একটি দেশের সকল Court এবং Tribunal নিয়ে বিচার বিভাগ গঠিত হয়। বিচার বিভাগ আইনের ব্যাখ্যা দেয়, আইনগত বিরোধ সমাধান করে, নাগরিকদের অধিকার বলবৎ করে এবং অপরাধীকে শাস্তি দেয়া বিচার বিভাগের দায়িত্ব। মনে রাখতে হবে, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে অপরাধীকে শাস্তি দেবার ক্ষেত্রে পুলিশ, র্যাব বা অন্য কোন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোন ক্ষমতা নেই। তাদের দায়িত্ব হল অপরাধীকে আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা। একটি সুস্থ সমাজের প্রধান নিদর্শন হল সুস্থ, স্বাভাবিক এবং স্বাধীন বিচার বিভাগের অস্তিত্ব।
জেমস ব্রাইস নামক একজন আইনজ্ঞ বলেন, “যদি বিচারের বাতি অন্ধকারে ঢেকে যায়, সে অন্ধকার কতই না গভীর!”
হেনরি সিজউইক নামের আরেকজন রাষ্ট্র বিজ্ঞানীর মতে, রাজনৈতিক সভ্যতায় কোন জাতির অবস্থান কোথায়, তা বুঝার জন্য সে জাতির বিচার বিভাগের অবস্থান যাচাই করা সবচেয়ে উত্তম মাপকাঠি।
আসলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ছাড়া নিরপেক্ষ ও ন্যায় বিচার তথা শান্তিপূর্ণ সমাজ সম্ভব নয়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে এমন একটি অবস্থা বুঝায় যেখানে বিচারকগণ তাদের ন্যায়বিচারের sense অনুযায়ী বিচার করতে পারেন এবং তাদের বিচার কাজের ক্ষেত্রে নির্বাহী বিভাগ বা আইন বিভাগ বা মামলার কোন পক্ষ কিংবা সংশ্লীষ্ট বিচারকের ঊর্ধ্বতন কোন বিচারকের থেকে কোন চাপ বা প্রভাব থাকে না।
International Bar Association’s Minimum Standards of Judicial Independence, 1982 বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে চারটি দিকের স্বীকৃতি দিয়েছে। সেগুলো হল-
১) বিচারকের বাস্তব স্বাধীনতা- এর অর্থ দাঁড়ায় কোন বিচারক আইন এবং নিজের বিবেকের নির্দেশনা অনুযায়ী বিচার করতে পারবেন।
২) স্বকীয় স্বাধীনতা- বিচারকেরা নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণমুক্ত থেকে বিচার করবেন। অর্থাৎ, কোন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বিচার করবেন না। এমনকি কোন বিচারকের উপর প্রধানমন্ত্রীর কোন কর্তৃত্ব থাকবে না বা কোন বিচারক তার কাজের জন্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ নির্বাহী বিভাগের কোন পদাধিকারীর কাছে জবাবদিহি করবেন না।
৪) অভ্যন্তরীণ স্বাধীনতা- এর অর্থ কোন বিচারক তার ঊর্ধ্বতন সহকর্মীর হস্তক্ষেপ মুক্ত থেকে বিচার করবেন।
উপরে আলোচিত বিচারকদের এই বাস্তব স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সমষ্টিগত স্বাধীনতা এবং অভ্যন্তরীণ স্বাধীনতার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার নিয়ামক শর্তগুলো পর্যালোচনা করা যাক-
১) নিয়োগের পদ্ধতি, ২) চাকরির নিরাপত্তা এবং পর্যাপ্ত সম্মানি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার উপর বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নির্ভর করে। এগুলো সংক্ষেপে জেনে নেয়া যাক-
১) নিয়োগের পদ্ধতি- বিচারক তিনভাবে নিয়োগ করা যায়।
