তালহা জাহিদঃ সবুজ ঘন বনাঞ্চল। পাখির কোলাহল। আর সমুদ্রের জলরাশি। সৈকতের তটরেখায় লাল কাঁকড়াদের ছুঁটোছুঁটি। ঢেউয়ের তালে, দুলে জেলে নৌকার বহর। সেই ঢেউ আছড়ে পড়ে সি-বীচে। সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্যতো আছেই। চরমোন্তাজের রাতে দৃশ্য ভিন্নত্বর উত্তাল সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া ট্রলার ও সাম্পান আলো গুলো দেখলে মনে হবে আকাশের শত শত তাঁরা গুলো নেমে এসছে নদীর পাড়ে।
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় এমন নানা সৌন্দর্য ঘেরা আকর্ষণীয় সোনারচর ও জাহাজমারা’র দৃশ্য সৌন্দর্য্য পিপাসু পর্যটকদের মন নিশ্চয়ই আকৃষ্ট করে। তবে সম্ভাবনা থাকা সত্বেও কেবলমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থার কারনে রয়েছে পিছিয়ে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলেই পর্যটনের ব্যাপক বিকাশ ঘটবে। অর্থনৈতিক অবস্থারও অমূল পরিবর্তন হবে। সোনারচর বঙ্গোপসাগরের কোলজুড়ে বেড়ে ওঠা সৌন্দর্যের লীলাভূমি সোনারচর। উত্তর- দক্ষিণ লম্বালম্বি এ দ্বীপটি দূর থেকে দেখতে অনেকটা ডিমের মতো। সকাল কিংবা শেষ বিকেলের রোদের আলো যখন বেলেভূমিতে পরে, তখন দূর থেকে পুরো দ্বীপটাকে সোনালি রঙের থালার মতো মনে হয়। বালুর ওপরে সূর্যের আলোয় চোখের দৃষ্টি চিকচিক করে। মনে হবে যেন কাঁচা সোনার প্রলেপ দেয়া হয়েছে দ্বীপটিতে। ধারণা করা হয়, বিশেষ এ বৈশিষ্ট্যের কারণেই দ্বীপটির নাম সোনারচর রাখা হয়েছে। সমুদ্রের যেকোন জায়গায় দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখা যায়।
এটি রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের আওতাধীন। এখানে রয়েছে পাঁচ হাজার একরের বিশাল বনভূমি। মন:মুগ্ধকর সৌন্দর্যের নানা রকম প্রাকৃতিক আয়োজন রয়েছে এ দ্বীপটিতে। রয়েছে সমুদ্র উপভোগের সুযোগ। ঢেউয়ের তালে সমুদ্র স্নানেও রয়েছে ভিন্ন আমেজ। এখানে গেলে দেখা মিলবে হাজারো জেলের। সাগর থেকে তুলে আনা টাটকা মাছের স্বাদও নেয়া যাবে এখান থেকে। দূর থেকে সমুদ্র সৈকতের বীচে তাকালেই লাল কাঁকড়ার চোখে পড়বে। দেখলে মনে হবে যেন লাল চাদর বিছিয়ে রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য মতে, অসংখ্য হরিণ আর বানর রয়েছে সোনারচরে। এছাড়া বনাঞ্চলের কাছাকাছি গেলে সহজেই চোখ পড়বে বুনো মোষ, শুকর, বানর, মেছো বাঘসহ আরও সব বন্য প্রাণী। দেশী-বিদেশী দূর্লভ প্রজাতির নানা রঙের পাখির সমারহ।
চরমোন্তাজের সোনারচর ও জাহাজমারা ছাড়াও রাঙ্গাবালী উপজেলায় চর তুফানিয়া, রুপার চর, চর হেয়ারসহ আরো বেশ কয়েকটি আকর্ষণীয় দ্বীপ রয়েছে। এসব দ্বীপে পর্যটকদের আগমন বাড়াতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন দরকার। এছাড়া পর্যটকদের অবস্থানের জন্য হোটেল-মোটেল নির্মাণ করা জরুরি। এসব হলে রাঙ্গাবালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থার অমূল পরিবর্তন ঘটবে।


