শেরপুরের মাননীয় চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. হুমায়ুন কবীর মহোদয়ের উদ্যোগে ও সভাপতিত্বে দীর্ঘ প্রায় ১৫মাস পর শেরপুরে সম্প্রতি অত্যন্ত সফলভাবে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসী কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন শেরপুরের পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজিম, শেরপুরের বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দ, সিভিল সার্জন, সকল থানার অফিসার-ইন চার্জবৃন্দ, ইন্সপেক্টর, ডি.বি., সি.আই.ডি. ও স্পেশাল ব্রাঞ্চ, প্রখ্যাত সাংবাদিক, দৈনিক প্রথম আলোর জয়েন্ট এডিটর ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ মিজানুর রহমান খান, শেরপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ.কে.এম. মোছাদ্দেক ফেরদৌসী, সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট এম. কে. মুরাদুজ্জামান, স্পেশাল পি.পি. অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়া বুলু, শেরপুরের কোর্ট ইন্সপেক্টর কে. এম. শহিদুল ইসলাম, এফ.সি.সি.ও, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিসহ শেরপুর ম্যাজিস্ট্রেসী ও পুলিশ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারীবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্টদেরকে স্বাগত জানিয়ে প্রথমেই বক্তব্য দেন শেরপুরের মাননীয় চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. হুমায়ুন কবীর। অতপর: উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন শেরপুরের প্রত্যেক থানার অফিসার-ইন-চার্জ, ইন্সপেক্টর, ডি.বি. ও সি.আই.ডি, শেরপুর বারের সেক্রেটারী এম. কে. মুরাদুজ্জামান, স্পেশাল পি.পি. অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়া বুলু, শেরপুরের কোর্ট ইন্সপেক্টর কে. এম. শহিদুল ইসলাম, বি.টি.ভি’র প্রতিনিধি দেবাশিষ ভট্টাচার্য় ও সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারিন ফারজানা। আলোচকদের প্রত্যেকেই শেরপুরের মাননীয় চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বে কোভিড মহামারিকালে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দেশের মধ্যে একমাত্র শেরপুর জেলাতে আদালতের সকল জরুরী কাজ নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে সম্পন্ন করার জন্য চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. হুমায়ুন কবীরের প্রজ্ঞা, ইনোভেশন, আন্তরিকতা, দক্ষতা ও সদিচ্ছার প্রশংসা করে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়া বুলু তার বক্তব্যে শিশুদের বয়স নির্ধারণ বিষয়ে ডাক্তারদের অসহযোগিতা ও অসতর্কতার বিষয়ে বিশেষ আলোকপাত করে ভবিষ্যতে সঠিকভাবে, সঠিক সময়ে বয়স নির্ধারণপূর্বক রিপোর্ট প্রদান নিশ্চিত করতে সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। অনুষ্ঠানের সভাপতি এ বিষয়ে শেরপুরের সিভিল সার্জনকে অনতিবিলম্বে প্রয়োজনীয় কার্য়কর পদক্ষেপ নেবার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন এবং এ বিষয়ে যাতে কোনও প্রকার সমস্যা না থাকে তা পরবর্তী কনফারেন্সে নিশ্চিত করতে সিভিল সার্জনকে নির্দেশ প্রদান করেন।
স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়া বুলু আরও বলেন যে, ইদানিং কিশোর অপরাধীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে এবং ইউ.পি. চেয়ারম্যান কর্তৃক মামলার আসামীদেরকে বাঁচাতে অন্যায়ভাবে প্রাপ্তবয়স্ক আসামীকেও ১৭বছর/শিশু চিহ্নিত করে প্রত্যায়নপত্র প্রদান করা হচ্ছে। এ সংক্রান্তে সম্মেলনের সভাপতি বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শেরপুর জেলার জাস্টিস অব দি পিস হিসাবে প্রত্যেক ইউ.