আহম্মেদ কাওসার (ইবু), পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ মানুষের জন্যেই মানুষ। মানুষের বিপদে-আপদে, সংকটকালে, বিপর্যয়ের সন্ধিক্ষণে মানুষই ছুটে এসে সাহায্য করবে, এই প্রত্যাশা আমরা করতেই পারি। নাহলে মানুষ হিসেবে আমাদের জন্ম অনেকটাই অপূর্ণ আর অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। মানুষের মানবিক প্রয়োজনে সাড়া দেবার ইচ্ছেটুকু না থাকলে নিজেকে একজন ‘মানুষ’ হিসেবে দাবি করার খুব একটা যৌক্তিকতা নেই। মানুষের মধ্যে অনেককেই আছেন যারা দূর্যোগ বা বিপর্যয়ের জন্য প্রস্তুত থাকেন। প্রয়োজনে তারা প্রশিক্ষণ নিয়ে রাখেন। জরুরী উপকরণ সংগ্রহের ব্যাপারেও তারা দক্ষ। কিন্তু বিপদগ্রস্থ মানুষকে সাহায্য করার জন্যে সব সময়ই প্রশিক্ষণ বা উপকরণের দরকার হয় না। প্রথম প্রয়োজনটি হলো নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করা। সেই সঙ্গে প্রয়োজন সৎসাহস ও শ্রম দেবার মানসিকতা। এধরণের মানুষও পৃথিবীতে বিরল নয়। বিশ্বের নানা দূর্যোগপূর্ণ অঞ্চল পীড়িত মানুষকে সেবাদান করতে ছুটে যায় অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবী। কিংবা যুদ্ধক্ষেত্রে আহতদের সেবা করতে নিজের জীবন বিপন্ন করছে, এমন মানুষের সংখ্যাও কম নয়। যারা অন্যের বিপদে সাহায্য করার জন্য ছুটে যায়, অন্যের সেবার ঝুঁকি নিয়ে থাকে, এমন সব কল্যাণকামী মানুষকে সন্মান জানাতেই ১৯ আগস্ট পালন করা হয় বিশ্ব মানবিক সাহায্য দিবস। একই সঙ্গে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে গিয়ে জীবনদানকারী মানুষদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এদিনটিকে চিহ্নিত করা হয়। মানবিক পর্যায়ে সাহায্য করার ধারণাটি প্রাচীন হলেও বিশ্ব মানবিক সাহায্য দিবসের ধারণাটির ইতিহাস বেশ আনকোরা। ২০০৩ সালে ইরাকের বাগদাদ জাতিসংঘের অফিসে বোমা হামলা হয়। এই বিধ্বংসী আঘাতে প্রাণ হারান ২২ জন বেসামরিক ও স্বেচ্ছাসেবী মানুষ। মানবতার সেবার নিয়োজিত এসব মানুষের করুণ পরিণতি ভাবিয়ে তোলে সবাইকে। বিশেষ করে জাতিসংঘের বিশ্বনেতাদের এমন পরিস্থিতিগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবতে হয়। বিষয়টি নিয়ে কয়েকদফা আলোচনা চলে জাতিসংঘে। পরে ২০০৮-এর ডিসেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বিশ্ব মানবিক সাহায্য দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানবিক সহযোগিতা ও সাহায্য করার জন্য প্রয়োজন অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবী। এসব কল্যাণকামী মানুষ তাৎক্ষণিক নানা কাজ তো করেনই, সেই সঙ্গে বিশ্ব মানবতার কল্যাণে তারা অনেক দীর্ঘমেয়াদি কাজেও অংশ নিয়ে চলছেন। বিশেষ করে প্রাকৃতিক দূর্যোগে সৃষ্ট সমস্যাগুলি ক্রমাগত বেড়েই চলছে। এসব ক্ষেত্রে বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হয় অসংখ্য মানুষের। সেখানে সরকারী কিংবা সমারিক বাহিনীর পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী মানুষ কাজ করতে নেমে যায়। যদিও প্রাকৃতিক দূর্যোগ বন্ধ করা সম্ভব নয়, কিন্তু কল্যাণকামী মানুষের সাহায্যে সেই দূর্যোগের ভয়াবহতা অনেকখানি কমিয়ে আনা যায়। অযৌক্তিক নদী-শাসন কিংবা পানি ও শব্দ দূষণের মতো সমস্যাগুলি মানুষের কারণেরই জটিল আকার ধারণ করে থাকে। সেখানেও স্বেচ্ছাসেবীরা সোচ্চার হয়ে ওঠেন। কোনো দূর্যোগের সময় মানুষ কিভাবে ঝুঁকিমুক্ত থাকতে পারে সেটা দেখিয়ে দেয়াও মানবিক সাহায্যে পর্যায়ে পরে। মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস অনেক বড় বড় সমস্যার সমাধান করে ফেলতে পারে। সময়ের আধুনিকতার সাথে সাথে নানা সমস্যাও প্রকট হয়ে উঠছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে এসব সমস্যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করতে হবে। প্রযুক্তি সাহায্য নিয়ে ছড়িয়ে দিতে হবে তথ্য, যেন সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সমস্যার ব্যাপারে সচেতন হয়ে উঠতে পারে। একজন মানবিক সাহায্যকারী এসব জায়গায় তার ভূমিকা পালন করে যেতে পারেন। সবারই সুযোগ আছে একজন স্বেচ্ছাসেবী মানবিক সাহায্যকারী হিসেবে আবির্ভূত হবার। আপনারও। আপনিও মানবিক সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারেন। মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন তার বিপদের কালে। হয়ে উঠতে পারেন একজন ‘মানুষের মতো মানুষ’।
মোহাম্মদ কাওসার
অধ্যাক্ষ
ধূমকেতু একাডেমিক স্কুল