ক) জনগণের দ্বারা নির্বাচনের মাধ্যমে বিচারক নিয়োগের পদ্ধতি সর্বপ্রথম ১৭৯০ সালে ফ্রান্সে চালু হয়। ১৭৯৩ সালে দেখা গেল জনগণ যাদেরকে বিচারক হিসেবে নির্বাচন করেছে, তাদের অনেকে খোদাইকারী, পাথর কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিক, কেরানি, বাগানের মালি, শ্রমিক ইত্যাদি যাদের বিচারের ক্ষেত্রে কোন দক্ষতা বা জ্ঞান ছিল না। ফলে পরবর্তীতে এ পদ্ধতির কার্যকারিতা লোপ পায়। বর্তমানে আমেরিকার কিছু প্রদেশে এই পদ্ধতি চালু আছে। অজ্ঞ, অশিক্ষিত, অসচেতন জনগণের সমাজে এই পদ্ধতি মারাত্মক ক্ষতিকর প্রতীয়মান হয়।
খ) আইনসভা তথা সংসদ সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচনের মাধ্যমে বিচারক নিয়োগের এই পদ্ধতি বর্তমানে সুইজারল্যান্ড এবং আমেরিকার দুটি প্রদেশে চালু রয়েছে। এই পদ্ধতির অসুবিধা হল রাজনৈতিক দলগুলো বিচারক পদ প্রার্থী মনোনীত করে এবং সংসদ সদস্যগণ ভোট দিয়ে তাদের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক বিচারক নির্বাচন করে। বাস্তবে দেখা যায় উক্ত মনোনীত প্রার্থীগণ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী বা অনুগত ব্যক্তি। যেসব দেশের রাজনীতিবিদগণ সৎ, দক্ষ, রুচিশীল, স্বজনপ্রীতিমুক্ত এবং যেসব সমাজ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সংস্কৃতি মুক্ত, সেসব সমাজে এই পদ্ধতি সুফল বয়ে আনতে পারে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবস্থা কেমন তা সবাই জানেন। খোদ রাজনৈতিক নেতারাই বলবেন তাদের নেতা কর্মীদের চরিত্র কেমন। কাজেই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আইনসভা কর্তৃক বিচারক নির্বাচন বা মনোনয়ন কিংবা নিয়ন্ত্রণ নিকৃষ্ট প্রতীয়মান হবে।
গ) বিচারক নিয়োগের তৃতীয় পদ্ধতি হল নির্বাহী বিভাগ কর্তৃক নিয়োগ করা। এক্ষেত্রে আমাদেরকে বুঝতে হবে নির্বাহী বা শাসন বিভাগ কাদেরকে বলে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী ও তাদের অধীনস্ত প্রতিষ্ঠান নিয়ে নির্বাহী বা শাসন বিভাগ গঠিত হয়।
এই পদ্ধতিতে আবার দুইটি উপপদ্ধতি রয়েছে-
i) নির্বাহী বিভাগ স্বতন্ত্র ও স্বাধীনভাবে বিচারক নিয়োগ করেন। এক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের স্বজনপ্রীতি বা দলীয় কর্মী নিয়োগের সমূহ ঝুঁকি থাকে৷ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সে এ পদ্ধতিতে বিচারক নিয়োগ হয়ে থাকে। এসব দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি অনেক উঁচু মানের হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর আত্মসম্মানবোধ থাকে। এছাড়াও মত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা থাকায় সরকার সীমাহীন স্বজনপ্রীতি করে বিচারক নিয়োগ দিতে পারে না।
ii) নির্বাহী বিভাগ বিচার বিভাগের সাথে পরামর্শক্রমে বা বিচার বিভাগ কর্তৃক মনোনীতদের তালিকা থেকে বিচারক নিয়োগ করেন বা আইন বিভাগের সাথে পরামর্শক্রমে বিচারক নিয়োগদান করেন। গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে এভাবে বিচারক নিয়োগ বেশ জনপ্রিয়।
বাংলাদেশে এই দ্বিতীয় উপপদ্ধতি চলছে। এই পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন। এরপর প্রধান বিচারপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য বিচারপতি নিয়োগ দেন। সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে অন্তত দশ বছর প্র্যাক্টিস করলে বা বিচার বিভাগে অন্তত দশ বছর বিচারক হিসেবে কর্ম অভিজ্ঞতা থাকলে (ডেপুটেশনসহ) তবেই যেকোন ব্যক্তি সুপ্রিমকোর্টের বিচারক নিয়োগের সুপারিশ প্রাপ্ত হতে পারেন।