পি. চেয়ারম্যানকে সতর্কতার সাথে প্রত্যয়নপত্র প্রদানের নির্দেশনা দিয়ে পত্র দেবেন মর্মে জানান এবং এরূপ ক্ষেত্রে প্রত্যেক আই.ও./ও.সি.কে আসামীর প্রকৃত বয়স নির্ধারণপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। ইন্সপেক্টর, সি.আই.ডি. তার বক্তব্যে নারী ও শিশু নির্য়াতন দমন ট্রাইবুনালের মামলার ক্ষেত্রে নারাজি সংক্রান্ত জটিলতার বিষয় সন্মুখে এনে মন্তব্য করেন যে, দায়রা আদালতের মামলাগুলো যেমন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে বিচারের পূর্ব পর্য়ন্ত থাকে এবং নারাজি নিষ্পত্তির পর মামলা বিচারের জন্য প্রস্তুত করে দায়রা আদালতে প্রেরণ করা হয়, তেমনি নারী-শিশু ট্রাইবুনালের মামলাগুলোও ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচারের জন্য প্রস্তুত করার পর ট্রাইবুনালে প্রেরণ করলে পুলিশ ও ট্রাইবুনাল উভয়ের জন্যই কাজ করতে সুবিধা হয়। সম্মেলনের সভাপতি এ সংক্রান্তে সংশ্লিষ্ট আইনের সংশোধনী প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখপূর্বক বিষয়টি জেলা ও দায়রা জজ, শেরপুরের সাথে আলোচনাক্রমে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন মর্মে জানান। সদর থানার অফিসার-ইন-চার্জ মামলায় জব্দকৃত আলামত রাখার জায়গা সংকুলান হচ্ছেনা মর্মে সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সম্মেলনের সভাপতি ইতোমধ্যে মামলায় জব্দকৃত আলামত যথাসম্ভব দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য তিনজন ম্যাজিস্ট্রেট এর সমন্বয়ে একটি কমিটি(বেঞ্চ অব ম্যাজিস্ট্রেটস) তৈরী করে দিয়েছেন যারা আইনানুসারে জব্দকৃত আলামত সংক্রান্ত বিষয়সমূহ নিষ্পত্তি করে আগামী পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসী কনফারেন্সে রিপোর্ট প্রদান করবেন মর্মে নির্দেশ প্রদান করেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রতিনিধি দেবাশিষ ভট্টাচায তাঁকে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসী কনফারেন্সে অংশগ্রহণের সুযোগ দানের জন্য সম্মেলনের সভাপতি শেরপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. হুমায়ুন কবীরের স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। অতপর: তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ভবিষ্যতেও তিনি পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসী কনফারেন্সে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন এবং পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসী কনফারেন্সে সাংবাদিকদের অংশগ্রহণের যে শুভসূচনা হলো তা অব্যাহত থাকবে। তিনি মামলায় জব্দকৃত মালিকানাহীন শত শত বস্তা চাল দরিদ্র স্থানীয় নৃগোষ্ঠির মানুষের মধ্যে বন্টন করে দিয়ে শেরপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. হুমায়ুন কবীর শেরপুরের জাস্টিস অব দি পিস হিসাবে মুজিব বর্ষে রাষ্ট্রের ও শেরপুরের জনগনের যে উপকার করেছেনে এবং সমগ্র দেশের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সেজন্য তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং সমগ্র বাংলাদেশেই মামলায় জব্দকৃত খাদ্যদ্রব্য ও নানা আলামত অযত্নে অবহেলায নষ্ট না করে তা যথাসময়ে শেরপুর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের মত নিষ্পত্তি করলে দেশ ও জাতির উপকার হবে মর্মে মত প্রকাশ করেন।
