সব
facebook apsnews24.com
“মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনে আইনগত প্রতিকার’’ - APSNews24.Com

“মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনে আইনগত প্রতিকার’’

“মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনে আইনগত প্রতিকার’’

অধিকার বলতে মানুষের আত্মবিকাশের জন্য কতিপয় সুযোগ-সুবিধার দাবীকে বোঝায় যে দাবীর হয় নৈতিক না হয় আইনগত ভিত্তি রয়েছে। যে অধিকারের ভিত্তি নৈতিকতা এবং যা ভঙ্গ করলে নৈতিক অপরাধ হয় তাকে নৈতিক অধিকার বলে। অন্যদিকে, যে অধিকার দেশের আইন দ্বারা স্বীকৃত এবং যা আইনগত ভিত্তিতে দাবী করা হয় এবং যা ভঙ্গ করলে আইনগত অপরাধ হয় তাকে আইনগত অধিকার বলে। আইনগত অধিকারের ভিত্তি হিসেবে মৌলিক অধিকারের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। মৌলিক অধিকার আইনগত অধিকারের এক ধাপ উপরে অবস্থান করে।

মৌলিক অধিকার বলতে সে সব অধিকারকে বুঝায়, যা কোন দেশের সংবিধানে লিপিবদ্ধ করা হয় এবং তা সাংবিধানিক নিশ্চয়তা দ্বারা সংরক্ষণ করা হয়। মৌলিক অধিকারগুলো সবই মানবাধিকার। তবে মৌলিক অধিকার বলার কারন হলো, যেহেতু সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন বা মৌলিক আইন এবং এই সংবিধানে সংযোজিত অধিকার গুলোতে মৌলিক আইনের অংশ এবং এদেরকে বিশেষ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রক্ষা করা হয়, এদের পরিবর্তন করতে হলে স্বয়ং সংবিধানকে সংশোধন করতে হয়। এদের মধ্যে বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য এই যে, মানবাধিকার গুলোকে বাস্তবায়নে সাংবিধানিক নিশ্চয়তা দেয়া হয় না। সুতরাং বলা যায় যে, যখন কতিপয় মানবাধিকারকে সংবিধানে লিপিবদ্ধ করে তাদের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা দেয়া হয় তখন এগুলোকে মৌলিক অধিকার বলে। সাংবিধানিক নিশ্চয়তা বলতে এখানে বোঝানো হচ্ছে, এসব অধিকার থেকে কেউ বঞ্চিত হলে সেই সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তি আদালতের মাধ্যমে ঐসব অধিকার ফিরে পাবে। আদালত তার রায়ের মাধ্যমে সরকারকে ঐসব অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার হুকুম দিতে পারে।

মৌলিক অধিকারগুলোকে সংবিধানে অন্তর্ভূক্ত করার উদ্দেশ্য এই নয় যে, এগুলোকে আর পরিবর্তন করা যাবে না, এর উদ্দেশ্য হলো যে, এগুলোকে উচ্চতর মর্যাদা দেয়া, যাতে শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগ এগুলোর উপর অযাচিত হস্তক্ষেপ করতে না পারে। আবার মৌলিক অধিকারগুলো সংবিধানে অন্তর্ভূক্ত করার অর্থ সেগুলোকে সাংবিধানিক নিশ্চয়তার মাধ্যমে রক্ষা করা। এই সাংবিধানিক নিশ্চয়তা বিচার বিভাগের মাধ্যমে কার্যকর হয়ে থাকে। বিচার বিভাগ মৌলিক অধিকারগুলোর সংরক্ষনকর্তা। সংবিধানেই পদ্ধতিগতভাবে বলা থাকে যে, কিভাবে মৌলিক অধিকারগুলো সংরক্ষিত হবে, কোন কোন অধিকারের উপর নিয়ন্ত্রন আরোপ করা যাবে, কোনগুলোর ওপর যাবে না। এজন্য যখনই শাসন বিভাগ বা আইন বিভাগ এ অধিকারগুলোর উপর অযাচিত হস্তক্ষেপ করে তখনই জনগন আদালতের মাধ্যমে সেগুলোকে বলবৎ করতে পারে। আর এই মৌলিক আইনকে রক্ষা করার দায়িত্ব দেয়া হয় বিচার বিভাগের উচ্চতর আদালত তথা সুপ্রীম কোর্টের উপর।

বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সংবিধানের ২৬থেকে ৪৭ (ক) অনুচ্ছেদগুলো পর্যন্ত মৌলিক অধিকারের সংশ্লিষ্ট। ৩য় ভাগের শুরুতে ২৬নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে। মৌলিক অধিকারের সহিত অসমাঞ্জস্যপূর্ন আইন বাতিল।