আর অধস্তন আদালতের (জেলা পর্যায়ে) বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (PSC) মত জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন (BJSC) রয়েছে। তারা BJS পরীক্ষার মাধ্যমে বিচারক পদের জন্য প্রার্থী সুপারিশ করেন। এরপর রাষ্ট্রপতির গেজেটের মাধ্যমে তাদেরকে পদায়ন করা হয়। অর্থাৎ নির্বাহী বিভাগ কর্তৃক এভাবে বিচারক নিয়োগ হয়। অবশ্য এসব ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিয়ে থাকে। সুতরাং বাংলাদেশে বিদ্যমান ব্যবস্থায় প্রধান বিচারপতি ব্যতীত অন্যান্য সকল বিচারপতি ও বিচারকগণের নিয়োগসহ পদায়ন, পোস্টিং, ট্রান্সফার ইত্যাদি ক্ষেত্রে নির্বাহী ও বিচার বিভাগের যৌথ কর্ম তৎপরতা প্রবিধানযোগ্য। পরবর্তী কোন পর্বে এ সংক্রান্ত আরো বিস্তারিত আলোচনা থাকবে।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতার দ্বিতীয় নিয়ামক শর্ত হল-
(২) বিচারকগণের চাকরির নিরাপত্তাঃ
চাকরির নিরাপত্তা না থাকলে কোন বিচারক মেরুদণ্ড সোজা রেখে সাহসীকতার সাথে বিচার করতে পারেন না। চাকরির নিরাপত্তা তিনভাবে হতে পারে-
i) আমৃত্যু নিয়োগ- অসদাচরণ ব্যতীত একজন বিচারক মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত বা স্বেচ্ছায় অবসরে যাবার ঘোষণা ব্যতীত কর্মে নিযুক্ত থাকবেন। অর্থাৎ সৎভাবে বিচার করলে একজন বিচারক যতদিন চাইবেন, ততদিন বিচার কাজে নিযুক্ত থাকতে পারবেন। এ সংক্রান্ত আইনী বিধান থাকবে। অথবা,
ii) একটি নির্দিষ্ট বয়সসীমা পর্যন্ত বিচারকগণ স্বাধীনভাবে বিচার করতে পারবেন। এ বয়স সীমা অতিক্রান্ত হলে স্বাভাবিকভাবে একজন বিচারক অবসরে যাবেন।
iii) উপরোক্ত মেয়াদকাল পর্যন্ত বিচারকগণ এমনভাবে বিচার করতে পারবেন যে তাদের বদলি বা বরখাস্ত অত্যন্ত কঠিন হবে যাতে নির্বাহী বিভাগ বিচারকগণের উপর চাপ প্রয়োগ করে বিচার প্রভাবিত করতে না পারে বা ক্ষমতার অপব্যবহার করতে না পারে। এতে বিচারকগণ আত্মমর্যাদায় বলীয়ান হয়ে নিজের উচ্চ আদর্শের আলোয় উদ্ভাসিত হবার সুযোগ পাবেন। যুক্তরাজ্যে শুধুমাত্র রাজা বিচারক অপসারণ করতে পারেন। আবার যুক্তরাষ্ট্রে বিচারককে অভিশংসন (impeachment) করা যায়। সেক্ষেত্রে House of Representatives (আইন বিভাগের নিম্নকক্ষ) চার্জ আনে এবং সিনেটে (আইনবিভাগের উচ্চ কক্ষ) এর বিচার হয়। (যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রে আইনসভা আমাদের দেশের মত এককক্ষ বিশিষ্ট নয়, বরং দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট)।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতার তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল-
৩) বিচারকগণের পর্যাপ্ত বেতনভাতা এবং অন্যান্য সুবিধা ও মর্যাদায় আসীন করাঃ
বিচারকদের বেতন-ভাতা, পদমর্যাদা, সামাজিক মর্যাদা সর্বোচ্চ স্থানে রাখতে হবে। তাহলে সবচেয়ে মেধাবী মানুষগুলো বিচারক হতে চাইবে। ফলে আত্মমর্যাদায় বলীয়ান হয়ে তারা তাদের পেশার ভাবমূর্তি রক্ষা করার জন্য অনুপ্রেরণা পাবেন। সকলের কাছে সম্মানজনক অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করবেন।
কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় যদি দেখি, সবচেয়ে মেধাবী ছেলে-মেয়েগুলোর একটা অংশ ক্যাডেট কলেজে যায়। সেখান থেকে পরে সামরিক বাহিনীতে জয়েন করে বা দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে সাধারণ ছাত্রদের সাথে মিশে যায়। মূল কথা সবচেয়ে মেধাবী ও শারীরীকভাবে ফিট শিক্ষার্থীরা সামরিক বাহীনিতে যায়।