নির্ধারিত আলোচনায় শেরপুরের অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, বারের সেক্রেটারী, সভাপতি ও পুলিশ সুপার শেরপুরের মাননীয় চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. হুমায়ুন কবীর মহোদয় শেরপুরে যোগদানের পর অতি অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সকল ম্যাজিস্ট্রেট, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা/কর্মচারী, আইনজীবীবৃন্দসহ সংশ্লিষ্টদেরকে ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে মামলার সকল জরুরী বিষয় নিষ্পত্তিকল্পে সফলভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান করে ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে আদালত পরিচালনায় সমগ্র দেশে যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সেজন্য তাঁকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান। বক্তরা আরও বলেন যে, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. হুমায়ুন কবীর মহোদয়ের ভার্চুয়াল পদ্ধতির জন্য শেরপুর ম্যাজিস্ট্রেসীর কেউই আল্লাহ তা’লার দয়ায় কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়নি, অথচ সারা দেশের ন্যায় পাশের ভবন জজ কোর্টে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক।
শেরপুর বারের সেক্রেটারী ও সভাপতির ভাষ্যমতে করোনাকালে একমাত্র শেরপুর জেলার অ্যাডভোকেট ও জনগণ ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট হতে সকল জরুরী আদেশ পেয়ে উপকৃত হয়েছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম ফারিন ফারজানা তার আলোচনায় বলেন যে, মাদক মামলাতে সহকারী আসামীকে মামলার শুরুতে সম্পৃক্ত করলেও পরবর্তীতে প্রায় সকল মামলাতেই সহযোগী আসামীকে বাদ দিয়ে চার্জসীট দাখিল করেন আই.ও. যা এক প্রকার অনিয়ময়ের ইঙ্গিতবহ। এ সংক্রান্তে সভাপতি পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে শেরপুরের পুলিশ সুপার সম্মেলনে নিশ্চিত করেন যে, বাস্তবিক অর্থে এরূপ কোন বেআইনী চর্চা থাকবেনা।
বিশিষ্ট সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান ক্রিমিনাল জাস্টিস ডেলিভারি সিস্টেমে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেসীর কাজে সততা, দক্ষতা, আন্তরিকতা ও সমন্বয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ভবিষ্যতে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসী কনফারেন্সে তিনি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের উপস্থিতিও কামনা করেন এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দ যতদিন সীমিত পরিমান হলেও বিচারিক দায়িত্ব পালন করবেন, ততদিন তাদের নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতার বিষয় সুপ্রীম কোর্ট ও দায়রা আদালতের অধীন রাখতে হবে। তিনি পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেসীর মধ্যে ঐতিহাসিক সুসম্পর্ক থাকবার বিষয়েও আলোকপাত করেন এবং ঐতিহাসিকভাবে কখনও পুলিশ ও বিচার বিভাগের সঙ্গে বৈরীতা তৈরী হয়নি, বরং দেশের আইন ও সংবিধান অনুসারে পুলিশের সমস্ত সিক্রেসী ও একাউন্টাবিলিটি একমাত্র বিচারকদের নিকট উন্মোচিত হবে, আর কারো নিকট নয়, ডেপুটি কমিশনারের নিকটতো নয়ই। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে যে প্যারালাল বিচার ব্যবস্থা চালু আছে তা মাজদার হোসেন মামলা রায় ও বাংলাদেশের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তিনি স্বাধীন বিচার ব্যবস্থায় বিশ্বের আর কোথাও উল্লিখিত প্যারালাল সিস্টেম দেখেননি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ভবিষ্যতে একসময় বাংলাদেশে প্যারালাল প্রশাসনিক বিচার ব্যবস্থা থাকবেনা এবং আদালত ও পুলিশ পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সংবিধানের আলোকে একদিন মানুষকে আরও স্বাধীনভাবে ন্যায়ানুগ বিচারিক সেবা দিতে সক্ষম হবেন। শেরপুরের পুলিশ সুপার তার বক্তব্যে প্রথমেই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান শেরপুর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসীর কর্ণধার ও ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনায় সমগ্র দেশের আইকন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. হুমায়ুন কবীরকে। তিনি আলোচনায় আসা পুলিশের দায়িত্ব সংক্রান্ত প্রতিটি বিষয় নোট নিয়েছেন এবং প্রতিটি বিষয় তিনি চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয়ের সাথে আলোচনাক্রমে সমাধানে সচেষ্ট হবেন মর্মে জানান। তিনি প্রখ্যাত সংবিধান বিশেষজ্ঞ মিজানুর রহমান খানকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানান ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসী নিয়ে আমাদের অনেকের অজানা বিষয়ে বক্তব্য প্রদানের জন্য।