এবং অন্য অনুচ্ছেদগুলোতে বলা হয়েছে ২৭নং অনুচ্ছেদ আইনের দৃষ্টিতে সমতা; ২৮ নং অনুচ্ছেদ ধর্ম প্রভৃতি কারনে বৈষম্য; ২৯ নং অনুচ্ছেদ – সরকারি নিয়োগ- লাভে সুযোগের সমতা, ৩০নং অনুচ্ছেদ- বিদেশী খেতার প্রভৃতি গ্রহন নিষিদ্ধ করন; ৩১ নং অনুচ্ছেদ- আইনের আশ্রয়লাভের অধিকার; ৩২নং অনুচ্ছেদ – জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার; ৩৩ নং অনুচ্ছেদ – গ্রেফতার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ; ৩৪নং অনুচ্ছেদ- জবরদস্তি শ্রম নিষিদ্ধকরন; ৩৫ নং অনুচ্ছেদ- বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষন; ৩৬ নং অনুচ্ছেদ- চলাফেরার স্বাধীনতা; ৩৭ নং অনুচ্ছেদ- সমাবেশের স্বাধীনতা; ৩৮ নং অনুচ্ছেদ- সংগঠনের স্বাধীনতা, ৩৯নং অনুচ্ছেদ- চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা; ৪০নং অনুচ্ছেদ – পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা; ৪১নং অনুচ্ছেদ- ধর্মীয় স্বাধীনতা; ৪২নং অনুচ্ছেদ- সম্পত্তির অধিকার, ৪৩ নং অনুচ্ছেদ- গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষন; ৪৪নং অনুচ্ছেদ- মৌলিক অধিকার বলবৎকরন। এগুলোর মধ্যে ৬টি (৩২,৩৩,৩৪,৩৫,৪১ ও ৪৪) মৌলিক অধিকার বাংলাদেশে অবস্থানরত নাগরিক ও বিদেশীরা ভোগ করতে পারে এবং বাকি ১২টি (২৭,২৮,২৯,৩০,৩১,৩৬,৩৭,৩৮,৩৯,৪০,৪২ ও ৪৩) শুধুমাত্র বাংলাদেশের নাগরিক জনগন ভোগ করতে পারবে।

যে কোন কারনে মৌলিক অধিকার ভঙ্গ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তি সংবিধানের ১০২ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদনের মাধ্যমে অধিকার পুনরুদ্ধার করতে পারবেন। সংবিধানের ৪১(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, মৌলিক অধিকার বলবৎকরনের জন্য ১০২ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের নিকট মামলা দায়ের করা যাবে। মৌলিক অধিকার বলবৎ জন্য এই যে, মামলা দায়ের করার অধিকার এটা নিজেই একটি স্বাধীন মৌলিক অধিকার এবং সংবিধানের ১০২ (১) অনুচ্ছেদে হাইকোর্ট বিভাগকে ক্ষমতা দিয়েছে যে, কোন সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তির আবেদনক্রমে সংবিধানের তৃতীয় ভাগে বর্ণিত মৌলিক অধিকার সমূহের যে কোন একটি বলবৎ করার জন্য প্রজাতন্ত্রের বিষয়াবলীর সাথে সম্পর্কিত কোন দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিসহ যে কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে হাইকোর্ট বিভাগ উপযুক্ত নির্দেশ বা আদেশ দিতে পারবে। সুতারাং মৌলিক অধিকার লঙ্গনে এবং বিচার বিভাগীয় বলবৎকরনের ভিত্তি হলো সংবিধানের ৪৪ ও ১০২ (১) অনুচ্ছেদ।

উল্লেখ, ৪৪ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, পার্লামেন্ট ইচ্ছা করলে হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা ক্ষুন্ন না করে যে কোন আদালতকে উহার স্থানীয় সীমার মধ্যে কোন আদালতকে উহার স্থানীয় সীমার মধ্যে কোন মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে সেটাকে বলবৎ করার বা আইনগত সহায়তা করার জন্য এ খতিয়ার দিতে পারে। কিন্তু অত্যন্ত দু:খজনক যে, আজ পর্যন্ত আমাদের দেশে এ ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। অন্য কোন আদালতকে এরূপ এখতিয়ার দেয়া হয়নি।

নামঃ তাহমিনা আক্তার তাহমিম
নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজ, নারায়ণগঞ্জ।
৪১/১, টি হোসেন রোড, নবীগঞ্জ, বন্দর, নারায়ণগঞ্জ।

  • 24
    Shares

আপনার মতামত লিখুন :

পারিবারিক আদালতে  কখন, কিভাবে যাবেন ও সমাধান

পারিবারিক আদালতে কখন, কিভাবে যাবেন ও সমাধান

অভিভাবকেরা দায় এড়াবেন কিভাবে?

অভিভাবকেরা দায় এড়াবেন কিভাবে?

ধর্ষণ : আমাদের সতর্কতা

ধর্ষণ : আমাদের সতর্কতা

পরিবহনগুলোকে সিসিটিভির আওতায় আনা প্রয়োজন।

পরিবহনগুলোকে সিসিটিভির আওতায় আনা প্রয়োজন।

বেকারত্ব অথবা আইন সনদ নিবন্ধন পদ্ধতি সংস্কার

বেকারত্ব অথবা আইন সনদ নিবন্ধন পদ্ধতি সংস্কার

অর্থপাচারকারীরা রাষ্ট্রের প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস

অর্থপাচারকারীরা রাষ্ট্রের প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার: ApsNews24.Com (২০১২-২০২০)

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ নুরুন্নবী চৌধুরী সবুজ
01774-140422
প্রকাশকঃ আইনী পাঠশালা গ্রুপ
২২ চ্যামেলীবাগ (সিআইডি অফিসের পাশে) রমনা থানা, ঢাকা-১০০০।
01625-461876, 01771-784299
[email protected], [email protected]
Developed By Feroj

ব্রেকিং নিউজ