সব
facebook apsnews24.com
বিচারব্যবস্থা, নতুন অধ্যাদেশ এবং করনীয় - APSNews24.Com

বিচারব্যবস্থা, নতুন অধ্যাদেশ এবং করনীয়

বিচারব্যবস্থা, নতুন অধ্যাদেশ এবং করনীয়

তাইমুম আলী আহাদ

যেদেশে Access to Justice এর A পর্যন্ত নেই সেইদেশে বিধিতে শাস্তি মৃত্যুদন্ড রেখে দিলে ধর্ষণের অপরাধ কমে যাবে ভাবলে বোকার স্বর্গে বসবাস করছেন। আন্দোলন করে ধর্ষনের শাস্তি মৃত্যুদন্ড নিয়ে রাজপথ থেকে ফিরে আসার পথে একবার ভাবুন, আপনি নিরাপদ ত? ফিরতে পথে ধর্ষনের যে স্বীকার হবেন না তার নিশ্চয়তা কোথায়? কিংবা ভাবুন নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের কথা। কঠোর আইন ত পেয়েছেন, সড়ক দূর্ঘটনা কমেছে কি?

বেশিদিন হয়নি মাদকাসক্ত এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার “মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ পাশ করে, ১৯৯০ সালের আইনটি বাতিল করে কঠোর শাস্তির বিধান সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড রেখে আইনটি পাশ করা হয়। সরকার এক কথায় মাদকবিরোধী যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলো চলছিল ক্রসফায়ার যার সর্বশেষ পরিনতি হিসেবে ওসি প্রদীপ কান্ড। মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকাসক্তি থেকে দেশের তরুন সমাজকে কতটুকু বাঁচাতে পেরেছি? কমেছে কি মাদকের ভয়াবহ জাল? বরং কতো নীরহ মানুষের জীবন চলে গেছে এবং হাজার হাজার লোক হয়রানির শিকার হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই।

এবার আসি ভারতে ২০১২ সালে দিল্লি গ্যাংগ রেপ এর পর চাইল্ড রেইপ হলে মৃত্যুদন্ডের বিধান করা হয়েছিলো কিন্তু পরিসংখ্যান বলে ভারতে বর্তমানে রেইপ বেড়েছে ১.২ গুন। সমাজতত্ব এবং ক্রিমিনালজি বলে অপরাধের শাস্তি যদি নিশ্চিতও করেন (সর্বোচ্চ) কেনো অপরাধ যে তাতেই কমে যাবে তা মোটেই নয়। প্রত্যেকটি বিশেষ অপরাধ একটি সমাজে ব্যাপক আকার ধারন করার পেছনে একই সাথে একাধিক বিষয় কাজ করে। যার ফলে কারনগুলি চিহ্নিত করে preventive meausre রাষ্ট্র কে নিতে হবে অপরাধের সংঘটনের আগেই , সেখানে সংঘটিত অপরাধের শুধুমাত্র শাস্তির বিধান কঠোর করে কিংবা নিশ্চিত করার মধ্যে দিয়ে অপরাধ প্রবণতা কমে যাবেনা।

অপরাধের শাস্তি নির্ধারন যা আপাত দৃষ্টিতে সহজ এবং “popular demand” মনে হলেও বিষয়টি মোটেই এত সহজ নয় এবং তাতে ব্যাপক গবেষণার দরকার। ২০০০ সালে এক ধরনের অপরাধ আমাদের সমাজে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে নারীকে এসিড নিক্ষেপ, অপরাধটি কিন্তু বর্তমানে নেই বললেই চলে। আবার তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লবের ফলে সাইবার অপরাধ বাড়ছে আজকাল অপরাধ সংগঠনের অন্যতম মাধ্যম হয়ে দাড়িয়েছে সাইবার জগত। নতুন নতুন মাধ্যমে নতুন নতুন অপরাধ সৃষ্টি হচ্ছে কোনটা ব্যাপকভাবে, হিউম্যান সাইকোলজি, সমাজতত্ত্ব, গবেষণার মাধ্যমে সামাজিক প্রতিরোধের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। এগিয়ে আসতে হবে সমাজ কেউ। অপরাধ -পুলিশ -আদালত- শাস্তি এর বাহিরেও আছে বিশাল জগত।

আমি জোরালোভাবে মনে করি আমাদের বর্তমান প্রানহীন দীর্ঘসূত্রী বিচারব্যবস্থায় ধর্ষনের শাস্তি মৃত্যুদন্ড হয়ে যাওয়ায় সমস্যার সমাধান নয় বরং উল্টোটা ঘটবে, কারন একটি গবেষনায় দেখা যায় ধর্ষণের বেশিরভাগ মামলায় মিথ্যে মামলা হয়ে থাকে। আবার ধর্ষনের শাস্তি এবং খুনের শাস্তি এক হয়ে যাওয়ায় ধর্ষন এবং হত্যা একই সঙ্গে সংঘটিত হওয়ার সম্ভবনা বাড়বে। ভিক্টিম কে বাঁচিয়ে রাখবেনা কেননা শাস্তি একই হওয়ায় এবং ধর্ষনের চেয়ে হত্যা মামলা প্রমান করা কঠিন;ভিক্টিমকে বাঁচিয়ে রেখে আাসামী কেন ফাঁসিতে ঝুলবে। যাই হউআধুনিক ক্রিমিনাল জুরিসপ্রুডেন্স ( পেনাল ল)) এর দৃষ্টিকোন থেকে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদন্ড হওয়া কাম্য নয়।

