সব
facebook apsnews24.com
এসি বিস্ফোরণ এবং সম্ভাব্য কারণ - APSNews24.Com

এসি বিস্ফোরণ এবং সম্ভাব্য কারণ

এসি বিস্ফোরণ এবং সম্ভাব্য কারণ

এসি বিস্ফোরণের সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর জানলে এর কারণ উদ্ঘাটন সহজ হবে বলে আমি মনে করি। আমি নিজেও এমন কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছি। যেমনঃ
১. এসির বিস্ফোরণ কি নতুন ক্রয়কৃত এবং ব্যবহৃত এসির বেলায় ঘটেছে ?
২. এসি মেরামতের আগে বা পরে, অথবা মেরামতের সময় ঘটেছে ?
৩. বড় হলরুম যেখানে একসাথে বড় সাইজের কয়েকটা এসি ব্যবহৃত হয় সেখানে ঘটেছে ?
আমার মনে হয় ১. নং প্রশ্নের উত্তর ‘না’। বাকি দুটো প্রশ্নের উত্তর এসি বিস্ফোরণের কারণ নির্ণয়ে সহায়ক।
বর্তমানে আমরা বাসাবাড়িতে যে এসিগুলো ব্যবহার করি তার দুটো অংশ। ইভাপোরেটর (যেটা রুমের ভিতরে থাকে) এবং কন্ডেন্সার (যা রুমের বাহিরে স্থাপন করা হয়)। দুটো অংশের সাথেই ফ্যান থাকে যার ফলে আমরা বাতাস টের পাই। ফ্যানগুলো আসলে এসির বাহ্যিক অংশ যার মাধ্যমে এসির তৈরী ঠান্ডা বা গরম অনুভুতি বাতাসে দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এসি বা ফ্রিজে যে বেশি কারেন্ট ব্যয় হয় তার কারণ কিন্তু ফ্যান নয়, এটি কম্প্রেসর। ইভাপোরেটর এবং কনডেন্সার মধ্যে গ্যাসের চলাচল নিয়ন্ত্রণ এর কাজ। কম্প্রেসর একটি মেকানিক্যাল যন্ত্র যা কন্ডেন্সার অংশের সাথে বাহিরে স্থাপন করা হয়। দুটো কারণে এটাকে বাহিরে রাখা হয়।
ক. এটি চলার সময় শব্দ ও কম্পন তৈরী হতে পারে,
খ. এখান থেকে বেরিয়ে যাওয়া গ্যাসের তাপমাত্রা ৬০/৭০ ডিগ্রি বা তারও বেশি হয়। ফলে কপার পাইপের তাপমাত্রা অনেক বেশি থাকে।
এসিতে বা ফ্রিজে যে গ্যাস ব্যবহার করা হয় তা ল্যাবরেটরিতে তৈরী। অনেকগুলো বিষয় মাথায় রেখে এই গ্যাসের গবেষণায় করা হয়।
যেমনঃ কত দ্রুত এবং কম বিদ্যুৎ খরচে রুম ঠান্ডা হবে, গ্যাস কতদিন ব্যবহার করা যাবে, মানুষের কোনো ক্ষতি হবে কিনা, আগুন ধরাকে ত্বরান্বিত করে কিনা ইত্যাদি। এখন অবশ্য পরিবেশের ক্ষতি বিবেচনায় নেওয়া হয়। গ্যাস ব্যবহারের যে আন্তর্জাতিক নীতিমালা আছে সেটা মেনে চলতে হয়। প্রত্যেকটি বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খ গবেষণা শেষে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়। মনে রাখা দরকার যে এসি এবং ফ্রিজের গ্যাস সম্পূর্ণ আলাদা, কারণ দুটো সিস্টেমের সাইজ এবং কাজের ধরণ আলাদা। বর্তমানে বাজারে ১০টির অধিক ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত গ্যাস পাওয়া যায়। যেমন R22, R410A, R32, R134a ইত্যাদি। এসমস্ত গ্যাস ব্যবহারের কিছু আন্তর্জাতিক নীতিমালা আছে। কোন গ্যাস, কোথায় এবং সর্বোচ্চ কি পরিমাণ ব্যবহার করা যাবে ইত্যাদি। কোনো কোনো গ্যাস উন্নত বিশ্বে বাতিল করা হয়েছে অনেক আগেই, যা চীন ভারত সহ অনুন্নত দেশ গুলোতে ব্যবহারে এখনো তেমন বিধিনিষেধ নাই।
এসি বিস্ফোরণের জন্য এই যন্ত্রাংশের যে কম্পোনেন্টকে দায়ী করা হয় তা হলো কম্প্রেসর। বৈজ্ঞানিক ভাবে তার দায় থাকার কথা নয়। কারণ প্রত্যেকটা গ্যাসের ধর্ম বিবেচনায় নিয়ে তাদের জন্য আলাদা কম্প্রেসর ডিজাইন করা হয়। পাশাপাশি এসি সিস্টেম কোন দেশে, কোন অঞ্চলে ব্যবহার করা হবে সেখানকার তাপমাত্রা সর্বচ্চো কত উঠানামা করে তাও বিবেচনায় নেওয়া হয়। ফলে কম্প্রেসর কেন বিস্ফোরিত হবে তা আমার বোধগোম্য নয়। আমার দৃষ্টিতে এসি বিস্ফোরিত হতেপারে নিম্নের কারণগুলি মেনে না চললে :
১. আপনি এসি ক্রয়ের সময় সিস্টেমের গায়ে লিখিত গ্যাস ব্যবহার করছেন কিনা। কারণ প্রত্যেকটা গ্যাসের জন্য কম্প্রেসর আলাদাভাবে নির্মাণ করা হয় ।
২. আপনি ম্যানুয়ালের নির্দেশিকা মেনে গ্যাস চার্জ করেছেন কিনা।
৩. আপনার বাসার ইলেকট্রিক লাইন এসিতে সঠিক মাত্রার বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে কিনা।
৪. এসি মেরামতের সময় গ্যাসের প্রয়োজন হলে সঠিক গ্যাস নিচ্ছেন কিনা। কারণ বাজারে সস্তা মূল্যের বিভিন্ন গ্যাস পাওয়া যায়। আপনি যদি এক গ্যাসের সাথে অন্য গ্যাস মিশ্রণ করেন তাহলে আপনার কম্প্রেসর ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এসির পারফরমেন্স বাড়ানোর জন্য অনেকে হাইড্রোকার্বন R600a গ্যাস যোগ করেন যা আপনার এসিকে বিস্ফোরিত করতে পারে। অন্যদিকে এই গ্যাস চরম মাত্রায় দাহ্য। আগুন ধরে গেলে তা দ্রুত ছড়িয়ে দিতে সক্ষম। (যদিও ফ্রিজে এই গ্যাস ব্যবহার করা হয়। কারণ সেখানে সামান্য পরিমান গ্যাস থাকে )
৫. বড় হলরুমে পাঁচটি এসি থাকলে আপনাকে পাঁচটি এসিই ব্যবহার করা উচিত। আপনি যদি দুইটি বন্ধ রাখেন তাহলে বাকি তিনটার লোড বেড়ে যাবে যা বিস্ফোরণের জন্য দায়ী হতে পারে।
৬. যেহেতু এসি বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে সুতরাং আপনার বৈদ্যুতিক লাইনের ধারণ ক্ষমতা অবশই বিবেচনায় রাখা উচিত।
৭. বাংলাদেশে সাধারণত পিক আওয়ার এবং অফ পিক আওয়ারে বিদ্যুতের ভোল্টেজ অনেক উঠানামা করে সেজন্য ভালো মানের সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করা উচিত।
৮. গ্যাস চার্জের সময় বেশি ঠান্ডা পাওয়ার আশায় বেশি পরিমান গ্যাস ঢুকিয়ে রাখছেন কিনা।
৯. যেহেতু কম্প্রেসর অংশে অতি মাত্রায় গ্যাসের চাপ ও তাপ থাকে তাই সঠিক মানের কপার টিউব ব্যবহার করছেন কিনা।
১০. ইভাপোরেটর এবং কন্ডেন্সারের মধ্যে দূরত্বের একটা সীমা আছে সেটা অতিক্রম করবেন না। ফ্যাক্টরি রেকোমেন্ডেড লাইন সাইজ মেনে চলুন।
সর্বোপরি নিজে সচেতন হন, বিশেষকরে এসি মেরামতের সময়। মেকারকে অবশ্যই উল্লেখিত প্রশ্ন করতে ভুলবেন না। সস্তা দামের আশায় অন্যকোনো গ্যাস আপনার এসিতে প্রবেশ করবেননা। মনে রাখবেন প্রত্যেকটা গ্যাসের জন্য কম্প্রেসর নির্দিষ্ট এবং তার জন্য সহায়ক পরিবেশে সে নিরাপদে কাজ করে।
ড. মোঃ কুতুব উদ্দিন
সহযোগী অধ্যাপক
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

