সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণের বেশ কিছু সংবাদে জনগণ বিব্রত ।
বর্তমানে ধর্ষণ ভয়াবহ মাত্রায় বেরেছে,আমরা শুধু ঐ সকল সংবাদ গুলো জানতে পায় যা প্রকাশ্যে আসে। গত ৯ মাসে ধর্ষণের স্বীকার হয়েছে ৯৭৫ জন। এই প্রকাশ ঘটনার বাইরেও যে ঘটনাগুলো আছে তা যদি বের করা যায় তাহলে তা আতকে উঠার মতই হবে।
“যৌনতা হচ্ছে মানুষের একটি অপরিহার্য বিষয়,আর এই যৌনতার বিকৃত রূপই হচ্ছে ধর্ষন” এই যেীনতার শিক্ষার অভাব ও নানা মাত্রিক সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতি বা পর্ণের প্রভাব অকাল পক্ক করে তুলছে কিশোর থেকে বৃদ্ধদের। যারা ধর্ষণ করছে তাদের একটা বড় অংশ ক্ষমতার সাথে বসবাস করে ও নানা রকমের অপরাধ কর্মের সাথে যুক্ত। পেশা ও আয় যদি সামজ্ঞস্য না হয় তার থেকে যেমন হতাশা আছে তেমন পারিবারিক বন্ধনও প্রভাব ফেলে মনের উপর।
আমরা যদি বাংলাদেশের ধর্ষণের সঙ্গা নিরুপন করি তবে তা হলঃ“যদি কোন পুরুষ বিবাহ বন্ধন ব্যতীত ষোল বৎসরের অধিক বয়সের কোন নারীর সাথে তার সম্মতি ছাড়া বা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলকভাবে তার সম্মতি আদায় করে, অথবা ষোল বৎসরের কম বয়সের কোন নারীর সাথে তার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন সঙ্গম করেন, তাহলে তিনি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করেছেন বলে গণ্য হবেন।”
ধর্ষণের পিছনে যে বিষয় গুলো দায়ী তা নিম্নরূপঃ
★ধর্ষণের পিছনে যৌনতা প্রধানত দায়ী নয়,মূলত ধর্ষণের পিছনে ক্ষমতা প্রদর্শনই প্রথমত দায়ী।
কেননা,আমি পুরুষ আমি চাইলে কোন নারীর সাথে যৌন সংঙ্গম করতে পারি এই প্রবনতা আমাদের মধ্যে কাজ করে।
আবার,
আমরা যদি আরেকটু গভীরভাবে বিষয়টা পর্যালেচনা করি তবে দেখবো,সাম্প্রতিক যতগুলো ধর্ষণের ঘটনা ঘটনা ঘটেছে তার সিংহভাগই ক্ষমতাসীনদের দ্বারাকৃত।তাই আমারা বলতেই পারি ধর্ষণের পিছনে ক্ষমতার এক চরম প্রভাব রয়েছে।
★একমুখি চিন্তা ধর্ষণের পিছনে আরেকটি বড় কারণ,সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া ধর্ষণের পিছনে একটা বড় অংশ হল মাদ্রাসার শিক্ষক!।
কেননা আমরা যদি একটু অন্য দৃষ্টিকোন থেকে চিন্তা করি তবে দেখবো যে,মাদ্রাসায় কেবল ধর্মীয়পুস্তক অধ্যায়ন করানো হয়,যা তাদের মস্তিষ্ককে একমুখী করে তোলে।আর তার ফলস্বরূপ তারা ধর্ষণের মত জঘন্য কাজে লিপ্ত হয়।
★নারী স্বাধীনতার অভাব,এই সমাজ ব্যবস্থায় ধর্ষিত নারীদের কলঙ্কিনি আখ্যায়িত করা হয়,আর এই বিষয়টি ধর্ষণের পিছনে চরমভাবে দায়ী, কেননা অনেক ক্ষেত্রেই ধর্ষিত নারীরা সামাজিক কলঙ্কের ভয়ে তা স্বীকার করতেই চাইনা যে তাঁরা ধর্ষিত হয়েছে।
★সেক্স এডুকেশনের অভাব ধর্ষণের পিছনে দায়ী,আমাদের এই দেশে সেক্স একটি অতি কল্পিত বিষয় যা ধর্ষণের পিছনে চরমভাবে ভাবে দায়ী।
সরকারের উচিত ধর্ষণের বিষয়ে জোর দার করে এই সমাজকে ধর্ষণের মত কলঙ্ক থেকে মুক্তি দেওয়া।
তাই আমিও শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ভাষায় বলতে চাই
“সব শিশুর বাসভূমি এই সবুজ মৃত্তিকায়
নিঃশ্বাসের হাওয়াতে বারুদের বিষ ছড়ায়
ধ্বংস নয় যুদ্ধ নয় ফুল ফোটাও গন্ধরাজ
তোলো আওয়াজ”
নাহিদ হাসান
শিক্ষার্থী আইন বিভাগ(নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি,খুলনা)