আর আমাদের দেশের বর্তমান শতবর্ষী জাস্টিস সিস্টেমের ব্যর্থতা এবং এর পেছনের মেজর কারনগুলি আমরা মোটামুটি সবাই অবগত। মৃত্যুদন্ডের অধ্যাদেশ পাশ হয়েছে কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি বরং হিতে বিপরীত হওয়ার শংকা রয়েছে। প্রকৃত সমস্যা সমাধানে আন্দোলনকারীদের ঘরে না ফিরে কিছু দাবী সরকারের সামনে নিয়ে আসা জরুরী। সর্বপ্রথমে প্রয়োজন বাংলাদেশ পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সংশোধন; এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা; কেননা সুষ্ঠ ন্যায় বিচার সম্ভব নয় মামলার তদন্তকারী সংস্থা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে এই এজেন্সির ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আইন কমিশনের অনেক সুপারিশ আছে তা নিয়ে সরকার বাস্তবায়ন করেনি আজ পর্যন্ত। Victims compensation and witness protection Act পাশ করতে সরকারকে বাধ্য করুন। Digital electronic evidence সরাসরি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহনে evidence Act 1882 সংশোধন জরুরী। অনেক বছর থেকে এগুলি সুপারিশ অবহেলায় পরে আছে সরকারের সামনে। আমাদের দেশের বিচার ব্যবস্থায় সবচেয়ে জরুরী ভিকটিম কে কোর্টের আঙ্গিনা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া। অর্থ্যাৎ Access to Justice নিশ্চিত করা সেখানে মোটের উপর মানবাধিকার সংস্থা, বেসরকারি এনজিও এবং সংস্থাগুলিকে সর্বোপোরি সমাজের বৃহত্তর বিবেককে এগিয়ে আসতে হবে।

সোশাল মিডিয়া এবং ভাইরাল মামলার বিচার সরকার কে করতে হয় তোড়জোড় থাকে “popular demand” এর কারনে কিন্তু যেগুলি মিডিয়ায় আসেনা সেখানে কি হচ্ছে আমরা তা আমরা কিছুটা উপলব্ধি করতে পারছি। দন্ডিত করার রেট বাড়াতে হবে, দক্ষ বিচারক নিয়োগের পরিমান বাড়াতে হবে পাশাপাশি প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ অপরাধগুলির ক্ষেত্রে সরাসরি ট্রাইবুনালে ভিকটিমকে complain আকারে মামলা করার বিধান নিশ্চিত করতে হবে।” বিচারবিভাগীয় তদন্ত” এর ক্ষেত্র প্রসারণ এবং সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সর্বশেষে Adversarial common law বিচারব্যবস্থা থেকে বের হয়ে আসার কথাও ভাবতে হবে। এখনই সময় আসুন আওয়াজ তুলি।

লেখকঃ তাইমুম আলী, শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

  • 61
    Shares

আপনার মতামত লিখুন :

পারিবারিক আদালতে  কখন, কিভাবে যাবেন ও সমাধান

পারিবারিক আদালতে কখন, কিভাবে যাবেন ও সমাধান

অভিভাবকেরা দায় এড়াবেন কিভাবে?

অভিভাবকেরা দায় এড়াবেন কিভাবে?

ধর্ষণ : আমাদের সতর্কতা

ধর্ষণ : আমাদের সতর্কতা

পরিবহনগুলোকে সিসিটিভির আওতায় আনা প্রয়োজন।

পরিবহনগুলোকে সিসিটিভির আওতায় আনা প্রয়োজন।

বেকারত্ব অথবা আইন সনদ নিবন্ধন পদ্ধতি সংস্কার

বেকারত্ব অথবা আইন সনদ নিবন্ধন পদ্ধতি সংস্কার

অর্থপাচারকারীরা রাষ্ট্রের প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস

অর্থপাচারকারীরা রাষ্ট্রের প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার: ApsNews24.Com (২০১২-২০২০)

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ নুরুন্নবী চৌধুরী সবুজ
01774-140422
প্রকাশকঃ আইনী পাঠশালা গ্রুপ
২২ চ্যামেলীবাগ (সিআইডি অফিসের পাশে) রমনা থানা, ঢাকা-১০০০।
01625-461876, 01771-784299
[email protected], [email protected]
Developed By Feroj

ব্রেকিং নিউজ