এরপর সবচেয়ে মেধাবী ছেলে-মেয়েরা ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। সেদিকে চেষ্টা করে এসব মেধাবীদের যারা ব্যর্থ হন, তাদের একটা অংশ আইনে বা অন্যান্য বিষয়ে পড়েন। অবশ্য নগন্য সংখ্যক ব্যতিক্রম আছে।
আবার, নবম শ্রেণীতে সবচেয়ে মেধাবী (অ্যাকাডেমিক দিক থেকে) ছেলে-মেয়েরা সাধারণত বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। তারপর কিছু অংশ বানিজ্য বিষয়ে ভর্তি হন। এরপর বাকিরা মানবিকে ভর্তি হন। তবে কিছু তীক্ষ্ণ মেধাবীরা সংশ্লিষ্ট কোন বিশেষ ক্যারিয়ারের স্বপ্নে বানিজ্য বা মানবিকে ভর্তি হয়ে থাকে। এগুলো ব্যতিক্রম।
বর্তমানে বাংলাদেশের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনে পড়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয় বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞানের দক্ষতার ভিত্তিতে। ফলে বিজ্ঞান, মানবিক বা বানিজ্য যেকোনো বিভাগের ছেলে-মেয়েরা আইন পড়তে পারে। আপনি যদি নবম-দশম শ্রেণীর বা অষ্টম শ্রেণীর ছেলে-মেয়েদেরকে তাদের জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে জিগাসা করেন, ম্যাক্সিমাম মেধাবী ছেলে-মেয়েরা বলবে তারা ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। কেননা ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারদের ইনকাম অনেক বেশি, সামাজিক মর্যাদাও অনেক বেশি।
আমি এটা মিন করছি না যে বর্তমানে বিচার বিভাগে কর্মরত ব্যক্তিগণ স্বল্প মেধাবী। নিঃসন্দেহে তারা অনেক বেশিই মেধাবী। চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথভাবে বাছাই করার কারণে তাদের মেধা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। তবে উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগের ব্যাপারে কিছু সংশয় থেকে যায়।
যাহোক, যেটা বলতে চাচ্ছিলাম, বিচারকদেরকে ডাক্তার-ইঞ্জিয়ারসহ সমাজের যেকোন পেশাজীবীদের চেয়ে বেশি বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দিতে হবে। তাহলে সবচেয়ে মেধাবী ছেলে-মেয়েদের প্যাশন হবে বিচারক হওয়া। আবার জনগণের ও সরকারি অন্যান্য সেক্টরে কর্মরত ব্যক্তিদের বিশ্বাস থাকবে বিচারকগণ সবচেয়ে বেশি সম্মান পাবার যোগ্য। সেজন্য স্বল্প মেধাবীরা যেন আইনে পড়ার সুযোগ না পায়, সেভাবে কঠোর ভর্তি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। প্রয়োজনে বিচার বিভাগে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৪০-৪৫ বছর করতে হবে যেন অন্যান্য ক্যাডারে কর্মরত ব্যক্তিরা চাইলে যোগ্যতার প্রমাণ সাপেক্ষে বিচারক হবার সৌভাগ্য অর্জন করতে পারে। স্বীকৃত সর্বোচ্চ মেধাবী ও সৎ ব্যক্তিরা বিচারক হলে তাদের বলীষ্ঠ ব্যাক্তিত্ব ও আত্মবিশ্বাসের কারণে তারা কারোর কাছে মাথানত করবেন না।
সব মিলিয়ে বিচারকের বিচার বা সিদ্ধান্তের প্রতি রাষ্ট্রের সকল মানুষের সর্বোচ্চ সম্মান নিশ্চিত করার জন্য যা যা করণীয় সবই করতে হবে। তবেই দুর্নীতিমুক্ত সুষম সমাজে শান্তিতে বাঁচা যাবে।
-মতিউর রহমান, শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ (LL.B), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। Email: [email protected]


