দিন দিন বেড়েই চলেছে ধর্ষণের মাত্রা। শুধু বাংলাদেশই সীমাবদ্ধ নয়, সারা বিশ্বেই প্যানডেমিকের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে ধর্ষণের মাত্রা। বিপন্ন হচ্ছে একের পর এক তরুণীর জীবন। ধ্বংস হচ্ছে তরুণীদের ইজ্জত ও অবক্ষয় হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধের। হেস্তনেস্ত হচ্ছে হাজারো পরিবার। এই ধর্ষণের পেছনে যাদের হাত রয়েছে তাদের জন্য অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
তবে বর্তমানে যে ধর্ষকদের নির্মূল করার উদ্দেশ্যে “ধর্ষকদের শাস্তি চাই, শাস্তি চাই শাস্তি চাই ” এ মর্মে বিভিন্ন নারীবাদী আন্দোলন দেখা যায়। এতে শুধুমাত্র তরুণদের / পুরুষদের দোষ দেয়া হয়। ধর্ষণের পেছনে যে নারীদেরও হস্তক্ষেপ থাকতে পারে, সেই দিক বিবেচনা করার মতো চিন্তাশীল ও বিচক্ষণ ব্যাক্তির সংখ্যা খুবই কম।
উগ্র নারীবাদীরা বিভিন্ন আন্দোলনে নারী- পুরুষের সমান অধিকার দাবি করে। এটা যৌক্তিক দাবি। কিন্তু সমান অধিকারের দাবীতে তারা স্বাধীনভাবে পুরুষের মতোই চলাফেরা করার ইচ্ছে পোষণ করে। অশালীনভাবে চলাফেরার মাধ্যমে তারা ইচ্ছা মতো নিজেদের অতিমাত্রায় হাইলাইট করার চেষ্টা করে। যার ফলশ্রুতিতে তরুণরা তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে য়ায়। অবশেষে ধর্ষণের মতো ভয়ংকর দূর্ঘটনা ঘটে যায়। সুতরাং এ ক্ষেত্রে পুরুষের সাথে নারীকে আগে দোষারোপ করাটা যৌক্তিকতা নির্দেশ করে। উগ্রনারীবাদীরা হয়তো জানেনা যে, নারী পুরুষের সমান অধিকার বলতে রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রেই পুরুষদের সাথে নারীরাও অংশগ্রহণ করতে পারবে। কিন্তু সেই অংশগ্রহণ হতে হবে শালীনতা সঠিকবাবে বজায় রেখে। এ ক্ষেত্রে সামাজিক মূল্যবোধসহ ধর্মীয় মূল্যবোধ বজায় রাখা আবশ্যক। কেননা ধর্মনিরেপক্ষ বা অসাম্প্রদায়িকভাবে চিন্তা করলেও দেখা যায় যে, কোনো ধর্মেও নারীদের অশালীনভাবে চলাচলের অনুমোদন দেয়া হয়নি। প্রত্যেক ধর্মগ্রন্থেই নারীদের ইজ্জত-সম্মান তথা শালীনতা বজায় রেখে চলাচলের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কিছু উগ্রনারীবাদীরা নিজ ইচ্ছামতো নিজের অস্তিত্বকে জনসম্মুখে হাইলাইট করছে। এতে অবক্ষয় হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধের, বিনষ্ট করছে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে।
আপনিও লিখতে পারেন আমাদের ক্যাম্পাস, শিক্ষা পরিবার, সাহিত্য ও মতামত পাতায় । আাপনার লেখার মাধ্যমে দেশ ও জাতি সমৃদ্ধ হোক।
আপনার লেখা পাঠাতে আমাদের ইমেল করুন [email protected] এই ঠিকানায়।
লেখার সাথে আপনার পরিচয়, ফোন নাম্বার ও ছবি দিবেন। প্রয়োজনে ফোনও করতে পারেন।
গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রুপ ভিত্তিক কিছু তরুণ -তরুণীদের মধ্যে ধর্ষণের বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনা হয়। (গ্রুপ +নেম প্রকাশ করতে আগ্রহী না) সেকানে ধর্ষণের মাত্রা কিভাবে কমানো যায় সেই বিষয়ে কিছু তরুণ যথার্থপূর্ণ যুক্তি উত্থাপন করেন। কিছু নারীও যৌক্তিক বিষয় তুলে ধরেন। কিন্তু কিছু উগ্রনারীবাদী নারী যুক্তি উত্থাপন করেন যে, নারীরা যেমন খুশি বা অশালীন পোশাকে ঘুরে বেড়াবে, পুরুষের সেই নারীর গায়ে হাত দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। যদিও অধিকাংশের মতেই এটি একটি হাস্যকর যুক্তি বা অযৌক্তিক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। নারীর দিকে কু নজরে দৃষ্টিপাত করাটা আইন বিরুদ্ধ। তাই বলে উগ্রনারীবাদী কণ্ঠ নিয়ে যে তারা অশালীনভাবে নিজেদের প্রাইয়োরিটির কথা প্রকাশ করবে সেটাও তো বিধিসম্মত নয়। এছাড়াও তারা বলে – আমরা উগ্রনারীবাদ পছন্দ করি না। তারা যদি সত্যিই উগ্রনারীবাদকে অপছন্দ করেন তাহলে তাদের মধ্য থেকে কেন এমন অশালীন যুক্তি উত্থাপিত হয়?
