আব্দুম মুনিব, কুষ্টিয়া ঃ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ গত বছরের ৬ অক্টোবর গভীর রাতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নির্মম নির্যাতনে নিহত হন। পরিবারের প্রিয় সন্তানকে অকালে হারানোর বেদনা কোনভাবেই ভুলতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। এখনো শোকের মাতম আবরারের কুষ্টিয়ার বাড়িতে। এক বছরেও কান্না থামেনি আবরারের মা রোকেয়া খাতুনের। বাড়িতে কেউ গেলেই কান্না ভেঙ্গে পড়েন তিনি। এক বছরের স্মৃতিচারন করতে যেয়ে আবরারের মা রোকেয়া খাতুন ওড়না দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে বলেন, আবরারের হত্যা মামলার এজহার আমি এখনো পড়িনি। ওরা কিভাবে আমার ছেলেকে মেরেছে এসব পড়লে আমি সহ্য করতে পারবো না। তবে মন শক্ত করে রেখেছি মামলার রায় ঘোষনার পর এজাহারটি পড়ে দেখবো, ওরা কত কষ্ট দিয়ে আমার সোনার ছেলেকে মেরেছে।
তিনি বলেন, বুয়েটে চান্স পাওয়ার আমি আবরারকে ক্যাম্পাসের হোস্টেলে রাখতে যায়। কিন্তু বুয়েট কর্তৃপক্ষে টাঙ্গানো তালিকায় আবরার ফাহাদের নাম আসে না। পরে আমি প্রভোষ্টের সাথে দেখা করি। আরেকটি তালিকা টাঙ্গানো হবে বলে তিনি আমাকে অপেক্ষা করতে বলেন। দ্বিতীয় তালিকায় আবরারের থাকার হোস্টেলের তালিকায় ক্যাম্পাসের ভিতরের মসজিদের নাম আসে। তখন প্রভোষ্টের সাথে দেখা করলে তিনি বলেন, ওদের জন্য মসজিদই নিরাপদ। কিন্তু সেসময় আমি প্রভোষ্টের সেই কথার ইশারা বুঝতে পারিনি। তখন তার কথার ভাষা বুঝতে পারলে আমি আবরারকে কখনোই বুয়েটে ভর্তি করতাম না।
এদিকে আবরার ফাহাদের মৃত্যুর এক বছরেও স্থানীয় সাংসদের দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। সেসময় কুমারখালী-খোকসা (কুষ্টিয়া-৪) আসনের এমপি ব্যারিষ্টার সেলিম আলতাফ জর্জের আবরারের রায়ডাঙ্গার বাড়িয়ে যেয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসেন। এরমধ্যে আবরার ফাহাদের বাড়ির সামনে টিন দিয়ে ঘেড়া মসজিদ পাকাকরণ, আবরারের সমাধিস্থ রায়ডাঙ্গা গোরস্থান উন্নয়ন ও বাড়ির সামনের রাস্তাটি আবরার ফাহাদের নামে নামকরণের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। এক বছর অতিবাহিত হলেও এসব প্রতিশ্রুতির একটিও বাস্তবায়ন হয়নি।
আবরারের ৭০ বছরের বৃদ্ধা দাদি হাজেরা খাতুন বলেন, নাতি মারা যাওয়ার পর কতো মানুষ বাড়িতে আসতো। এখন কেউ আসে না। তিনি বলেন সেসময় এমপি সাহেব বাড়িতে এসে মসজিদ ও গোরস্থান উন্নয়নের কথা বলেছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন উন্নয়নতো হতে দেখিনি।
কয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম স্বপন বলেন, আবরার ফাহাদ আমাদের আত্মীয়। আমি মাঝে মাঝে তাদের পরিবারের খোঁজ-খবর নেই। তবে মসজিদ ও গোরস্থানের উন্নয়নের ব্যাপারে আমার জানা নেই।
কুমারখালী-খোকসা (কুষ্টিয়া-৪) আসনের সাংসদ ব্যরিষ্টার সেলিম আলতাফ জর্জ বলেন, আবরারের বাড়ির সামনের মসজিদ ও রায়ডাঙ্গা গোরস্থানের উন্নয়নের কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হবে। করোনা পরিস্থিতির কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তিনি বলেন, সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রকল্প দুইটির জন্য ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এলজিইডির কাছে তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে। অর্থ ছাড় হলেই কাজ শুরু হবে।