তিনি আরও বলেন যে, শেরপুরের বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দ পুলিশের কাজে যেরূপে আইনানুগ সহযোগিতা করেছেন সেজন্য তিনি কৃতজ্ঞ। তিনি ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি করে শেরপুরের বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. হুমায়ুন কবীর মহোদয় যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সেজন্য তাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি সম্মেলনের সভাপতি শেরপুরের মাননীয় চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. হুমায়ুন কবীর মহোদয় উত্তমভাবে ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনায় সঠিক নেতৃত্ব দিয়ে শেরপুর দেশের একটি প্রায় অচেনা ক্ষুদ্র জেলা সত্ত্বেও সমগ্র দেশে শেরপুরের যে সুপরিচিতি ও সুনাম বয়ে এনেছেন সেজন্য চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. হুমায়ুন কবীর মহোদয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সের ফোকাল পারসন ও অনুষ্ঠানের সঞ্চালক শেরপুরের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শরিফুল ইসলাম খান বলেন যে, দেশে মহামারী/ যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করলেও প্রত্যেক নাগরিকের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিতে বাংলাদেশ বিচার বিভাগ ও পুশিল বিভাগকে দিনরাত নিরলস কাজ করে যেতে হয়।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমনজনিত সংকটকালীন সময়েও মুজিব বর্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কবরে সাওয়াব পৌছাতে শেরপুরের ‘‘জাস্টিস অব দি পিস’’ হিসাবে মালাকানাবিহীন শত-শত বস্তা চাল আদিবাসী দরিদ্র মানুষের মধ্যে পুলিশ সুপার শেরপুর এর মাধ্যমে সুষ্ঠভাবে বন্টন করাসহ করোনা মহামারীকালীন ভার্চুয়াল আদালতের মাধ্যমে জনগনের সুবিচার নিশ্চিতে এবং বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দ, অ্যাডভোকেট ও আদালতের সহায়ক কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দিন রাত ক্লান্তিহীন নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন অনুষ্ঠানের সভাপতি শেরপুরের সু-যোগ্য মাননীয় চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জনাব এস.এম. হুমায়ুন কবির স্যার। এজন্য তিনি মাননীয় চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. হুমায়ুন কবীর মহোদয়ের প্রতি সকলের পক্ষে আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অতপর সমাপনী বক্তব্যে সম্মেলনের সভাপতি শেরপুরের মাননীয় চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জাস্টিস অব দি পিস এস. এম. হুমায়ুন কবীর মহোদয় নিম্নোক্ত বক্তব্য প্রদান করেন-আসসালামু আলাইকুম। নাহমাদুহু নুসাল্লি য়ালা রাসুলুহুল কারীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসী কনফারেন্স, সেপ্টেম্বর, ২০২০ এ উপস্থিত শেরপুরের সম্মানিত পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজিম সাহেব, বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দ, বিজ্ঞ পিপি অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পাল, দৈনিক প্রথম আলোর জয়েন্ট এডিটর, প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ মিস্টার মিজানুর রহমান খান, ঐতিহ্যবাহী শেরপুর বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট এ. কে. এম. মোছাদ্দেক ফেরদৌসী, সিনিয়র আইনজীবী ও গন্যমাধ্যমকর্মী অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম আধার, কোর্ট ইন্সপেক্টর কে. এম. শহিদুল ইসলাম, স্পেশাল পি.