আসাদুজ্জামান আসাদ সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধিঃ নেতার কাজ নেতৃত্ব দেওয়া। দেশের জনগণের সেবা বা খেদমত করা। জনগণের হৃদয়ে অবস্থান করা । জনগণের আস্থা অর্জন করা। নিঃস্বার্থ ভাবে দেশ ও দশের জন্য কাজ করা। সমস্ত জনগণ যে যে দলেরই হোক না কেন নেতার নেতৃত্বের উপর বিশ্বাস স্থাপন করা। কিন্তু এখন আমরা নেতার কি নেতৃত্ব দেখছি? নেতা দেখলে এক শ্রেণির জনগণ পালানোর চেষ্টা করে। এই বুঝি আবার কোন মামলার আসামী করে আবারও কত টাকা চাঁদা দাবি করে। কিভাবে শোষণ করে, পুলিশের ভয় দেখায় ইত্যাদি ইত্যাদি। সত্যিই অবাক লাগে ৬০ দশক থেকে নব্বই দশক পর্যন্ত রাজনীতির দিকে একটু যদি খেয়াল করি নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের বা ছাত্র সংগঠনের নেতাদের ভিতর কত মিল। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের ভিতর আমরা দেখছি ব্যাপক সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক। একই স্থানে, একই ক্যান্টিনে বসে চা/নাস্তা খাওয়া বিভিন্ন ভাবে ছাত্রদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলনের ছক তৈরী করা, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য হাতে হাত রেখে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া।
আমার দুই একটি কথা মনে আছে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে সর্ব প্রথম সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের ব্যানারে খুলনায় একটি সমবেশ হয়। সেই সমাবেশে আমি এক জন ক্ষুদ্র নেতা হিসাবে মঞ্চে বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়েছিলাম, তখন মঞ্চে ছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, জাতীয়তাবাদী ছাত্র দলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আসাদুজ্জামান রিপন, ছাত্র মেত্রীর কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি জহির উদ্দীন স্বপন, এইভাবে নাজমুল হক প্রধান, নাছির উদ্দোজা সহ খুলনার বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ববৃন্দ। সত্যিই তখনকার সময়ে নেতাদের নেতৃত্ব প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু এখন আমরা কোন ধরণের নেতারদের নেতৃত্ব পাচ্ছি? বিভিন্ন দলের কমিটি গঠনে যে অনিয়ম এবং টাকার খেলা বা দেন দরবার দেখছি তা অবাক হবার মত। এই সমস্ত মেধাহীন ও অদক্ষ যোগ্যহিন নেতারা দেশ ও দশের মঙ্গলের জন্য কি কল্যাণ বয়ে নিয়ে আসবে? কিছুই করতে পারবে না। বরং দেশকে একটা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। একজন প্রভাবশালী নেতা যদি মাদকাসক্ত হয় ঘুষ খায় দূর্নীতি করে বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে তবে সে দেশের জন্য কি উপহার দিবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে হাজার হাজার নারী, পুরুষ জীবনের প্রতি মায়া না দেখিয়ে নিঃস্বার্থ ভাবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লো এবং হানাদার বাহিনীর শাসন শোষণ ও নির্যাতনের স্বীকার হলো এবং সাহসিকতার সাথে ভয়কে জয় করে রক্তের বিনিময়ে এবং তাদের আত্বত্যাগের বিনিময়ে এবং মা বোনদের ইজ্জতের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন করলো। আজকের তাদের রক্তের সংঙ্গে এবং আত্মার সংঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করা হল। তাহলে কেন আমরা বর্তমান সময়ের এই ঘুষখোর দুর্নীতিবাজ নেতাদের নেতৃত্ব মানবো? তাই মহান আত্ম ত্যাগের বিনিময়ে যে স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য মুক্তিযোদ্ধারা জীবন উৎসর্গ করলো এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট সন্তান