  • 235
    Shares

আপনার মতামত লিখুন :

পারিবারিক আদালতে  কখন, কিভাবে যাবেন ও সমাধান

পারিবারিক আদালতে কখন, কিভাবে যাবেন ও সমাধান

অভিভাবকেরা দায় এড়াবেন কিভাবে?

অভিভাবকেরা দায় এড়াবেন কিভাবে?

ধর্ষণ : আমাদের সতর্কতা

ধর্ষণ : আমাদের সতর্কতা

পরিবহনগুলোকে সিসিটিভির আওতায় আনা প্রয়োজন।

পরিবহনগুলোকে সিসিটিভির আওতায় আনা প্রয়োজন।

বেকারত্ব অথবা আইন সনদ নিবন্ধন পদ্ধতি সংস্কার

বেকারত্ব অথবা আইন সনদ নিবন্ধন পদ্ধতি সংস্কার

অর্থপাচারকারীরা রাষ্ট্রের প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস

অর্থপাচারকারীরা রাষ্ট্রের প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার: ApsNews24.Com (২০১২-২০২০)

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ নুরুন্নবী চৌধুরী সবুজ
01774-140422
প্রকাশকঃ আইনী পাঠশালা গ্রুপ
২২ চ্যামেলীবাগ (সিআইডি অফিসের পাশে) রমনা থানা, ঢাকা-১০০০।
01625-461876, 01771-784299
[email protected], [email protected]
Developed By Feroj

ব্রেকিং নিউজ