পি অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়া বুলু, শেরপুরের বিভিন্ন থানার চৌকস অফিসার-ইন-চার্জবৃন্দ, ইন্সপেক্টরবৃন্দ, ডি.বি., সি.আই.ডি. ও স্পেশাল ব্রাঞ্চ, শেরপুর বারের সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট এম. কে. মুরাদুজ্জামান, বিজ্ঞ এ.পি.পি. অ্যাডভোকেট রওশন কবীর আলগমীর, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্মানিত প্রতিনিধিবর্গ ও আপনার যারা শুনছেন,গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিতে বাংলাদেশ বিচার বিভাগ ও পুলিশ বিভাগ দিনরাত নিরলস কাজ করে চলেছে। কখনও দেশে মহামারি/যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করলেও এ পবিত্র দায়িত্ব পালনে পিছপা হবার অবকাশ নেই জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসী ও পুলিশ বিভাগের।
সম্প্রতি কোভিড-১৯ সংক্রমণজনিত মহামারিকালেও বাংলাদেশ পুলিশ ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসী জীবনবাজি রেখে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বদাই কাজ করে গিয়েছে। এতে বহু পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি বিচার বিভাগেরও বেশ ক’জন বিচারক/বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা/কর্মচারী শাহাদাৎবরণ করেছেন, সংক্রমিত হয়েছেন অগনিত কর্মকর্তা/কর্মচারী। আমরা পরম করুণাময় মহান আল্লাহ তা’লার নিকট শাহাদাৎবরণকারী প্রত্যেকের বিদেহী আত্মার মাগরিফরাত কামনা করি, যাঁরা কোভিড-১৯ এ সংক্রমিত হয়ে এখনও ভুগছেন তাঁদের প্রত্যেকের পরিপূর্ণ সুস্থতা কামনা করি এবং যারা সুস্থ আছেন তারা যেন কোভিডে আক্রান্ত না হন সে দুআ করি। আজকের পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসী কনফারেন্সে শেরপুরের সম্মানিত পুলিশ সুপার মহোদয়সহ অন্যান্যরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন।
আমি এজন্য সম্মানিত পুলিশ সুপার মহোদয়সহ প্রত্যেককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। অতপর আমি শেরপুর জেলার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জাস্টিস অব দি পিস হিসাবে প্রত্যেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের আর্টিকেল ৩১ অনুসারে আইনের আশ্রয় লাভ এবং আইনানুযায়ী ও কেবলমাত্র আইনানুযায়ী ব্যবহারলাভ বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিক ও সাময়িকভাবে বাংলাদেশে অবস্থানরত অপরাপর সকল ব্যক্তির অবিচ্ছেদ্য অধিকার। বাংলাদেশ সংবিধানের এ পবিত্র বিধানের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা রেখে আমি সকল ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সদস্য, আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্টদেরকে সেবার মানসিকতা নিয়ে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দেশ প্রদান করছি। যেখানে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ হতে মধ্যম আয়ের দেশ ও উন্নত দেশ হিসাবে পৃথিবীর বুকে স্বগৌরবে দাঁড়াতে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে, সেখানে সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারী সে পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট, অ্যাডভোকেট যেই হোকনা কেন কারো বেআইনী ও গর্হিত কর্মকান্ডকে কোনভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবেনা ইনশা-আল্লাহ। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের আর্টিকেল ৩৫ অনুসারে যেকোন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কোন অপরাধের দায়ে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবেনা এবং যন্ত্রণাদায়ক বা নিষ্ঠুর, অমানুষিক বা লাঞ্চনাকর ব্যবহার করা যাবেনা। বাংলাদেশ সংবিধানের এই পবিত্র বিধানের প্রতি আমার সকল ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদেরকে আমি সদা শ্রদ্ধাশীল থাকতে নির্দেশ প্রদান করছি।
