সারাদেশে ধর্ষণবিরোধী লাগাতার আন্দোলনের অংশ হিসেবে সোমবার রাতে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের দেয়ালে ধর্ষণ বিরোধী গ্রাফিতি আঁকার সময় ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি জহরলাল রায় ও মহানগর কমিটির শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক সাদাত মাহমুদের উপর পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে নেত্রকোনায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রতিবাদী মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগীরর সাতপাই কালিবাড়ী মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে শহরের মূল রাস্তা প্রদক্ষিণ করে জেলার কেন্দ্রীয় শহীদমিনারে এসে শেষ হয়। পরে এখানে প্রতিবাদী সমাবেশ করে জেলা ছাত্র ইউনিয়ন। জেলা কমিটির সম্পাদক পার্থ প্রতিমের সঞ্চালনায় এবং মিঠুন শর্মার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মদনপুর কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের আহ্বায়ক এ আর সায়েম শহর শাখার সভাপতি আহম্মেদ তানভীর মোকাম্মেল।
তানভীর মোকাম্মেল বলেন, “গতকাল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার জন্মদিনের কেক কাঁটার আগে ধর্ষণের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা না দিয়ে পক্ষান্তরে ধর্ষকের পক্ষ অবলম্বন করে মৌন সমর্থন দিয়েছেন যা সমাজের কাছে রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ।” তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন বাংলার ছাত্র সমাজ কখনোই তা মেনে নেয়নি এবং নেবেও না।
শহর শাখার আরেক নেতা অনাবিলা সরকার বলেন, এই বাংলাদেশ আর ধর্ষণের উপত্যকায় পরিণত হয়েছে। ক্ষমতাশীনরা তাঁদের নিজেদের নারীবান্ধব সরকার বলার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে। যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ চলমান ঘটনাগুলো। জেলা সংসদের অন্যতম নেতা আবুবকর সিদ্দিকী নাদিম বলেন, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের এ ব্যাপরোয়া আচরণ চলমান ধর্ষণ ও বিদেশে অর্থপাচারের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা একদিকে যেমন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে অন্যদিকে সংগঠনটি অতীত ইতিহাসকে কোলষিত করছে। তিনি আরো বলেন ছাত্র হচ্ছে সেই পুরোনো ফিনিক্স সেই পুরাণে পাখি যে বার বার ফিরে আসে মানুষের পক্ষে মানুষের জন্যে। তিনি পুলিশি নির্যাতনের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করেন এবং হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, যেভাবে অন্যায়ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে এবং গ্রাফিতি আঁকায় বাঁধা দিয়ে ধর্ষকের পক্ষ অবলম্বন করেছে রাষ্ট্রীয় পুলিশবাহিনী তা ছাত্র মনে রেখেছে। যদি এভাবে নির্যাতন করা হয় তাহলে ছাত্র আর চুপ থাকবে না, প্রয়োজনে সারাদেশে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
সমাবেশে সমাপনি বক্তব্যে জেলা সংসদের সভাপতি মিঠুন শর্মা বলেন যদি আমাদের আন্দোলনের যৌক্তিক দাবি মেনে না নেয়া তাহলে ছাত্র সমাজকে সথে নিয়ে কঠোর আন্দোলনে যাবে ছাত্র ইউনিয়ন।


