীন হয় সে সন্তান বিপদগামী হবেই তাতে কোন সন্দেহ নাই। দেখা গেছে যে, প্রায় মায়েরা সন্তানের প্রতি সামান্য দায়িত্বটুকু ও পালন করে না। সন্তান ঠিকমত স্কুলে গেল কিনা পড়াশুনা করলো কিনা, খারাপ ছেলে বা মেয়েদের সাথে আড্ডা দেয় কিনা, এগুলির কোন খোঁজ খবর ও রাখেন না। এটা ঠিক হবে না, মা যদি সন্তানের প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালন না করে সে সন্তান কোন দিন সৎ বা ভাল হতে পারে না। সে কুরুচি সম্পন্ন ব্যক্তির সংঙ্গে সঙ্গ দেবার কারনে একদিন সন্ত্রাসী হয়ে উঠে, মাদকাসক্ত হয়ে ওঠে এবং সমাজের সমস্ত অন্যায় অত্যাচার এবং অসামাজিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হতে পারে, এর জন্য কোন এলাকার লোকজন বা কোন শিক্ষক দায়ী নহে। আমার দৃষ্টিতে শুধু মা-ই দায়ী । মা-ই পারে তার সন্তানকে সু পথে ফিরিয়ে আনতে। এর জন্য তাকে কিছু দায়িত্ব পালন করতে হবে। সন্ধ্যা হলেই মাকে-ই সন্তানের পাশে বসতে হবে তার পড়াশুনার জন্য তাগিদ দিতে হবে, নিজেই তাকে পড়াতে হবে, তাকে প্রয়োজনে খাবার খাইয়ে দিতে হবে এবং এমনকি ঘুমাবার আগ পর্যন্ত তার সাথে থাকতে হবে। আবার খুব ভোর বেলা বা ফজরের আজানের পরপরই তাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলতে হবে এবং সন্তানের পাশে থেকে তাকে পড়া শোনার তাগিদ দিতে হবে। কখন কোন ক্লাস, কখন ছুটি হবে, কোন সময়ের ভিতরে ঘরে ফিরতে হবে এ ব্যাপারে ও মাকে সজাগ দৃষ্টি দিতে হবে। মাঝে মাঝে স্কুলে বা কলেজে যেয়ে সন্তানের খোঁজ খবরও নিতে হবে এমনকি প্রয়োজনে শিক্ষকদের কাছে টেলিফোন বা মোবাইলের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতে হবে এবং প্রতি সপ্তাহে বা মাসে একবার পরিবারের সবাইকে নিয়ে কোন পার্কে বা কোন আতœীয় স্বজনের বাড়ীতে বেড়াতে যেতে হবে কারন প্রত্যেকটি সন্তানের বিনোদনের ও মনরঞ্জনের এবং হৃদয়ে আনন্দের প্রয়োজন আছে। এই ভাবে যদি আমাদের দেশের প্রত্যেকটি মা সন্তানের প্রতি দায়িত্ব পালন করে হয়তোবা কোন সন্তানই নষ্ট হতে পারবে না। একদিন তারা দেশের সুসন্তানে এবং সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদে পরিনত হবে। তাই আমার মতে মায়েদেরকে সন্তানের প্রতি এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সজাগ দৃষ্টি দিতে হবে এবং প্রত্যেক মাকে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি বাড়ির চারদিকে যে সমস্ত প্রতিবেশী বা পরিবার বাস করে সে সমস্ত পরিবারের মায়েদেরকেও সন্তান সুষ্ঠভাবে লালন পালন করার জন্য সচেতন করতে হবে। তাই যদি আমরা করতে পারি দেখা যাবে একদিন দেশের একপ্রান্ত হতে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত কোন মাকে বাবাকে বা পরিবারের অন্য সদস্যকে দুশ্চিন্তায় পড়তে হবে না। সমাজে কিশোরদের যে অপরাধ সে প্রবনতা অনেকটা কমে যাবে। ধর্ষন এর মত অপরাধও ছেলে মেয়েরা করতে সাহস পাবে না। মায়েদের যেমন দায়িত্ব বা কর্তব্য আছে বাবারা শত কাজের ভিতর ব্যস্ত থাকা স্বত্বেও সন্তানের দিকে একটু খেয়াল দিতে হবে এবং বিশেষ করে এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। সুতরাং আমরা সবাই মিলে আমাদের সন্তানের প্রতি যতœবান হবো। একদিন দেখা যাবে দেশের সর্বত্রই বাবা মায়েরা নিশ্চিন্তে সমাজে বসবাস করতে পারবে। দেশের কোথাও কোন বাবা মাকে সন্তানদেরকে নিয়ে আর ভাবতে হবে না। সুতরাং প্রত্যেকটা সন্তানের সুন্দর আগামী গড়ে তোলার জন্য আমরা একটু সময় সন্তানদের পিছে ব্যয় করি। সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন এবং করোনা কালে পরিবারের সকল সদস্যকে সুরক্ষা করুন।

লেখকঃ জহিরুল ইসলাম শাহীন
সহঃ অধ্যাপক
বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজ
কলারোয়া, সাতক্ষীরা।

  • 10
    Shares

আপনার মতামত লিখুন :

পারিবারিক আদালতে  কখন, কিভাবে যাবেন ও সমাধান

পারিবারিক আদালতে কখন, কিভাবে যাবেন ও সমাধান

অভিভাবকেরা দায় এড়াবেন কিভাবে?

অভিভাবকেরা দায় এড়াবেন কিভাবে?

ধর্ষণ : আমাদের সতর্কতা

ধর্ষণ : আমাদের সতর্কতা

পরিবহনগুলোকে সিসিটিভির আওতায় আনা প্রয়োজন।

পরিবহনগুলোকে সিসিটিভির আওতায় আনা প্রয়োজন।

বেকারত্ব অথবা আইন সনদ নিবন্ধন পদ্ধতি সংস্কার

বেকারত্ব অথবা আইন সনদ নিবন্ধন পদ্ধতি সংস্কার

অর্থপাচারকারীরা রাষ্ট্রের প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস

অর্থপাচারকারীরা রাষ্ট্রের প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার: ApsNews24.Com (২০১২-২০২০)

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ নুরুন্নবী চৌধুরী সবুজ
01774-140422
প্রকাশকঃ আইনী পাঠশালা গ্রুপ
২২ চ্যামেলীবাগ (সিআইডি অফিসের পাশে) রমনা থানা, ঢাকা-১০০০।
01625-461876, 01771-784299
[email protected], [email protected]
Developed By Feroj

ব্রেকিং নিউজ