সুতরাং এটি আর বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, ধর্ষণের মূলে শুধুমাত্র পুরুষই দায়ী। তারা বলে শিশু বা নাবালিকার ধর্ষণের মূলে কি সেই শিশু বা নাবালিকাই দায়ী? না। এ ক্ষেত্রে পুরুষকে দায়ী করা যায়। কিন্তু এর পেছনেও নারীদেরও পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে। কারণ যারা সত্যিকারের ধর্ষক তারা প্রথমেই সরাসরি কোনো শিশু বা নাবালিকাকে ধর্ষণ করেনা। তারা এ রকম অসৎ কাজে লিপ্ত থেকে এবং উগ্রনারীবাদীদের অশালীন কার্যকলাপের বহিঃপ্রকাশের ফলে একসময় নিষ্পাপ শিশুকেউ ধর্ষণ করতে দ্বিধাবোধ করেনা। ধর্ষকের কাছে তো শিশু বা তরুণীর বয়স বিবেচিত হয় না। কোনো নাবালিকার দৈহিক গঠনের প্রভাবও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, ধর্ষণ একটা নেশা হিসেবে বিবেচিত হয়। যার ফলে পূর্বের অশালীন সাবালিকার সাথে যে অভিব্যাক্তি প্রকাশিত হয়, ঠিক সেই রকম কুদৃষ্টি নাবালিকা শিশুর প্রতি ফোকাস করতে ধর্ষকের মধ্যে কেনো দ্বিধাবোধ জাগ্রত হয় না।
পুরো বিশ্ব জুড়ে এখন ধর্ষণের খবর পাতায় পাতায়। পশ্চাত্যে নারী-পুরুষ তরুণ বয়স থেকেই নিজেরাই নিজেদের বেছে নেয়। উপমহাদেশে এই কালচার কে আমরা ঘৃণা করি বা অবৈধ সম্পর্ক বলে থাকি। কিন্তু এটাকে আইন বিরুদ্ধ বলা হলেও উপমহাদেশে বিশেষ করে আমাদের বাংলাদেশের অনেক উগ্রনারীবাদীরা নিজেদের অবৈধ ও অশালীন অধিকার আদায়ের জন্য সেচ্ছার হয়ে ওঠেন। যার ফলে নারীরা পুরুষদের সাথে অবাধে মেলামেশা করতে শুরু করেন। এক সময় দুজনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হলে অসামাজিক ঘটনায় রূপ নেয়। ঘটে যায় ধর্ষনের মতো ভয়ংকর ঘটনা।
সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে বরগুনার রিফাত হত্যার পরিপ্রেক্ষিতে রিফাতের স্ত্রীকে প্রধান আসামি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এতে বোঝা যায় রিফাতের স্ত্রীর সাথে অন্যান্য হত্যাকারীর ছিল অনৈতিক সম্পর্ক। এখানে রিফাত হত্যার ঘটনা না ঘটে ধর্ষণের মতো ভয়ংকর ঘটনা ঘটতে পারতো রিফাতের স্ত্রী মিন্নিকে নিয়ে। এটি উদাহরণসরূপ একটা দৃষ্টান্ত।
এই রকমের ঘটনার পেছনে নারী পুরুষ উভয়ই দায়ী। তবে নারীদের অগ্রসরতা আগে দেখা যায়।
বর্তমান বিশ্বে ধর্ষণের ক্ষেত্রে নারীদের পোশাকের অশালীনতাকেই বেশি প্রভাব বিস্তারকারী বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বে তথা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নারী-পুরুষের অবৈধ সম্পর্ককে স্বীকৃতি দেওয়ার কারণে সেখানে তারা অবাধে মেলামেশা করছে। তারা নিজের ইচ্ছামতো যখন খুশি তখনই একে অপরের সাথে সহজেই বিনা বাধায় অশ্লীলতায় লিপ্ত হতে পারে। সুতরাং এ রকম সুযোগ- সুবিধা থাকার কারণে সেখানে ধর্ষণের কথা প্রশ্নই ওঠেনা। কিন্তু পরিসংখ্যানের রিপোর্ট অনুযায়ী মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ২ মিনিটে ১জন নারী ধর্ষিত হচ্ছে। প্রতি বছর যার সংখ্যা প্রায় ৩-৪ লক্ষ।
সুতরাং সার্বিকভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় ধর্ষণের পেছনে নারীর প্রবণতা কোনো না কোনদিক থেকে আগে দেখা যায়। তাই নারীদের উচিত অশালীনভাবে নিজেকে প্রকাশ না করা এবং উগ্রনারীবাদকে অনুসরণ না করে নারীবাদের যতার্থপূর্ণ সঠিক নীতির বাস্তবায়ন করা। পাশাপাশি তরুণ / পুরুষদের অশালীন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নিজেদের আত্মসংযমী করে গড়ে তোলা। তাই এ ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ কাউকেই এককভাবে অভিযুক্ত করা যায় না। তাই ধর্ষণ নির্মূল করতে প্রয়োজন নারী-পুরুষ উভয়কেই আত্মসংযমী হওয়া। পাশাপাশি উগ্রনারীবাদের প্রচলন বন্ধ করা।
নারী পুরুষ ভাই-বোন
আমরা সবাই আপনজন,
উগ্রনারীবাদকে নির্মূল করো
নারী-পুরুষ একসাথে
ধর্ষকদের বিরুদ্ধে লড়াই করো।
মোঃ সুমন শেখ
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম,ইবি।


