আব্দুম মুনিব, কুষ্টিয়া ঃ কুষ্টিয়ায় সরকারি-বেসরকারি খাল-বিল, নদী, জলাশয়, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি, মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থাপনা দখলে নিচ্ছে একটি চক্র। নানা কায়দায় শহরের প্রায় ৫শ’ কোটি টাকার সরকারি-বেসরকারি জমি দখলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে চক্রের বিরুদ্ধে।
আর এর পেছনে রয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের এক নেতা। জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে নিজেরাই ক্রেতা-বিক্রেতা সেজে অন্যের জায়গা-জমি রেজিস্ট্রি করে জোরপূর্বক দখল করে আসছিল। তারা শহরের মজমপুর মৌজার প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের ২২ শতক জমির ভুয়া মালিক সেজে মাত্র ৭৭ লাখ টাকায় মহিবুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে রেজিস্ট্রি করে দেয়। একইভাবে চক্রটি প্রায় ১০০ কোটি টাকা মূল্যের বাড়িসহ ভূসম্পত্তি দখলের চেষ্টা করেছিল।
এ ঘটনায় জমির প্রকৃত মালিক শহরের থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা এমএম ওয়াদুদ চক্রের ১৮ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। এ মামলায পুলিশের হাতে গ্রেফতার হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী মহিবুল ইসলাম স্বীকারেক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, জালিয়াত চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম। গত বছর ১০ জুন সদর উপজেলার বটতৈল এলাকার রাকিবুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির মালিকানা স্বত্ব দখলীয় ও রেকর্ডভুক্ত জমির ওপর নির্মিত ২২ দোকান বিশিষ্ট দ্বি-তলা মার্কেট গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। জমির প্রকৃত মালিকের অভিযোগ, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের যোগসাজশে তার জমি জবরদখল করেছে ‘কেএনবি এগ্রো ইন্ডাস্ট্রি লি. নামক কারখানার মালিক কামরুজ্জামান। তবে ওই শিল্পপতির দাবি, জমিটি তিনি কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ থেকে ইজারা সূত্রে পেয়েছেন। অন্যদিকে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক স্বল্প আয়ের পেশাজীবীদের জন্য বরাদ্দ করা ২১২টি হাউজিং প্লট বিধিবহির্ভূতভাবে দখল করেন বলে অভিযোগ রয়েছে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে।
এছাড়া জেলা পরিষদ নদী ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদন ছাড়াই কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মহা শ্মশানসংলগ্ন গড়াই নদীর পারে এলাকাজুড়ে ইকোপার্কের নামে স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাজী রবিউল ইসলাম বলেন, আমি বিন্দুমাত্র এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। আমি নিরপরাধ। আমার বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে।
অন্যদিকে কুষ্টিয়ায় আরও এক জমি জালিয়াতের সন্ধান মিলেছে। শহরের হরিশংকরপুর ও হাউজিংসহ আশপাশ এলাকায় সরকারি জমি ছাড়াও ব্যক্তিগত এবং ওয়াাকফ সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে হাজি মফিজুল ইসলাম নামে কুষ্টিয়া পৌর এলাকার ১২নং ওয়াার্ড আওয়াামী লীগের সভাপতির বিরুদ্ধে। মফিজুল জমি কেনাবেচার ব্যবসা করেন। তিনি শহরের বিভিন্ন বিরোধপূর্ণ সরকারী ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি পানির দরে কিনে তা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিড়াচড়া দামে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। অভিযোগের বিষয়ে হাজি মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘সব মিথ্যা ও বনোয়াাট।
আপনিও লিখতে পারেন আমাদের ক্যাম্পাস, শিক্ষা পরিবার, সাহিত্য ও মতামত পাতায় ।
আাপনার লেখার মাধ্যমে দেশ ও জাতি সমৃদ্ধ হোক।
আপনার লেখা পাঠাতে আমাদের ইমেল করুন [email protected] এই ঠিকানায়।
লেখার সাথে আপনার পরিচয়, ফোন নাম্বার ও ছবি দিবেন। প্রয়োজনে ফোনও করতে পারেন।