জাতির জনকের স্বপ্ন সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে আমি বর্তমান সময়ের নেতাদের কাছে আহ্বান করবো, আসুন, এখন ও সময় আছে আমরা নিঃস্বার্থ ভাবে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাই। ঘুষ, দুর্নীতি, মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে এবং অন্যায় অনিয়মের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াই এবং জনগণের জান মালের নিরাপত্তা হেফাজত করি। একদিন হয় তো বা মহান কাজের জন্যে আপনি ও হয়তো বা একজন যোগ্য ও আস্থাভাজন নেতা হতে পারেন। এবং বড় বড় দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে দাবি রাখবো আপনারাও এলাকায় নিঃস্বার্থ ভাবে সারা দেশে নেতৃত্ব দেবার যোগ্যতা রাখে এমন নেতৃত্ব সৃষ্টি করুণ এবং তাদেরকে নিয়ে বিভিন্ন কমিটি তৈরি করুন। দেখবেন একদিন যে স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীন সার্বভৌম সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চেয়েছিল তা স্বার্থক হবে। এবং একটি রাষ্ট্র পাক হানাদার বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা করা বাঙ্গালি জাতির জন্য উপহার হিসাবে তারা পরকালে শান্তিতে থাকতে পারবে। আমরাও নির্ভিক ভাবে দেশটা কে বিশ্বের মানচিত্রে দুর্নীতি ও সন্ত্রাস মুক্ত দেশ হিসাবে প্রমাণ করতে পারবো।
১৯৮৩ সালে যখন আমি এস, এস, সি পরীক্ষা দিতে কলারোয়া কেন্দ্রে আসি তখন দেওয়ালে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কিছু শ্লোগান লেখা দেখতে পাই। শ্লোগান গুলোর ভিতরে অন্য তম কয়েকটি লেখা “শিক্ষার চেতনা, চেতনায় বিপ্লব, বিপ্লবে মুক্তি” “রক্তে আনো লাল, রাত্রির বৃন্ত থেকে ছিড়ে আনো ফুটন্ত সকাল” “শ্রমজীবি জনণের মাঝে একাত্ম হও” শিক্ষা আমার অধিকার এ অধিকার সবার চাই- বাংলাদেশ বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী। সত্যিই কত সুন্দর এই শ্লোগান গুলি। শ্লোগান গুলির উপর আসক্ত হয়ে আমি তখনকার সময়ে ছাত্র সংগঠন ছাত্র মৈত্রীর রাজনীতিতে অংশ গ্রহণ করি এবং আমরা ছাত্ররা এক নিষ্ঠভাবে কাজ করে কলারোয়াতে ছাত্র মৈত্রী একটি বড় সংগঠনের পরিণত করি।
এরপর ১৯৮৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য যাই। সেখানে যেয়ে দেখি চার দিকে শুধু মৈত্রী, মৈত্রী, ছাত্র মৈত্রী। সত্যি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ছাত্র মৈত্রী সহ অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের শ্লোগানেও মিছিলে ক্যাম্পাস মুখোরিত। বাদশা ভাই, লিকু ভাই এবং সালাহউদ্দীন বেবী ভাইদের সংগঠন সেই বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী ক্যাম্পাসে বিলুপ্ত হওয়ার পথে। সে অবস্থা এখন আর নাই। এর জন্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরবর্তী সময়ে ছাত্র নেতারা দায়ী। তাঁরা তাদের নীতি নৈতিকতা হারিয়ে ফেলছিল এবং দূর্নীতি গ্রস্থ হয়ে পড়েছিল।
মাদার বখস হলের ছাত্র মৈত্রীর দুইটি কর্মী সভায় বক্তব্য রাখার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। সেখানে আমি বলেছিলাম বাদশা ভাইয়ের হাতে গড়া সংগঠন মনে হচ্ছে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সত্যিই তাই হলো। আমি দেখেছি অনেক নেতাই ডাইনিং এ খাবার বিল দেয় না। দোকানে টাকা পরিশোধ করে না। সাধারণ ছেলেদের ভয় দেখিয়ে টাকা কেড়ে নেয়- সুতরাং এই সমস্ত নেতাদের দিয়ে কি আশা করা যায়? তারা কেহ কেহ এখন অনেক টাকা গাড়ি বাড়ির মালিক। তাদের দেখলে খুব কষ্ট হয় তারা কতটা অসহায় ছিল আমরা পাশে থেকেই সেটা দেখেছি। এখন তাদের কি পরিবর্তন? তারা কতটা খারাপ এখন বোঝা যায়। দেশের কল্যাণের জন্যে এস