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ১৬৪ধারায় আসামী হতে জোরপূর্বক জবানবন্দি আদায়ের চেষ্টা বন্ধ করতে প্রত্যেক থানার অফিসার-ইন-চার্জসহ সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকে সদা সচেষ্ট থাকবেন এবং পুলিশ রেগুলেশনস, ১৯৪৩ এর ২৮৩ অনুসরণ করত: The Code of Criminal Procedure, ১৮৯৮ এর ১৬১ ধারায় জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা(আই.ও.) ১মে উক্ত জবানবন্দির যথাযর্থতা যাচাই করবেন, অতপর: যথার্থতা পাওয়া গেলে উক্ত জবানবন্দি লিপিবদ্ধ সংক্রান্তে প্রয়োজনীয় দরখাস্তসহ আসামীকে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট এর নিকট যথাসম্ভব অপরাহ্নের পূর্বে উপস্থাপন করবেন যাতে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট আইনানুসারে আসামীকে পর্যাপ্ত সুযোগ দিয়ে অতপর: তার জবানবন্দি (সিআরপিসি ধারা ১৬৪, ৩৬৪ ও সিআরআরও অনুসারে) যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করতে পারেন। চাঁদাবাজি, নানা অজুহাতে মানুষ হত্যা/নাগরিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মাদকের মামলা দায়ের, গ্রেপ্তারের পর আসামীকে ২৪ঘন্টার মধ্যে আদালতে হাজির না করা/পুলিশ রিমান্ডে থাকা অবস্থায় আসামীকে নির্যাতন করা/অবৈধ সুবিধা/অর্থ আদায় ইত্যাদি বিষয়েও প্রত্যেক থানার অফিসার-ইন-চার্জসহ সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবেন যাতে এরূপ একটি ঘটনাও ঘটতে না পারে, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ১৬৭(১) ধারায় পুলিশ রিমান্ডের দরখাস্ত পুলিশ রেগুলেশনস, ১৯৪৩ অনুসারে সংশ্লিষ্ট সার্কেল/ইউনিটের দায়িত্বরত পুলিশ সুপার/অতিরিক্ত পুলিশ সুপার/সহকারি পুলিশ সুপার এর মাধ্যমে আদালতে দাখিল করবেন।
উল্লিখিত যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুপারিশ ও স্মারক ব্যতিত কোর্ট ইন্সপেক্টর কোন পুলিশ রিমান্ডের দরখাস্ত গ্রহণ করবেন না/নথিতে সংযুক্ত করবেন না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সদাশয় সরকার আমাদের সবার প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে ২০৪১ সনের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়বার ভিশন বা লক্ষ্য নিয়ে নিরলস কাজ করে চলেছেন। সরকারী কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বেতনভাতা এমনভাবে বাড়ানো হয়েছে যে, যাতে একজন সরকারী কর্মচারী তার পরিবারের সদস্যদেরকেসহ স্বস্তিতে সংসার পরিচালনা করতে পারেন। এরপরও আমাদের মধ্যে কেউই যেন ঘুষ, দূর্নীতি ও হারাম উপার্জনের মোহে না পড়ি। বাংলাদেশ উন্নত দেশ হচ্ছে ইনশা-আল্লাহ, তাই আমাদেরকেও মানসিকতা ও কর্মে অনতিবিলম্বে উন্নত হতে হবে। আমরা যেন মনে রাখি যে, যে কারো উপকার করবার নিয়্যত করে চেষ্টা করলেও দশ বছর মসজিদে বসে ইতেকাফ করবার সওয়াব পাওয়া যায় এবং যে কারো একটি উপকার করলে আল্লাহ তা’লা তার ৭৪টি উপকার করবেন। সুতরাং আমরা সবাই যেন জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষকে ভালোবাসি এবং আন্তরিকভাবে তাঁদেরকে সেবা প্রদানে সচেষ্ট হই। বাংলাদেশে প্রায় ১৮কোটি মানুষের জন্য বিচারক আছে মাত্র প্রায় ১৮০০ জন, যেকোন একটি উপজেলার শিক্ষকদের সমষ্টি সমগ্র বাংলাদেশের বিচারকের সমষ্টি অপেক্ষা বেশী, এমনকি যেকোন থানার পুলিশ সদস্যের সমষ্টি জেলার সকল বিচারকের চেয়ে বেশী, এমনকি একটি জেলায় বিসিএস, এডমিন ক্যাডারভুক্ত সহকারী/ সিনিয়র সহকারী কমিশনারবৃন্দের সমষ্টি পুরো জেলার বিচারকদের সমষ্টি অপেক্ষা বেশী! তথাপিও ২০০৮ থেকে ২০১৯ সনের জুন পর্যন্ত প্রায় ১২ বছরে মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮২২টি। এরপরও দেশে বিপুল মামলার জট রয়েছে। তাই এত অল্প সংখ্যক বিচারক নিয়ে মামলার জট (Backlog of cases) কমাতে একদিকে আমাদেরকে যেমন মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা মোকদ্দমা বন্ধ করতে হবে (যারা মিথ্যা মামলা/মোকদ্দমা দায়ের করেন তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে), তেমনি পুলিশ কর্তৃক যথাসময়ে আদালতে সাক্ষী উপস্থাপন করতে হবে, ওয়ারেন্ট তামিল করতে হবে, সঠিক তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করতে হবে এবং বিচারক ও আইনজীবীদেরকেও অধিক আন্তরিকতার সাথে নিজনিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। যারা মিথ্যা মামলা নিয়ে রুটিরুজির ধান্ধা করেন তাদেরকে আমি বলবো যে মন খারাপের কিছু নেই, অসৎ আয়ে বরকত নেই, শান্তি নেই, আছে কেবল পেরেশানি, অসুস্থতা, সন্তানের বখে যাওয়াসহ কত গ্লানি! হালাল অল্প আয়েও অনেক বরকত, রোগবালাই, দূর্ঘটনা, পেরেশানি হতে আল্লাহ তা’লা রক্ষা করেন, অন্তরে প্রশান্তি থাকে, দুআ কবুল হয়, সন্তান মানুষের মত মানুষ হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এ ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা, নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির পাশাপাশি জনগণের প্রতি সুশীল আচরণ গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ সদস্যদের দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে যে, পুলিশ ও আদালতের কাছে বিপদগ্রস্ত মানুষ আসে সাহায্যের আশায়। তারা যাতে কোনো হয়রানি ও দুর্ভোগের শিকার না হয় তা নিশ্চিত করবার মাধ্যমে সেবা প্রদান করতে হবে। নিরাপরাধ কাউকে কোন মিথ্যা মামলায় কেউ ফাঁসালে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে ইনশা-আল্লাহ। আমি সকল ম্যাজিস্ট্রেট ও থানার অফিসার-ইন-চার্জকে নির্দেশ দিচ্ছি যে, যদি কেউ মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাকে মিথ্যা মামলা দায়েরের জন্য শাস্তির আওতায় নিয়ে আসবেন। মনে রাখবেন মানুষের বিবেকই পৃথিবীর সেরা আদালত। দায়িত্ব পালনে আমাদের বিবেককে যেন আমরা সদা জাগ্রত রাখি। একটি ন্যায় বিচারে ৭০ বছর ইবাদতের সওয়াব পাওয়া যায়। তাই নিজ নিজ অবস্থান হতে প্রত্যেকেই আসুন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট হই এবং অশেষ সওয়াব হাসিল করি। তবেই এ সোনার বাংলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ন্যায়-ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন পূরণ হবে, আর তিনি অবিরত সওয়াব পেতে থাকবেন।
পরিশেষে আমি অদ্যকার পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসী কনফারেন্সে অংশগ্রহণকারী শেরপুরের সুযোগ্য পুলিশ সুপার মহোদয়সহ প্রত্যেককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই, প্রত্যেকের সুস্থ, সুন্দর দীর্ঘ নেক হায়াত কামনা করি এবং দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করি যে, ভবিষ্যতে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসীর কাজের মধ্যে অধিকতর ন্যায়ানুগ সমন্বয় করে জনগণের জানমালের নিরাপত্তাবিধানসহ অর্থনৈতিক-সামাজিক সুবিচার নিশ্চিতকল্পে আমরা সকলে মিলেমিশে আরও কার্য়করভাবে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনে সক্ষম হবো ইনশা-আল্লাহ। ধন্যবাদ প্রত্যেককে। ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ।ভিডিও: পুলিশ ম্যাজিস্ট্রসি সম্মেলনে শেরপুরের মাননীয় চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের বক্তব্য


